ফেনীতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ও সন্ধ্যায় সোনাগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মহাদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৫) এবং পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে সাইমন মজুমদার (২৫)।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মহাদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রুমা আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুল হক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরো পড়ুন
‘বড় ভাড়া ধরে আসি’ বলে বেরিয়েছিলেন মহাসিন, দুই দিন পর মিলল মরদেহ
অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানের আলোকসজ্জার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাইমন মজুমদার।
স্থানীয়রা জানান, বিয়ের ডেকোরেশন ও লাইটিংয়ের সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যান তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাইমন পরশুরাম বাজারের কলেজ রোড এলাকার ‘সায়মন্ড ইভেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং তার এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
আরো পড়ুন
পটুয়াখালীতে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
স্বজন ও স্থানীয়রা ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন জানিয়ে হাসপাতালে জড়ো হন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময় স্বজন ও স্থানীয়দের বাধার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।