• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমছে নাকি কৌশল বদলাচ্ছে?

কে এই কেইকো ফুজিমোরি?

অনলাইন ডেস্ক
কে এই কেইকো ফুজিমোরি?

আমেরিকা মহাদেশে ডানপন্থী নেতাদের জয়ের ধারায় নতুন সংযোজন হয়েছেন কেইকো ফুজিমোরি। তিনি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কঠোর শাসক আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে।

৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি প্রায় ২ কোটি ভোটের মধ্যে মাত্র কয়েকশ ভোটের ব্যবধানে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে হারিয়েছেন। তার জয়ের ব্যবধান ছিল ৫০ দশমিক ০০২ শতাংশেরও কম।

পেরুতে এই ফলাফলের পর আমেরিকা মহাদেশে এখন শুধু উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও ব্রাজিলে মধ্যপন্থী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় ফুজিমোরির জন্য শেষ বড় সুবিধাটি এসেছে প্রবাসীদের দেওয়া ভোট থেকে। 

তিনি প্রায় ৬০০টি বেশি ভোট পেয়েছেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সানচেজ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোট গণনায় ৫০.২১ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে থাকলেও, ফুজিমোরি প্রবাসীদের দেওয়া বিপুল ভোটের ব্যবধানে, অর্থাৎ ৬৩.৪২ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে আছেন। 

সামান্য ব্যবধানের কারণে বিতর্কিত ব্যালটগুলো এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ফলাফল নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই বিভক্ত নির্বাচন দেশে ও বিদেশে থাকা পেরুভিয়ানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। গণনার সময় প্রাথমিকভাবে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজ তার অবস্থান বদলান। 

তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অদ্ভুত, অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমাদের জনগণ সতর্ক আছে, ভোট ও গণতন্ত্রকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’ 

তার দল লিমা অঞ্চলের এক হাজার ৭৫১টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রের ফল বাতিলের জন্য মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে অবহেলা করা হয়েছে। দলটি আরো দাবি করেছে, বিশ্লেষণে শত শত গণনাপত্রে সন্দেহজনক মিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, দেশব্যাপী এক হাজার ৭৫১টি ভোটকেন্দ্রে ৫৮৪ ধরনের হুবহু পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করা হয়েছে বলে লা রিপাবলিকা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস পারেহা বলেন, বিদেশি ব্যালটে কোনো অনিয়ম হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বলেছেন, রবিবারের নির্বাচন বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। সানচেজ নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুজিমোরির জন্য শাসন করা কঠিন হতে পারে, কারণ তারা একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বিরোধী দলের মুখোমুখি হতে পারেন।

কেইকো ফুজিমোরি কে?

কেইকো ফুজিমোরি ১৯ বছর বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি তার বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আলবার্তো ফুজিমোরি একজন স্বৈরশাসক হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং জাপানে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে আলবার্তো ফুজিমোরি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। বিশেষ করে ‘তে গ্রুপো কোলিনা’ নামের ডেথ স্কোয়াডকে গণহত্যাসহ নানা হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরু শাসন করেছিলেন। কেইকো ফুজিমোরি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিবারই দ্বিতীয় দফার ভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। চাঁদাবাজি, অবৈধ স্বর্ণখনন এবং কোকেন পাচার বৃদ্ধির সম্মুখীন দেশটির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো মোকাবিলার লক্ষ্যে তিনি সহিংস অপরাধ দমন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগার নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফুজিমোরি তার বাবার অনেক স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করলেও তার কিছু কঠোর নীতি বজায় রেখেছেন। 

তার বাবা ক্ষমতায় থাকার জন্য কংগ্রেস ভেঙে দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং জালিয়াতিমূলক কাজ করেছিলেন। তবে তিনি বলেছেন, পেরুর এক মেয়াদের নির্ধারিত সময়ের বাইরে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে রবিবার

অনলাইন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে রবিবার
সংগৃহীত ছবি

উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। একটি পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ভাষা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে যে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নয়, লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সূত্রটি জানায়, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। যাতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

সমঝোতার আগাম বার্তা ট্রাম্পের

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা অর্জিত হয়েছে এবং সে কারণেই তিনি নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধান করেছি।’

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, চুক্তির খসড়ায় তেহরানের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তির প্রস্তাব

