• ই-পেপার

২ দিন ধরে নিখোঁজ পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুহুল

এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) এবং আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা ও আসনবিন্যাস প্রকাশ করেছে। পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রের কোড, কেন্দ্রের নাম, ভেন্যু এবং আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ শিক্ষার্থীদের ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই তালিকায় ঢাকা জেলা ও মহানগরের অন্তর্গত বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র যেমন— ঢাকা (মূল কেন্দ্র), মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা-১ (আমুলিয়া), ডেমরা-২ (দারুন্নাজাত), উত্তরা, সাভার ও ধামরাইসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মাদরাসাগুলোকে সুনির্দিষ্ট কোড নম্বরসহ পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার আলিম পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম ও কোড তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ পরিচালনার জন্য একটি বিস্তারিত আসনবিন্যাস ও বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের সংশোধিত ও প্রতিস্থাপিত চিঠিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে কেন্দ্র ফির টাকা গ্রহণ করবেন। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অলিখিত উত্তরপত্রসহ অন্যান্য গোপনীয় কাগজপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবেন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা সদরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরীক্ষাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নীতিমালার কথা উল্লেখ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ডাকযোগে ওএমআরের প্রথম অংশ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কম্পিউটার কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরপত্রসমূহ পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা মোতাবেক সরাসরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভেন্যুকেন্দ্রসমূহ মূল কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় টাকা ও কাগজপত্র গ্রহণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করবে এবং পরীক্ষা শেষে যাবতীয় নথিপত্র মূল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেবে। নির্বাচিত কলেজের অধ্যক্ষ বা সিনিয়র কোনো অধ্যাপক এই পরীক্ষার কেন্দ্র প্রধান বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র তালিকায় এবার বেশ কিছু নতুন কেন্দ্র যুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা অঞ্চলের ‘ঢাকা উইমেন্স কলেজ’ এবং খিলক্ষেতের ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। এ ছাড়া রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও আসনবিন্যাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এইচএসসি

প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, আসন নিশ্চিতসহ কেন্দ্রসচিবদের ৩৫ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, আসন নিশ্চিতসহ কেন্দ্রসচিবদের ৩৫ নির্দেশনা

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, আকার অনুযায়ী কোনো বেঞ্চে কত শিক্ষার্থীর আসন, কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর সব কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় যা যা বলা হয়েছে—
১. নিয়মিত (সেশন ২০২৪-২৫) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

২. অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন ২০২৩-২৪ ও তৎপূর্বের) পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

৩. পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় ও বেলা ২টায় পরীক্ষা শুরু হবে।

৪. পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে বা থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই–সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।

৫. প্রশ্নপত্রের ২ সেট করে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) সেট, পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে নিরাপত্তা (সিকিউরিটি) খামে প্যাকেট করতে হবে।

৬. প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সাজিয়ে নিরাপত্তা খামে গাম লাগিয়ে এবং কার্টন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে।

৭. ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের নিকট থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের খাম (সৃজনশীল ২ সেট ও বহুনির্বাচনি ১ সেট) গ্রহণ করতে হবে।

৮. অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার  এবং পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (সিকিউরিটি খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।

৯. মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে ফয়েল প্যাকেটে অমোচনীয় কলম দিয়ে স্বাক্ষর করার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকবন্দী করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০. কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

১১. প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন।

১২. ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

১৩. সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে এবং পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।

১৪. পরীক্ষা শুরুর পূর্বে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হবে।

১৫. বোর্ড থেকে সরবরাহ করা নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।

১৬. ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁর কেন্দ্রের আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।

১৭. পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

১৮. ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করা যাবে না।

১৯. শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

২০. পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।

২১. পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লিখে দিতে হবে।

২২. নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালা করা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।

২৩. পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

২৪. পুরোনো ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরোনো সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।

২৫. উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন।

২৬. প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের লিখিত উত্তরপত্র পৃথকভাবে প্যাকেট করে লেবেল লাগিয়ে ‘বিশেষ পরীক্ষার্থী’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।

২৭. পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

২৮. পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে, তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই, সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

২৯. পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

৩০. পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের শৌচাগারগুলো তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে।

৩১. পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

৩২. ট্রেজারি/থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী/ট্যাগ অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর বোর্ডে পাঠাতে হবে।

৩৩. সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হবে।

৩৪. পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত খড়ি ব্যতীত অন্য কোনো ঘড়ি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

৩৫. যেসব কেন্দ্র থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে উত্তরপত্র প্রেরণ করা হয়, সেসব কেন্দ্র থেকে অবশ্যই প্রতিদিনের উত্তরপত্র প্রতিদিন রেলযোগে পাঠাতে হবে। যদি রেলযোগে পাঠানো না যায়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।

জকসুর উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ দেখার আয়োজন

জবি প্রতিনিধি
জকসুর উদ্যোগে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ দেখার আয়োজন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ দেখার আয়োজন করেছে জকসু। ছবি : কালের কণ্ঠ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নানা আয়োজন হাতে নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। এই আয়োজনের প্রধান স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করছে X Force Group।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগের জন্য ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক উৎসবের অংশ হতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, বিনোদন ও ফুটবলপ্রেমকে আরও উজ্জীবিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ।

এ বিষয়ে জকসুর ক্রিড়া সম্পাদক মোঃ জর্জিস আনোয়ার নাইম বলেন, “জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ প্রদর্শনের বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি X Force Group-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘তাদের সহযোগিতার কারণেই আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আয়োজন করতে পেরেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলে এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকলে স্ক্রিনের আকার আরও বড় করা হবে।’

এ সময় তিনি জকসুর সকল নেতৃবৃন্দকেও ধন্যবাদ জানান এবং আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ চলাকালে এই আয়োজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে এবং ক্যাম্পাসে ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় রূপ নেবে।

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সফল ক্যারিয়ার গঠনের কার্যকর পথ

আধুনিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়

মো: আবদুল হান্নান
আধুনিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি, বিশ্বায়ন এবং কর্মক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আধুনিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী নৈতিক ভিত্তি। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা সমানভাবে প্রযোজ্য। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। তবে বর্তমান যুগের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জন তাদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভাষাজ্ঞান বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। বাংলা ও আরবির পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইংরেজি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। একজন শিক্ষার্থী যদি ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষ হন, তাহলে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

প্রযুক্তি শিক্ষা বর্তমান যুগের অপরিহার্য অংশ। কম্পিউটার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান এখন প্রায় সব পেশাতেই প্রয়োজন। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যদি প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে তারা শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবেও সফল হতে পারবেন।

একই সঙ্গে আধুনিক দক্ষতা যেমন যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা একজন শিক্ষার্থীকে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। এসব দক্ষতা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তবে আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায় না। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং পরোপকারিতা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী যদি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে এসব মূল্যবোধ ধারণ করেন, তাহলে তিনি শুধু একজন সফল পেশাজীবীই নন, বরং একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।

বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিধি অনেক বিস্তৃত। শিক্ষকতা, গবেষণা, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি, অনুবাদ, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সফল হতে হলে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য।

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সফল ক্যারিয়ার গঠনের সবচেয়ে কার্যকর পথ। এই সমন্বিত প্রস্তুতি তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং যুগোপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, যা ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

লেখক : সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।