লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণকাজ শুরু না করেই ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকার বিল উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে। উপজেলার চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় কমলনগর উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য পাঁচটি প্যাকেজে মোট ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত একটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল ব্রাদার্স। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্মাণকাজই শুরু হয়নি বলে অভিযোগ।
শনিবার সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে কিছু ভাঙা ইটের খোয়া পড়ে আছে। মাঠে দুই ট্রাক তিন নম্বর ইটের কণা রাখা থাকলেও নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘৩০ জুনের আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক টাকারও কাজ হয়নি। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।’
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল দাবি করেন, ‘কাজ করার জন্য তিনবার বিদ্যালয়ে গিয়েছি। কিন্তু স্কুলে খেলাধুলার অজুহাতে প্রধান শিক্ষক কাজ করতে দেননি। কাজ না করেই বিল নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। উপজেলা প্রকৌশলী হয়তো ‘প্রি-অর্ডার’ করে টাকা সংরক্ষণ করে রেখেছেন।’
কমলনগর এলজিইডি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী প্রি-অর্ডার বলতে কোনো সিস্টেম নেই। প্রি-অর্ডার মানে হলো দুর্নীতি করা। কাগজ-কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে ওই টাকা উপজেলা প্রকৌশলীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এনে রেখেছেন। পরে সময়মতো নামেমাত্র কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করাই হলো প্রি-অর্ডার করা।’
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি, এটি সত্য। আমরা প্রি-অর্ডার করে টাকা রেখে দিয়েছি। কাজ সম্পন্ন হলে বিল দেওয়া হবে।’
এলজিইডির লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন কাজ শেষ হয়নি, তা তদন্ত করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



