• ই-পেপার

নিখোঁজ নয়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান : পুলিশ

কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
কুলাউড়ায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত মুজিবুর রহমান দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে স্থানীয় দত্তগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এদিকে ভারতের এক গণমাধ্যমকর্মী গত রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, নিহত মুজিবুর রহমানের মরদেহ ভারতের উনকোটি জেলা হাসপাতালে রয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবির আওতাভুক্ত। গতকাল সন্ধ্যায় মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় ৬-৭ জন যুবক দত্তগ্রাম সীমান্তের লখাইরচর এলাকায় যান। এ সময় ভারতের লাটিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে মুজিবুর রহমান নিহত হন। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জয়নুল ইসলাম বলেন, নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর ভাষ্য, চোরাই মালামাল আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিজিবির সঙ্গে নিহতের ভাই আজিজুর রহমান রয়েছেন। তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের মরদেহ বিএসএফ ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে মুজিবুর রহমান মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল গেছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুলাউড়ার দত্তগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এ বিষয়ে জানতে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ, বাবা আটক

ফেনী প্রতিনিধি
দুই মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ, বাবা আটক
মোহাম্মদ সুলতান

ফেনীর ফুলগাজীতে দুই মাসের এক শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত বাবা মোহাম্মদ সুলতানের বিরুদ্ধে। পরে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার ফুলগাজী বাজারসংলগ্ন মেম্বার কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ সুলতান (৩০) নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কিতাব আলীর ছেলে। কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে ফুলগাজীতে বসবাস করে আসছেন।

মা রুনা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী মোহাম্মদ সুলতান শিশুটিকে আছাড় মেরে হত্যা করেছেন। তবে সুলতানের দাবি, কোলে নিয়ে খেলার সময় শিশুটি তার হাত থেকে পড়ে যায়।

রুনা আক্তার জানান, সুলতান দিনমজুরের কাজ করেন। তাদের সংসারে একমাত্র সন্তান জুনায়েদের জন্ম হয় দুই মাস আগে। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার কারণে সংসারের খরচ বহন করতেন না। প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও কাজ শেষে বাসায় ফিরে সুলতান তাকে একটি পানীয় কিনে আনার জন্য দোকানে পাঠান। তিনি দোকান থেকে ফিরে এসে ছেলেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

মা রুনা আক্তার বলেন, ঘরে ফিরে দেখি আমার ছেলে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। আমি তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সুলতান বাধা দেন। পরে অনেক চেষ্টার পর রাতের দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছে। এর আগেও কান্না করলে শিশুটির ওপর সুলতান ক্ষুব্ধ হতেন।

ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মাথায় গুরুতর আঘাত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

সিংগাইরে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা

সিংগাইর, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিংগাইরে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বজুড়েই চলছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সারা দেশের ন্যায় ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ক্রীড়ামোদীরাও। বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা গ্রামগঞ্জের ফুটবলপ্রেমী আবালবৃদ্ধবনিতার মাঝে আরো ছড়িয়ে দিতে উপজেলার খান বানিয়ারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ব্যতিক্রমী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩-১ গোলে বিজয়ী হন আর্জেন্টিনা।

এদিন খেলা শুরু হওয়ার আগেই খান বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয় দর্শকদের আনাগোনা। দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে যায় খেলার মাঠ। বিকেল ৫টায় খেলা শুরু হয়। খেলা উপভোগ করতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলের ফুটবলপ্রেমী জনতা। জার্সি গায়ে ও পতাকা হাতে নিয়ে হর্সধ্বনি ও করতালি দিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেন উভয় দলের ফুটবল ভক্তরা।

খেলা শুরুর বাঁশি বাজতেই দুদলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয় দলের খেলোয়াড়রা দারুণ নৈপুণ্য, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের পরিচয় দেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার মাঝেও ম্যাচটি হয়ে ওঠে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

খেলার ধারাভাষ্য প্রদান করেন এইচ আর হানিফ। খেলার উত্তেজনা ও রোমাঞ্চকর মুহূর্তে তার কাব্যিক শব্দচয়ন ও চমৎকার প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক দারুণ উন্মাদনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

খেলার প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় তাহসিন ও ফাহিমের পায়ে দুটি গোল পেয়ে এগিয়ে যায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল দলের খেলোয়াড় রনি একটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। শেষ মুহূর্তে ফাহিমের পায়ে আরো একটি পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনা। খেলার নির্ধারিত সময়ে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনা। খেলা শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রীতির বার্তা দেন।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। বিজয়ী দল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে একটি সাদা খাসি (ছাগল) রানার্সআপ দল ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের হাতে একটি কালো খাসি পুরস্কার হিসেবে তুলেদেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এবং উভয় দলকে স্মারক ট্রফি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দুই দলের গোলরক্ষক। তাঁদের উভয়কেই পুরস্কার হিসেবে একটি করে লাল মোরগ দেওয়া হয়।

খেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক জামান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রীড়ামোদী নূর এ জামান পিয়াস বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্বে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই উৎসাহ উদ্দীপনা গ্রামগঞ্জের তরুণ, যুবক ও  আবালবৃদ্ধবনিতার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এই আয়োজন। ফুটবল খেলার প্রতি দেশের লক্ষকোটি মানুষের ভালবাসাই বলে দেয় বাংলাদেশও একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে নাম লেখাবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে জানান তিনি।

খেলার অন্যতম উদ্যোক্তা নারী সমাজ হিতৈষী নাফিসা আনজুম খান বলেন, পুরো বিশ্ব এখন বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে ভোগছে। বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আনন্দ গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জনপ্রিয় দুটি দলের সমর্থকদের মধ্য প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি না দেখতে পারলেও দেশের মাটিতে নিজ এলাকায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করেছি। পাশাপাশি এই খেলা দেখে মুগ্ধ হন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রীড়ামোদী মানুষ।

এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান খান মোহাম্মদ আলী, জয়মন্টপ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বাচ্চু, সমাজ হিতৈষী মোশাররফ হোসেন খান আরজু, মনিরুজ্জামান খান (মনু), আজমীর খান লিপু, আর্জেন্টিনা দলের টিম ম্যানেজার প্রবাসী মোসলেহ উদ্দিন খান সেলিম ও ব্রাজিল দলের টিম ম্যানেজার শফিকুল আলম খান চন্দনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও লেগেছে ফুটবল উন্মাদনার ছোঁয়া। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে বিভিন্ন আয়োজনে নিজেদের সমর্থন জানান দিচ্ছেন ভক্ত সমর্থকরা।

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় আলাদা আমেজ আর উন্মাদনা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল সময়র্থকদের মধ্যে দেখা দেয় উৎসবের আমেজ।

নিজ দলের প্রতি ভালোবাসা আর সমর্থন জানান দিতে করে নানা আয়োজন। পছন্দের দলের পতাকা উড়ানোর হিড়িক পড়ে। তেমনি প্রতিযোগিতা চলে কে কার চেয়ে কত বড় পতাকা তৈরি করবে।

এবার সেই উন্মাদনায় ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে তাক লাগিয়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। শুক্রবার বিকেলে সেই পতাকা নিয়ে মিছিল করে গ্রামের রাস্তায় টাঙিয়ে দেয় তারা।

তাদের দাবি, ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই আর্জেন্টাইন পতাকা এখন পর্যন্ত শুধু পাবনা জেলার মধ্যে নয়, পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতাকা। বিশালাকৃতির এই পতাকা দেখতে প্রতিদিন বালুদিয়ার গ্রামে শত শত আর্জেন্টাইন ভক্ত ভিড় জমাচ্ছেন। ফুটবল উন্মাদনায় এবং পতাকা তৈরিতে যোগ দিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার আর্জেন্টাইন ভক্ত।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বালুদিয়ার গ্রামের রাসেল মাহমুদ, সেলিম হোসেন ও আলামিন হোসেন নামের তিন যুবক ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে পরিকল্পনা করেন বিশ্বের আর্জেন্টাইন ভক্ত ও বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো কিছু একটা করবেন। সেই পরিকল্পনা মাফিক মেসি ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে এবং এবারও মেসিদের উৎসাহ জোগাতে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা বানাবেন।

গ্রামের সন্তানদের এমন পরিকল্পনার ভীত গড়তে বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টাইন ভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী, কৃষক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেন। চলতে থাকে আর্জেন্টিনা দলের পতাকা তৈরির কাজ। প্রায় ১০ দিনব্যাপি চলে এই পতাকা তৈরি। এরপর পাতাকার ওপর চলে আর্জেন্টিনা দলের লোগো বসানোর কাজ। বিশালাকৃতির এই পতাকা তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বালুদিয়ার গ্রাম জুড়ে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকাটি টাঙানো হয়।

রাসেল মাহমুদ, ফরিদ হোসেন, সেলিম হোসেন এবং আলামিন হোসেন বলেন, আসলে ছোটবেলা থেকেই আমরা মেসির খেলা দেখে আসছি। সেই থেকেই আমরা আর্জেন্টিনা দলের ভক্ত। ২০২২ সালে ফ্রান্সের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা দল। আর্জেন্টিনা দলকে সুদূর বাংলাদেশ থেকে উৎসাহ জোগাতে এতো বড় পতাকা বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আমরা চাই, মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবরো সেই সোনালী ট্রফিটা মেসির হাতেই উঠুক।

সিদ্দিকুর রহমান ও মহরম আলী বলেন, আমরা আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে এত বড় কথাটা তৈরি করেছি। এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতবে বলে আশা করি। তবে ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা রইল। আমাদের প্রত্যাশা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তাদের নান্দনিকতা ফুটবল উপহার দিয়ে ফাইনালে উঠুক। 

পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন, আর্জেন্টিনার ভক্তদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমি নিজেও আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই আজকের আয়োজনে উৎসাহ দিতে আমি নিজেও এসেছি। আশা করি সমর্থকদের এমন উন্মাদনায় যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।