• ই-পেপার

পুশ ইন

বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে চান না শুভেন্দু

বেলফাস্টে ঘরবন্দি ৫ হাজার বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
বেলফাস্টে ঘরবন্দি ৫ হাজার বাংলাদেশি
রয়টার্স ছবি

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি ওই শহরে ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে একটি পরিবারের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৮ জুন। ওইদিন বেলফাস্টের শেতাঙ্গ বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে ছুরিকাঘাত করেন সুদান থেকে আসা এক অভিবাসী। এ ঘটনা শেষ পর্যন্ত জাতিগত বিদ্বেষে রূপ নিয়েছে। 

জানা গেছে, এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বেলফাস্টজুড়ে রায়ট শুরু হয়। প্রথমে রাস্তাঘাট, দোকান, গাড়ি, বাসে আগুন দেওয়া হলেও রাতের দিকে অভিবাসীদের বাড়িঘর টার্গেট করে হামলা শুরু করা হয়। প্রথম রাতে ১৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশি এক পরিবারের বাসায় হামলা চালায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি। বাসার মালিক আবদুল আলিম জানান, রাত ৯টার দিকে প্রথমে তাদের বাসায় আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ কল করা হলে ৩০-৪০ মিনিট পর এসে তারা তার পরিবারকে উদ্ধার করে অন্য এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে তুলে দিয়েছে। এখন ২ বেডরুমের ফ্ল্যাটে ৩ পরিবারের ৮ জন সদস্য অবস্থান করছেন।

আবদুল আলিম আরো বলেন, ভয়াবহ অবস্থা চারদিকে। আমরা প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। মনে হচ্ছে আমাদের ঘিরে ফেলা হয়েছে চারদিক থেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, এক সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি একটি চোখ হারিয়েছেন।

জানা গেছে, এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। পরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, বাস ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং অভিবাসী পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।

কে এই কেইকো ফুজিমোরি?

অনলাইন ডেস্ক
কে এই কেইকো ফুজিমোরি?

আমেরিকা মহাদেশে ডানপন্থী নেতাদের জয়ের ধারায় নতুন সংযোজন হয়েছেন কেইকো ফুজিমোরি। তিনি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কঠোর শাসক আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে।

৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি প্রায় ২ কোটি ভোটের মধ্যে মাত্র কয়েকশ ভোটের ব্যবধানে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে হারিয়েছেন। তার জয়ের ব্যবধান ছিল ৫০ দশমিক ০০২ শতাংশেরও কম।

পেরুতে এই ফলাফলের পর আমেরিকা মহাদেশে এখন শুধু উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে মধ্যপন্থী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় ফুজিমোরির জন্য শেষ বড় সুবিধাটি এসেছে প্রবাসীদের দেওয়া ভোট থেকে। 

তিনি প্রায় ৬০০টি বেশি ভোট পেয়েছেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সানচেজ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোট গণনায় ৫০.২১ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে থাকলেও, ফুজিমোরি প্রবাসীদের দেওয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে, অর্থাৎ ৬৩.৪২ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে আছেন। 

সামান্য ব্যবধানের কারণে বিতর্কিত ব্যালটগুলো এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ফলাফল নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই বিভক্ত নির্বাচন দেশে ও বিদেশে থাকা পেরুভিয়ানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। গণনার সময় প্রাথমিকভাবে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজ তার অবস্থান বদলান। 

তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অদ্ভুত, অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমাদের জনগণ সতর্ক আছে, ভোট ও গণতন্ত্রকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’ 

তার দল লিমা অঞ্চলের এক হাজার ৭৫১টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রের ফল বাতিলের জন্য মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে অবহেলা করা হয়েছে। দলটি আরো দাবি করেছে, বিশ্লেষণে শত শত গণনাপত্রে সন্দেহজনক মিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, দেশব্যাপী এক হাজার ৭৫১টি ভোটকেন্দ্রে ৫৮৪ ধরনের হুবহু পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করা হয়েছে বলে লা রিপাবলিকা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস পারেহা বলেন, বিদেশি ব্যালটে কোনো অনিয়ম হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বলেছেন, রবিবারের নির্বাচন বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। সানচেজ নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুজিমোরির জন্য শাসন করা কঠিন হতে পারে, কারণ তারা একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বিরোধী দলের মুখোমুখি হতে পারেন।

কেইকো ফুজিমোরি কে?

