• ই-পেপার

নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী

গুরুদাসপুরে আ. লীগ নেতা সবুজ ফকির গ্রেপ্তার

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
গুরুদাসপুরে আ. লীগ নেতা সবুজ ফকির গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের গুরুদাসপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সুবজ ফকিরকে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া এলাকায় নিজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

 গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আক্কাস ফকিরের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম সুবজ ফকিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে তাকে গুরুদাসপুর থানায় নেওয়া হয়।

এদিকে, সোমবার দুপুরে আদালতে প্রেরণের সময় তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন থানায়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

লৌহজং

অবৈধভাবে বালু তুলছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, প্রশাসন নীরব

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
অবৈধভাবে বালু তুলছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, প্রশাসন নীরব
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কলিমাজানি এলাকায় নির্মীয়মাণ সেতুর পাশেই লৌহজং নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে। -কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে রুবেল মিয়া নামের এক স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু তুললেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

অভিযুক্ত রুবেল মিয়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানেজ মিয়ার ছেলে ও একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার কলিমাজানি এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছেন রুবেল মিয়া। এতে ওই এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। 

এদিকে, অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে পড়েছে নদীপারের বাসিন্দারা। নদীভাঙন ছাড়াও বালু তোলার কারণে নির্মীয়মাণ কলিমাজানি সেতুটি ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। প্রভাবশালী হওয়ায় রুবেলের বিরুদ্ধে ভয়ে প্রকাশ্যে  প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না কেউ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনকে নীরব ভূমিকা পালন করছে। 

কলিমাজানি গ্রামের মেহেদী শিকদারের মেয়ে রোজিনা আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের বাড়ির উত্তরপাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে আমার ভাইয়ের বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রুবেল মিয়ার নানার বাড়ি উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামে। ওই গ্রামের একাব্বর হোসেন টানা চারবার এমপি ছিলেন। তাদের প্রভাবে প্রতিবছর নদী থেকে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে লাখ লাখ টাকার কারবার করছেন রুবেল ও তার ভাই। এখনো একই অবস্থা চলছে তাদের। 

কলিমাজানি গ্রামের রবিউল মিয়া জানান, তিনি তার বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণপাশে ভড়াট করেছেন। এতে ড্রেজার মালিককে প্রায় দুই লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার ড্রেজার দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ মিয়া মাটি তুলছেন। মসজিদ নির্মাণ করা হবে বলে জমি ভরাট ও কবরস্থানের জায়গা ভরাট করা হবে।’ কলিমাজানি গ্রামের রবিউল ও জসিমের বাড়ি বালু দিয়ে কে ভরাট করেছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আমরাই করেছি’। একপর্যায়ে রুবেল বলেন, ‘ভাই, আমরা নিজেরাই তো। কী দরকার আছে, কিছু লিখবেন না’।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রেজা বলেন, ‘কলিমাজানি এলাকার লৌহজং নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অন্তত তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অপারেশন ডেভিল হান্ট চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। তিনি পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল এতে আপত্তি জানান। ক্ষমতার এমন দ্বন্দ্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা ও বিরোধ বিরাজ করছিল।

আরো পড়ুন
এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা, জানবেন যেভাবে

এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা, জানবেন যেভাবে

 

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (৮ জুন) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাজমুল হক জানান, চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যকার পূর্ব বিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

ওসি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫টি সাউথ গ্রেনেড ও ৩টি টিআরশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 

রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতাকালে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, লুণ্ঠিত অর্থের একটি অংশ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্ম থেকে ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন লরির চালক ও কর্মচারীরা। দুধ আনলোড শেষে সেন্টারের বিক্রয় করা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে তারা পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।’

তিনি আরো জানান, এ সময় পথের বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় আমচত্বর-বেলপুকুর মহাসড়কে পৌঁছালে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে থাকা তিন দুষ্কৃতকারী লরির গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লরিতে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়।

পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হলে আরএমপি ডিবির ডিসি মো. মনিরুল ইসলাম ও এডিসি মো. হাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দস্যুতার মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলনকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দস্যুতার ঘটনায় লুণ্ঠিত ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়েছে।

নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী | কালের কণ্ঠ