kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

শাহজাদপুরে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শাহজাদপুরে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। আর সে মাটি যাচ্ছে প্রায় ১৮টি ইটভাটায়। দুই ও তিন ফসলি কৃষি জমির উর্ব্বর মাটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে ইটভাটার মালিকদের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ।

এদিকে এটি বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছেন ইটভাটার অনুমতি বা লাইসেন্স প্রদান করে স্বস্ব এলাকার জেলা প্রশাসক । আর জেলা প্রশাসক বলছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি দেখবে। পরিবেশ অধিদপ্তর আর জেলা প্রশাসকের কানামাছি খেলার কারণে ইটভাটার মালিকরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে উর্বর কৃষিজমিতে কোদালের কোপ চালাতে দ্বিধা করছেনা তারা। তাই প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে। সেই সাথে গভীর খাদে পরিণত হচ্ছে ফসলি জমি।

জানা গেছে, গ্রামীণ রাস্তা থেকে শুরু করে ঘরবাড়িসহ নানা ধরনের নির্মাণকাজে ইটের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় শাহজাদপুর ও আশপাশের উপজেলায় ইটের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এজন্য ইটভাটার মাটির যোগান মেটাতে ভাটার মালিকদের সাথে যুক্ত হয়েছেন মাটি কেনা-বেচার শক্তিশালী একটি চক্র। পুকুর খননের অজুহাত তুলে এ চক্রটি টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষি জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে তা ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা কৃষি অফিসের কাছ থেকে ভূমির শ্রেণি যাচাই বাছাইয়ের পর লিখিত অনুমতি পেলেই একজন জমির মালিক তার জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সে জমি থেকে মাটি বিক্রি বা পুকুর করতে পারবেন। কিন্তু কোনোপ্রকার নিয়ম নীতি না মেনে দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি থেকে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করায় শাহজাদপুরে বিরান হচ্ছে কৃষি জমি। এ চক্রটি নদীর মাটিও ইটভাটায় সরবরাহ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাড়াদহ ও কায়েমপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে গাড়াদহ ইউনিয়নেই রয়েছে ১২টি । সূত্র জানায়, গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর ব্লকে ৭টি ইটভাটা রয়েছে। গাড়াদহ ব্লকে রয়েছে ২টি ও টেপরি ব্লকে রয়েছে ৩টি ইটভাটা। এছাড়া কায়েমপুর ইউনিয়নের শিমুলতলি ব্লকে রয়েছে ২টি ও কায়েমপুর ব্লকে রয়েছে ৪টি ইটভাটা । খবর নিয়ে জানা গেছে ইটভাটার মালিকদের কেউ কেউ আবার জনপ্রতিনিধি।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা জানান ইটভাটা তৈরীর পূর্বে স্থানীয় কৃষি অফিস ও ভূমি অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয় । তা পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিলে পরিবেশ অধিদপ্তর যাচাই বাচাই শেষে জেলা প্রশাসনের কাছে মতামত পাঠানোর পর জেলা প্রশাসন তা যাচাই বাছাইর পর জেলা প্রশাসন উপযুক্ত স্থানে ইটভাটা তৈরীর অনুমতি দিয়ে থাকেন ।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান , পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তবেই ইটভাটা তৈরীর অনুমতি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় (বগুড়া) উপ পরিচালক আকতারুজ্জামান টুকুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ইটভাটার লাইসেন্স স্বস্ব এলাকার জেলা প্রশাসক মহাদয় দিয়ে থাকেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ কেউ পরিবেশ বিনষ্ট করছে কিনা সেটি দেখার। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানান রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার মাত্র তিনটি ইটভাটাকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া আছে । অন্য ভাটাগুলো ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে।

এদিকে শাহজাদপুরে ১৮টি ইটভাটা মধ্যে প্রায় সবগুলো ইটভাটা আবাসিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খুব কাছাকাছি। ভাটার নির্গত ধোঁয়া ও মাটি বোঝাই ট্রাকগুলোর কালো ধোঁয়া, এর সাথে বাতাসে ধূলিকণা মিশে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষণ করছে। অপর দিকে নির্বিচারে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় জমিগুলো গভীর গর্তে পরিণত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার কায়েমপুর, গাড়াদহ, পোতাজিয়া ইউনিয়ন সহ প্রায় সবগুলো ইউনিয়ন থেকেই উর্বর কৃষি জমি থেকে ব্যাপকভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুস সালাম সাফ জানিয়ে দেন, তার হাতে কোন ক্ষমতা নেই কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করা । তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তৎপর না হলে খুব শিগগির এ উপজেলার শতশত বিঘা কৃষি জমি হারিয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা