বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশোধ নিতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। দেশে থেকে অভিযোগ মোকাবেলা করার সৎ সাহস থাকলে তিনি বা তার দলের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন না।’
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে কথা বলেছেন, তা আত্মগোপনে থাকা তার নির্লিপ্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। ডিসেম্বরে কেন, জনগণ চায় তিনি আজই দেশে ফিরে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করুন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অভিযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের বিশাল আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে যে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণ আর বরদাশত করবে না। এই অবস্থায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র, গুজব ও উসকানি সম্পর্কে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। জনগণের পাশে থেকে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এমরান সালেহ প্রিন্স আরো বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি ও সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এসব অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




