• ই-পেপার

ঈদের দিনে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন কবিরাজ!

সিরাজগঞ্জে ব্রিজের নিচ থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে ব্রিজের নিচ থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের চন্ডিদাসগাতি ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, চন্ডিদাসগাতি ব্রিজের নিচের পানিতে এক বৃদ্ধের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আরো পড়ুন
ভাবমূর্তি রক্ষায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চান নেতানিয়াহু

ভাবমূর্তি রক্ষায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চান নেতানিয়াহু

 

তিনি আরো জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পিরোজপুরে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় আহত দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আফসানার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

গুরুতর আহত আফসানা ও তার স্বামী মো. আলী আকবর বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজাবাড়ী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে অনিকসহ প্রতিবেশী কয়েকজন আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। এসময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আফসানাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আফসানার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় তাদের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

পরিবারের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, আফসানার গর্ভের সন্তান আর বেঁচে নেই। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি।

হামলার কারণেই মেয়ের গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, তার জামাতা আলী আকবর বর্তমানে কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও আফসানার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনিক জানান, তিনি কাউকে মারধর করেননি। তার দাবি, উল্টো তার বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে। একইভাবে আফসানা ও আলী আকবরকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চান মিয়া ও রওসোনারা।

নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ‘এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তখন গর্ভপাতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। চিকিৎসকের সনদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের দেওয়া ডায়েরি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

আ. লীগ নেতা ও শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুরের জানাজায় মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগ নেতা ও শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুরের জানাজায় মানুষের ঢল

আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমান ও তার বোনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় মাধখলা এলাকায় নিজ বাসভবনের পাশের ইংলিশ এডুকেয়ার মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের মানুষের ঢল নামে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ ছাড়া বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

জানাজা শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান উপস্থিত মুসল্লিরা।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

 

উল্লেখ্য, আনিছুর রহমান (৬৫) গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিত তিনি হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতেন। গতকালও ডায়ালাইসিস করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বিকেল চারটার দিকে মারা যান তিনি। পরে তার মৃত্যুর খবর শুনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ছোট বোন রাশিদা খাতুন (৬২)। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলে তিনিও মারা যান। 

নড়াইল

২৮০ প্রাথমিক চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত সংকট সমাধানের দাবি

নড়াইল সংবাদদাতা
২৮০ প্রাথমিক চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে
নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নে অবস্থিত ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

প্রতিষ্ঠানটির নাম ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে। ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। 

শুধু ডিএসবি প্রাথমিক নয়, নড়াইলে অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। জেলার ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮০টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক। এতে একদিকে বাড়ছে দাপ্তরিক চাপ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশেই বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের অনেক পদও শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। 

ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মাহমুদা পারভীন। তিনি বলেন, 'আমি যেহেতু প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছি। অনেক সময় অফিসের কাজে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়।'

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খানম বলেন, 'সহকারী শিক্ষক যেহেতু প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। শিক্ষক সংখ্যা ও তুলনামূলক কম।ফলে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।’

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপা সিকদার জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের হলেও বেতন পাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকের স্কেল অনুযায়ী। প্রধান শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাও পান না তারা। 

দীর্ঘ আট বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে ও বেতন ও পদমর্যাদাগত সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে জানান কৃপা। তার ভাষ্য, 'দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের, কিন্তু সুবিধা সহকারী শিক্ষকের। বছরের পর বছর এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।'

শিক্ষকদের ভাষ্য, একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে পাঠানো, সভা-সমন্বয় ও অফিস ব্যবস্থাপনার কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে শিক্ষক সংকট রয়েছে- এমন বিদ্যালয়ে এ সমস্যা আরো বেশি। 

অভিভাবকেরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের একাডেমি ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপর পড়ে বাড়তি চাপ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হচ্ছে, সেটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে শূন্য পদের বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য পড়ে আছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

ঈদের দিনে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন কবিরাজ! | কালের কণ্ঠ