kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

জলাবদ্ধতায় নাকাল মানিকগঞ্জ পৌরবাসী

বহুতল ভবনে বাস, তবু বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০৯:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বহুতল ভবনে বাস, তবু বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

বন্যার পানি নেমে গেলেও জলাবদ্ধার সুষ্টি হয়েছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওযার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায়। অপরিকল্পিত ভাবে বাড়িঘর নির্মাণই এই জলাবদ্ধতার কারণ। জলাবদ্ধতার শিকার সহস্রাধিক পরিবার রয়েছে চরম দুর্ভোগে। বহুতল ভবনে বসবাস করলেও বাড়ি থেকে বের হতে এক বাঁশের সেতুই ভরসা। নয়তো ভাঙতে হবে হাঁটু বা কোমর পর্যন্ত নোংরা পানি। পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকা এখন বিষাক্ত। 

১৯৯৮ সালের পর এবারের বন্যায় সর্বোচ্চ উচ্চতায় মানিকগঞ্জ পৌর এলাকা প্রাবিত হয়েছে। এই কয়েক বছরে পৌর এলকায় গড়ে উঠেছে গায়ে গাঘেঁষা অনেক বাড়িঘর। এর বেশির ভাগই বহুতল ভবন। মানিকগঞ্জ শহর এমনিতেই নিচু এলাকা। কিন্তু মালিকরা নিরাপদ উচ্চতায় বাড়ি নির্মাণ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রতি নজর দেননি। পৌরসভা থেকেও রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিটি বাড়িঘর ঘিরে নিচু খালি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডোবা। এবারের বন্যায় বড়বড় রাস্তা উপচে পানি ঢুকে পড়েছে ওই সমস্ত ডোবায়। পানি নিষ্কাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এখন পানি কমে গেলেও রাস্তা টপকে ডোবার পানি বের হতে পারছে না। 

সবচাইতে দুর্ভোগে আছে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া মৌজা। এটাই পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় মৌজা। উত্তরদিকে গার্লস স্কুল সড়ক, পশ্চিমে বেওথা সড়ক, দক্ষিণে রমজান আলী সড়ক এবং পূর্বে বাজার সড়ক ঘিরে রেখেছে এই এলাকাটি। এবারের বন্যায় রমজান আলী সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এই এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। প্রতিটি বাড়িঘর পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে এক বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। কেউ কেউ ছোট নৌকা কিম্বা কলাগাছের ভেলা বানিয়ে নেয়। এই এলাকায় গেলে দেখা যাবে এমন অসংখ্য সাঁকো। ভবনের সামনে নৌকা কিম্বা ভেলা।

এ ব্যাপারে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার সুভাষ সরকার বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি তার জানা আছে। এর মধ্যে মেয়রের সাথেও কথা হয়েছে। প্রয়োজনে পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে যেন জলাবদ্ধার সৃষ্টি না হয় সে ব্যপারে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা