• ই-পেপার

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গাজীপুর

বিয়েবাড়িতে মদ্যপানে প্রাণ গেল দুই যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বিয়েবাড়িতে মদ্যপানে প্রাণ গেল দুই যুবকের
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুরে একটি বিয়ে বাড়িতে উৎসব চরাকালে মিথিনলযুক্ত অ্যালকোহল (মদ) পান করে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন সজিব (২২) ও রনি মিয়া (২০)। সজিব ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার জুনিয়ার বাজার এলাকার আব্দুল রাজ্জাক ওরফে রেজাকের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় মফিজ উদ্দিনের বাসায় ভাড়া থেকে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। আর রনি মিয়া একই জেলার মোস্তফা ইসলামের ছেলে এবং বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার তোবারক মোল্লার বাসায় ভাড়া থেকে আশুলিয়া পলিটেকনিক্যালে পড়াশোনা করতেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ জুলাই রাতে কাদের মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া রমজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে সজিব ও রনি মিয়া মিথিনর মিশ্রিত অ্যালকোহল পান করেন। পরদিন সকাল থেকে তারা অসুস্থ অনুভব করলে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খান। উন্নতি না হলে তাদের স্থানীয় কোনাবাড়ী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৪টায় সজিব এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় রনি মিয়া মারা যান।

মৃত রনি মিয়ার নানি রেজিয়া খাতুন বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি করে নাতিকে পড়াশোনা করাচ্ছি। সে ভদ্র ছিল। কোনো দিন নেশা করেনি। ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

গাজীপুর কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, শুনেছি মদ্যপান করে তারা মারা গেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 

লক্ষ্মীপুর

সড়ক সংস্কারে ‘রাবিশ’, অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
সড়ক সংস্কারে ‘রাবিশ’, অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সড়ক সংস্কারের কাজে খোয়ার পরিবর্তে ‘রাবিশ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি পৌরসভার মজুপুর এলাকার সড়কে। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার একটি সড়কের সংস্কার কাজে খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ (পুরনো সড়ক বা ভবনের ভাঙা টুকরো) দিয়ে মেকাডম (চূর্ণ পাথরের স্তর) প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন নির্মীয়মাণ সড়কে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। একইসঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী খোয়া ব্যবহারেরও নির্দেশ দেন তিনি। 

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক ও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়ক সংস্কারের কাজ নিয়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাত কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজটি করাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস মোস্তফা অ্যান্ড সন্স।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ চলমান থাকলেও চৌধুরী বাড়ি সড়কে ড্রেন হচ্ছে না। অথচ সড়ক সংস্কারের চেয়ে ড্রেন বেশি জরুরি। তাদের আশঙ্কা, সড়কটির নির্মাণকাজ শেষে দুই পাশের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় আটকা পড়বে। এ ছাড়া সড়কের কাজও নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে না। ১২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ১০-৯ ফুটে নেমে গেছে। 

স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, সড়কটির কাজে খোয়া একেবারেই কম, বালুর পরিমাণ বেশি। রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

সড়ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান ও মমিনসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি এনে খোয়ার সঙ্গে মেশানো হয়েছে। পুরো সড়কে খোয়ার চেয়ে ‘রাবিশ’ বেশি। রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে না। শুরু থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তদারকি ছিল না। এজন্যই ঠিকাদার অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। 

এ ছাড়া ডিবি রোডেও ঠিকাদার একইভাবে অনিয়ম করে কাজ করেছেন। ড্রেন নির্মাণ কাজেও অনিয়ম করেছেন ঠিকাদার। পৌর কর্তৃপক্ষ তদারকি করলেও ঠিকাদার অনিয়মের সুযোগ পেত না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার ফিরোজ আলম বলেন, ‘সাব বেইজ আগে করেছি। সেখানে খোয়ার পরিমাণ কি তা আমার জানা নেই। কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। মানুষের বাসাবাড়ি বা দেওয়াল ভাঙা আমাদের কাজ নয়। সড়ক চওড়া করার উদ্দেশ্যে জনগণকে বলেন দেওয়াল ভেঙে দিতে, আমি শ্রমিক দেব।’

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। কাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও ঠিকাদার কথা শোনেননি। 

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, ঘটনাস্থল গিয়ে কাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খুলনায় স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা : মায়ের পর এবার বাবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

খুলনা অফিস
খুলনায় স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা : মায়ের পর এবার বাবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
সংগৃহীত ছবি

খুলনার আলোচিত স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৭) হত্যা মামলায় মায়ের পর এবার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুর জামানের আদালতে আলীম হোসেন আকাশ (৪০) নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে র‌্যাব-৬ স্পেশাল কম্পানি ও কেএমপির সদর থানার যৌথ অভিযানে আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাতে খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী নির্জনাকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন নিরালা-সংলগ্ন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার নারী উপপরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, আলামত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিহতের বাবা আলীম হোসেন আকাশের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ।

এর আগে গত ১০ জুলাই নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তিনিও একই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্জনাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সন্দ্বীপে ট্রলার থেকে সাগরে পড়া ২ যাত্রীকে উদ্ধার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সন্দ্বীপে ট্রলার থেকে সাগরে পড়া ২ যাত্রীকে উদ্ধার
রবিবার সকালে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে একটি ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে যাওয়া ২ যাত্রীকে রশি দিয়ে টেনে উদ্ধার করা হয়।

৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যে রবিবার সকালে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ রুটে যাত্রীবাহী একটি কাঠের ট্রলার থেকে দুই যাত্রী সাগরে পড়ে যান। ট্রলারকর্মী ও যাত্রীদের যৌথ প্রচেষ্টায় রশি দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। ভাগ্যক্রমে দুজনই প্রাণে বেঁচে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি সকাল ৯ টায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিও ও যাত্রী আমজাদ হোসেনের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ট্রলারে কোনো যাত্রীকেই লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে যাত্রীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ায়ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুমিরা ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত এজেন্ট জগলুল হোসেন নয়নের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ | কালের কণ্ঠ