• ই-পেপার

মধুখালীতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মিঠুন গ্রেপ্তার ও আটক ১

তাড়াশে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
তাড়াশে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ট্রাকের ধাক্কায় আবু বক্কর (৫৮) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিমগাছী বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী। নিহত উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আরঙ্গাইল গ্রামের মৃত মইর আলী আকন্দের বড় ছেলে।

নিহতের বড় ছেলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার বাবা মাছের ব্যবসা করতেন। মাছ কেনার জন্য পার্শ্ববর্তী নিমগাছি বাজারে গেলে দ্রুতগতির সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কেউ কিছু বলেনি। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত জিতু মারা গেছেন

যশোর অফিস
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত জিতু মারা গেছেন
সংগৃহীত ছবি

যশোর শহরের বারান্দিপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত সন্ত্রাসী জিতু (৩৫) মারা গেছেন। বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

নিহতের ভাই অনিক ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারান্দিপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় জিতুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করার পর রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতুকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা রাত সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ পুনরায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে। স্বজন ও স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে গেছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে। হামলার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে।

বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

পুলিশ হেফাজতে ১ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) নামে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মন্ডলের বিরোধ চলছিল। তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাইরে হইচই শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া ঘর থেকে বের হন। তখন সাগরের জেঠাতো ভাই জেলহাসসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন।

একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন বলেন, ‘স্বামীকে বাঁচাতে আমি চিৎকার শুরু করলে তারা আমাকেও হুমকি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসময়ও তারা আমাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে সাগরকে উদ্ধার করা হলেও তার মৃত্যু হয়।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে খুব নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমার ছেলে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ‘রাতেই আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে সাগর মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিহত সাগরের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক আর নেই

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক আর নেই
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান কালের কণ্ঠকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এদিন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেন। প্রথমে তাকে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত মোহাম্মদ সাইফুল মালিকের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া সাইফুল মালিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

সর্বশেষ তিনি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি তার সহধর্মিণী, দুই সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘কর্মজীবনে সাইফুল মালেক একজন সৎ, বিনয়ী, মৃদুভাষী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন।’