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তেল খাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া পারমাণবিক ইস্যু আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তবে তেহরান বরাবরই বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায় এবং অপরিশোধিত তেলের দামও কমতে শুরু করে। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। যা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পর তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

তবে সম্ভাব্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, যা ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেও চলমান শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষভুক্ত নয় ইসরায়েল।

উত্তেজনা চলমান

সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে এবং এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বেলফাস্টে পুরনো ইতিহাসের ‘নতুন রূপ’, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সংখ্যালঘুরা

অনলাইন ডেস্ক
বেলফাস্টে পুরনো ইতিহাসের ‘নতুন রূপ’, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সংখ্যালঘুরা
সংগৃহীত ছবি

উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সংঘাতময় ইতিহাসের পরও সমাজে বিভাজনের বিভিন্ন রূপ এখনও বিদ্যমান। রাজধানী বেলফাস্টে সাম্প্রতিক সহিংসতা অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বেলফাস্টে অভিবাসী বলে ধারণা করা ব্যক্তিদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে । মুখোশধারী কয়েকটি দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালানোর পর অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। 

সহিংসতার সূত্রপাত

গত মঙ্গলবার ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একজন সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে ওই রাতেই বেলফাস্টের কয়েকটি এলাকায় মুখোশধারী একটি দল ঘুরে ঘুরে বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেয়। একই সঙ্গে জাতিগত সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরদিন বুধবারও বিচ্ছিন্নভাবে অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী হিলারি বেন এসব হামলাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী তৎপরতা’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসেও নিরাপত্তাহীন

২০১৬ সালে সুদান থেকে শরণার্থী হিসেবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে যান তওয়াসুল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘অনেক নারী ও শিশু ভয়াবহ মানসিক চাপে রয়েছে। আমরা সন্তানদের ঘরেই রাখছি। এসব ঘটনার পর থেকে আমি আমার সন্তানদের স্কুলে পাঠাইনি।’

তার মতে, যেসব মানুষ যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে বাঁচতে নিজেদের দেশ ছেড়ে এখানে এসেছেন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি পুরোনো দুঃসহ স্মৃতিকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে।

ওই দেশে অবস্থান নিয়ে আবাসন সংকট বা স্বাস্থ্যসেবার সংকট তৈরি করিনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অভিবাসীরা কোনো সমস্যা নয়। আমরা সবাই এই সমাজের অংশ হতে চাই এবং এর উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।’

১

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, সুদান থেকে আসা তিন সন্তানের মা জেইনাব। তার বাড়ির কাছে পূর্ব বেলফাস্টে সহিংসতা শুরু হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তিনি একটি এনজিও—আনাকা উইমেনস কালেকটিভের সহায়তা চান।

শেষ মেষ অন্য অনেক বর্ণবাদী হামলার শিকার মানুষের মতো তিনিও একটি আইরিশ পরিবারের আশ্রয় পান এবং বর্তমানে বেলফাস্টের বাইরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।

জেইনাব বলেন, ‘এখানে আমরা অনুভব করেছি যে এখানে সবাই বিদেশিদের অপছন্দ করে না। এখনও ভালো মানুষ আছে—যারা আমাদের ভালোবাসে, নিজেদের ঘর আমাদের জন্য খুলে দিয়েছে। তারা আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভাগ করে নিয়েছে। দুর্বল মুহূর্তে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছে।’

কর্মস্থলে হয়রানি

সরকারি খাতের শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনিসনের আঞ্চলিক সচিব প্যাট্রিসিয়া ম্যাককিওন জানান, সহিংসতার আশঙ্কায় অন্তত ৩০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

তার অভিযোগ, কিছু এলাকায় স্বঘোষিত পাহারাদার দল রাস্তায় মানুষের পরিচয় যাচাই করছে। বিশেষ করে হাসপাতালের বাইরে কর্মীদের থামিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া, ভিডিও ধারণ করা এবং অনুসরণ করার ঘটনা ঘটছে।

2

তিনি বলেন, ‘গত রাতে শহরের পূর্বাঞ্চলের একটি বড় হাসপাতালে চার মুখোশধারী ব্যক্তি এক নার্সকে ধাওয়া করেছে। এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।’

সংকটের মধ্যেও মানবিকতা

তবে সহিংসতার মধ্যেও অনেক সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিন বছর আগে ভারত থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে আসা রুচিরা রঙ্গপ্রসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের ঘোষণা দিলে ব্যাপক সাড়া পান।

তিনি জানান, ৩০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক খাদ্য বিতরণে সহযোগিতা করেছেন। গত বুধবার কয়েক ডজন খাদ্য প্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রুচিরা বলেন, মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু খাবার একটি মৌলিক প্রয়োজন, বিশেষ করে পুষ্টিকর ঘরে তৈরি খাবার। তাই আমি ভেবেছি, রান্না করে মানুষকে সাহায্য করি।’

‘ঘৃণা ছড়ানো লোকেরা সংখ্যালঘু’

বেলফাস্ট ইসলামিক সেন্টারের নির্বাহী কমিটির সদস্য কাশিফ আকরাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সহিংসতা হৃদয়বিদারক হলেও এটি পুরো বেলফাস্টের চিত্র নয়।’

জন্মসূত্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা আকরাম বলেন, ‘বেলফাস্টে অনেক ভালো মানুষ আছেন। যারা এখন ঘৃণা ছড়াচ্ছে, তারা সংখ্যায় খুবই কম। প্রকৃতপক্ষে তারাই সংখ্যালঘু।’

প্রসঙ্গত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তাক্ত সংঘাত ‘দ্য ট্রাবল্‌স’ নামে পরিচিত। ১৯৬০-এর দশকের শেষ থেকে শুরু হয়ে ১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

মূলত যুক্তরাজ্যে থাকা বা না থাকা নিয়ে আয়ারল্যান্ডের এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের দুটি প্রধান গোষ্ঠীর মধ্যে এই বিরোধ ছিল। তারা মধ্যে ইউনিয়নবাদী বা প্রোটেস্ট্যান্ট- যারা নিজেদের ব্রিটিশ মনে করে এবং যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকতে চেয়েছিল। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী বা ক্যাথলিক- যারা আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করতে চেয়েছিল।

প্রায় তিন দশক ধরে চলা এই সংঘর্ষে আধা-সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও সংঘাত হয়েছে। এতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সবশেষ ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির ফলে উভয় পক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করে এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার গঠিত হয়।

পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেন ও রাশিয়া শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালায়, অন্যদিকে রাশিয়া রেল স্টেশন ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে হামলা চালায়। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় তাতারস্তানের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে তিনজন আহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে একজন রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার বড় ধরনের বিমান হামলার পর এই হামলাগুলো ঘটল।

অন্যদিকে, কিয়েভ রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ফলে ক্রিমিয়া ও অন্যান্য স্থানে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে তাতারস্তানের নিজনেকামস্ক শহরে অবস্থিত তাতনেফটের তেল শোধনাগার টানেকোতে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার, যার বার্ষিক নকশা ক্ষমতা ১৬ মিলিয়ন টনেরও বেশি।

টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, তারা নিজনেকামস্কের তাইফ-এনকে শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং উভয় শোধনাগারে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাতারস্তানের আঞ্চলিক প্রধান আগে বলেছিলেন, তাতারস্তানের শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের তোলিয়াত্তি শহরের টোগলিয়াটিকাউচুক উদ্ভিদ কারখানায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই কারখানাটি সিন্থেটিক রাবার উৎপাদনে বিশেষায়িত। এটি ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

সামারা অঞ্চলের গভর্নর এর আগে জানান, মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত টোলিয়াটি শহরেও ড্রোন হামলা হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রায়ানস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলে ইউক্রেনের আরেক হামলায় দুজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর।

সংবাদ সংস্থাগুলো রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়া রাতারাতি ২৩১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

শুক্রবার ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘উকরজালিজনিৎসিয়া’ প্রধান নির্বাহী জানান, রাশিয়ার ড্রোন উত্তরাঞ্চলীয় সুমি ওব্লাস্ট অঞ্চলের একটি রেল স্টেশন, বৈদ্যুতিক সংকেত কেন্দ্র এবং সাবস্টেশনে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন রেলকর্মী নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে একই অঞ্চলের কোনোটপ শহরে আরেকটি হামলায় একজন রেলকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া ১১৭টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ১০২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাইকোলাইওভ গত রাতে একটি ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং ১৪টি ব্যক্তিগত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আরো জানায়, শুক্রবার ভোরে আরেকটি হামলায় একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।