• ই-পেপার

বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

সেনা সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ১৫০ পর্যটক

রাঙামাটি সংবাদদাতা
সেনা সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ১৫০ পর্যটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাঙামাটির সাজেক ছেড়েছে ১৫০ পর্যটক। সাজেকে দুদিন আটকা থাকার পর ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় দেড়শ পর্যটক ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিদের পরবর্তী সময়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, সাজেক সড়কে একাধিক স্থানে পানি উঠার কারণে পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। দুদিন আটকা থাকার পর আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে দেড়শ পর্যটক সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিদের আগামীকাল ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, মঙ্গলবার যারা সাজেকে এসেছিল, গতকাল(বুধবার) সকালে তারা খাগড়াছড়ি ফেরত যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে আপাতত যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকরা বের হতে পারেনি। তবে সেনাবাহিনী বিশেষ ব্যবস্থায় আজ(দুপুরে) দেড়শ পর্যটককে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু বর্তমান আবহাওয়াজনিত কারণে প্রশাসন থেকে সাজেকে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাই আপাতত কোনও পর্যটকের গাড়ি খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো পর্যটকরা সাজেক ভ্রমণ করতে পারবে।

সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির দাবি, সদস্যদের তাৎক্ষণিক অবস্থানের কারণে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের পুশইনের চেষ্টা সফল করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী-পুরুষসহ সাতজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, ‘কালাইরাগ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২০ থেকে ২৫ গজ বাংলাদেশের ভেতরে সাতজনকে এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির সদস্যরা তা প্রতিহত করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই সাতজন সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ : বাল্যবিয়ের ‘কারিগর’ কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ : বাল্যবিয়ের ‘কারিগর’ কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল
সংগৃহীত ছবি

বিধি বহির্ভূতভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব সই করা এক পত্রে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

এর আগে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘কুলাউড়ায় কাজির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (পরবর্তীতে সংশোধিত নাম মো. মঈন উদ্দিন চৌধুরী)-এর বিরুদ্ধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর ১৩ (ঙ) বিধি লঙ্ঘন করে নিজ অধিক্ষেত্রের বাইরে পার্শবর্তী কাদিপুর ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তা একই বিধিমালার বিধি ১১ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হওয়ায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব সই করা এক পত্রে কাজী মঈন উদ্দিনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাজী মঈন কোন জবাব দাখিল না করায় তার নামে ওই বিভাগ থেকে গত ০৩/০৮/২০০২ খ্রি. তারিখের বিচার ৭/২ এন ৩৯/৮৩-৮০৫ নং স্মারকে ইস্যুকৃত নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদ শূন্য, ঘোষণাপূর্বক শূন্য অধিক্ষেত্রে অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিনের জন্য পার্শ্ববর্তী কোন ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারকে বিধি মোতাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের জন্য এবং সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. মঈন উদ্দিনের কাছ থেকে বালাম বহিসহ নিকাহ রেজিস্ট্রিসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজাদি সংগ্রহ করার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার, মৌলভীবাজারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে শোকজ করা হলে তিনি শোকজের জবাব না দেওয়ার কারণে তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। 

ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা লোডশেডিংয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

ঝালকাঠি শহরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। পাশে বসে তার বাবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। গত দুই মাস ধরে দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ গ্রাহকরাও তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। তবে এতে কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। উৎপাদন কমে যাচ্ছে কলকারখানায়। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ছোট জেলা শহরটি প্রায় অন্ধকারে ডুবে যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “দিন ও রাতে মিলিয়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।”

নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। ঘুমের মধ্যেও বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম ভেঙে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।”

নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুব সমস্যায় পড়ছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৬ মেগাওয়াট। বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান | কালের কণ্ঠ