কেইকো ফুজিমোরি ১৯ বছর বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি তার বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আলবার্তো ফুজিমোরি একজন স্বৈরশাসক হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং জাপানে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে আলবার্তো ফুজিমোরি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। বিশেষ করে ‘তে গ্রুপো কোলিনা’ নামের ডেথ স্কোয়াডকে গণহত্যাসহ নানা হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরু শাসন করেছিলেন। কেইকো ফুজিমোরি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিবারই দ্বিতীয় দফার ভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। চাঁদাবাজি, অবৈধ স্বর্ণখনন এবং কোকেন পাচার বৃদ্ধির সম্মুখীন দেশটির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো মোকাবিলার লক্ষ্যে তিনি সহিংস অপরাধ দমন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগার নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফুজিমোরি তার বাবার অনেক স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করলেও তার কিছু কঠোর নীতি বজায় রেখেছেন। 

তার বাবা ক্ষমতায় থাকার জন্য কংগ্রেস ভেঙে দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং জালিয়াতিমূলক কাজ করেছিলেন। তবে তিনি বলেছেন, পেরুর এক মেয়াদের নির্ধারিত সময়ের বাইরে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে রবিবার

অনলাইন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে রবিবার
সংগৃহীত ছবি

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। একটি পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ভাষা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে যে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নয়, লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সূত্রটি জানায়, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। যাতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

সমঝোতার আগাম বার্তা ট্রাম্পের

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা অর্জিত হয়েছে এবং সে কারণেই তিনি নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধান করেছি।’

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, চুক্তির খসড়ায় তেহরানের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তির প্রস্তাব

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তেল খাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া পারমাণবিক ইস্যু আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তবে তেহরান বরাবরই বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায় এবং অপরিশোধিত তেলের দামও কমতে শুরু করে। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। যা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পর তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

তবে সম্ভাব্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, যা ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেও চলমান শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষভুক্ত নয় ইসরায়েল।

উত্তেজনা চলমান

সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে এবং এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমছে নাকি কৌশল বদলাচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমছে নাকি কৌশল বদলাচ্ছে?
ছবি : রয়টার্স।

ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, ইরানের সাধারণ মানুষ একটি দমনমূলক শাসনের অধীনে বসবাস করছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না, কারণ তারা কঠোর দমন-পীড়ন ও অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে থাকে।

ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসে প্রচারিত এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রতি আমার বার্তা হলো, তারা ভীত। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, কিন্তু অন্য পক্ষের হাতে অস্ত্র আছে। তারা সমাবেশ করলে গুলিবিদ্ধ হয়।’

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সরকার ইয়েমেন, ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তারা বলে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইরানের দাবি, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরো বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন, যার মধ্যে খার্গ দ্বীপ ও এর তেল স্থাপনা দখলের কথাও ছিল। অন্যদিকে তিনি আলোচনার জন্যও সময় দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার তিনি সত্যিই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, যাতে চলমান সংঘাত কমানো বা বন্ধ করা যায়। তিনি বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’ সম্ভাব্য স্থান হিসেবে তিনি ইউরোপের কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমোদনও পেয়েছে। এ কারণে তিনি ওই রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ও বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছেন।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায় এবং তেলের দাম কমে যায়। তবে শুক্রবার ইরান জানায়, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি করেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

ইরানি জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি সেতু, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা এড়াতে চান, কারণ এতে সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্রায়ান কিলমিডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাইলে এক মিনিটের মধ্যেই তা করতে পারি। কিন্তু আমি তা করতে চাই না, কারণ একবার এমন হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক দফা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, যার ফলে অঞ্চলটি তেল বিক্রি থেকে বিপুল আয় হারিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা অগ্রগতি না হলে আরো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইরান কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। একই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালেও আলোচনা চলেছে।

ইরানের সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্য

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি এর আগেও বলেছিলেন, যদি ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে, তবে তা দেশটির জনগণের অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে হতে পারে, সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর আগে এ ধরনের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ট্রাম্পের সমালোচক এবং কিছু ইরানি বিরোধী নেতা মনে করেন, অবকাঠামোতে হামলার পরিবর্তে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

কেউ কেউ সাধারণ নাগরিকদের সহায়তা বা অস্ত্র দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তবে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ও অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য সমালোচকরা।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করেছে।

এসব জাহাজে বহন করা অপরিশোধিত তেলের মূল্য ছিল প্রায় ৭.৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার। তার দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে জাহাজগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য বাধা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার পরিবহন 

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গোপন এক মার্কিন অভিযানে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রণালি দিয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি রাডার সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা হয়। এরপর মার্কিন সামরিক বাহিনী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো আলো ছাড়াই গভীর রাতে ট্যাংকার ট্রানজিট সমর্থন করেছিল।

ট্রাম্প বিশেষভাবে এমন একটি অভিযানের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ২২টি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা হয়েছিল। তার দাবি, এই প্রচেষ্টার ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার মতে, তেলের দাম যেখানে প্রতি ব্যারেল ২৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারত, সেখানে তা প্রায় ৮৫ ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এসব তথ্য বা সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেননি।