• ই-পেপার

ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল স্বামী

৮ দিন পর সন্দ্বীপে নৌ চলাচল শুরু, স্বস্তিতে যাত্রীরা

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৮ দিন পর সন্দ্বীপে নৌ চলাচল শুরু, স্বস্তিতে যাত্রীরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাব কাটিয়ে দীর্ঘ আট দিন পর সন্দ্বীপের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটের ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়। 

নৌযান চলাচল শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ৩ জুলাই থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট এবং বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জরুরি রোগী, প্রবাসী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় দ্বীপে পণ্য সরবরাহ, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছিল পুরো সন্দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ফেরি ও স্পিডবোট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে চলাচলকারী ফেরি 'কপোতাক্ষ'-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর ফেরি পারাপার শুরু হয়েছে। 

কুমিরা স্পিডবোট সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'আদিল এন্টারপ্রাইজ' সূত্রে জানা গেছে, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করায় এবং চ্যানেলের অবস্থা ভালো থাকায় দুপুর ২টা থেকে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে। 
 

আগামীকাল সুন্দরবনে যাচ্ছে বাঘিনী

অনলাইন ডেস্ক
আগামীকাল সুন্দরবনে যাচ্ছে বাঘিনী
সংগৃহীত ছবি

অবশেষে নিজের প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে ফিরছে আহত একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী)। দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর আগামীকাল রবিবার (১২ জুলাই) সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে বন বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টানা ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঘিনীটি এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে এবং শিকারের উপযোগী সক্ষমতাও ফিরে পেয়েছে। তাই তাকে আবার তার নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবমুক্তির পর বাঘিনীটির নিরাপত্তা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে আন্ধারমানিক এলাকার প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় আপাতত এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমেই তার চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে বন বিভাগ।

তবে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বনের বাইরে থাকার কারণে বাঘিনীটি তার আগের বিচরণক্ষেত্র ফিরে পাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনে তাকে নতুন এলাকা খুঁজে নিতে হতে পারে, যদিও বন বিভাগ আশাবাদী—সুস্থ হয়ে ওঠা বাঘিনীটি সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।

নাটোরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটিরপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে ফাতেমা খাতুন (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর পৌনে একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ফাতেমা খাতুন কুটিরপাড়া এলাকার মো. ফিরোজ হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বাড়ির পাশে খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায় ফাতেমা। কিছুক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নলডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, মৃত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
 

মেয়েকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিলেন মা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
মেয়েকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিলেন মা
সংগৃহীত ছবি

ঝালকাঠির নলছিটিতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন এক মা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকা থেকে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন নদীতে নেমে উদ্ধার মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এতে মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ হয়।

লাকি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীর সঙ্গে কলহ লেগে থাকত। কিছুদিন আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেন তিনি। পরে তার মেয়েকে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন স্বামী। এ কারণে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, কী কারণে লাকি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি নিজেই এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।