একসময় ভূমি অফিস মানেই ছিল দীর্ঘসূত্রতা, দালালের দৌরাত্ম্য আর বাড়তি টাকার গল্প। সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। গত বছরের ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুরে যোগদান করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ভূমি সেবাকে জনবান্ধব করে তুলেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি লক্ষণখলসী, সিংগাহাট ও উজানখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার নির্দেশে প্রতিটি অফিসে সেবা ফ্রি ও ধাপের তালিকা টাঙানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিংয়ে।
তিনি প্রতি মাসে তিনটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কেউ অতিরিক্ত টাকা চাচ্ছে কিনা তা নিজে যাচাই করেন। এর ফলেই এখন দুর্গাপুরের সব ভূমি অফিস দালাল ও ঘুষমুক্ত বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
সিংগাহাট ইউনিয়নে নামজারি করতে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগে একটা কাজের জন্য ৪-৫ বার আসতে হতো। এখন একবারেই হয়ে যায়। ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের খোঁজ নেন। বাড়তি টাকার কথা কেউ বলতেও সাহস পায় না। লক্ষণখলসী ইউনিয়নের মো. রহিদ ইসলাম, আব্দুল হালিম, শফিকুল ও জহুরুল ইসলাম বলেন, একজন নারী কর্মকর্তা যে সাহস নিয়ে কাজ করছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অফিসের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।
সবাই এখন সময় মতো অফিস করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, লায়লা নূর তানজুর কঠোর অবস্থানের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহিতা বেড়েছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশন (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, ভূমি সেবা মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। আমি চাই প্রত্যেক নাগরিক যেন হয়রানি ছাড়া সেবা পান। অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এই ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলবে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান বলেন, মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। লক্ষ্য একটাই - জনগণকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দালাল মুক্ত সেবা দেওয়া। ভূমি ব্যবস্থাপনায় এই স্বচ্ছতার কারণে দুর্গাপুরকে এখন জেলার অন্যান্য উপজেলার জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।




