• ই-পেপার

‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি সফলে ঢাবিতে ছাত্রদলের প্রচারণা

রাজশাহীতে ইআবির সেমিনার ও জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া

অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহীতে ইআবির সেমিনার ও জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭জুলাই) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলেই মাদরাসা শিক্ষার্থীরা জাতীয় উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ভাইস চ্যান্সেলর।

এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর উপস্থিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আত্মসমালোচনা ও আত্মমূল্যায়নের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় সব মাদরাসায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে মাদরাসাগুলোতে ইবতেদায়ি শাখা চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নতুন প্রজন্মকে তাদের আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার সামনে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।’

সেমিনারে কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার  শাহীনুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. নওসের আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজী।

এ ছাড়া সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির প্রতিনিধিরা মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাবিতে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১৯ জুলাই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবিতে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১৯ জুলাই
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটের (আরআইটি) প্রতিনিধি ড. আকরাম। এ সময় ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’। সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতবিনিময় করবেন দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকরা।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরআইটি, ডাকসু, ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর সঙ্গে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজও যুক্ত রয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে জুলাই আন্দোলনে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করবেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন আইসিজেআর-২-এর আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসাইন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিনিধি হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা উপস্থিত থাকবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে একটি বিশেষ প্রোটোকল সেশনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে পাঁচটির বেশি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন ১৫ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ। মূল প্রবন্ধের পাশাপাশি এতে বাছাই করা ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। সম্মেলনের প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন আরআইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। এতে সম্মেলনের ঘোষণা উপস্থাপন করবেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ এবং সমাপনী বক্তব্য দেবেন আরআইটির নির্বাহী পরিচালক ড. একরাম উদ্দিন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মেলন জুলাই বিপ্লবের অপূর্ণ কাজ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে।

জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল
জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সংহতি সমাবেশ ও কফিন মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয় এই মিছিল। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বিগত সরকারের আমলের গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের দোসরদের শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘নানা রকমের মতের পার্থক্য, নানা রকমের আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ শেখ হাসিনা এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের আদর্শিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে আমরা এক আছি আজকের এই সমাবেশে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা শুনতে পেরেছি হাসিনা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসতে চায়। আমরা বলি, ডিসেম্বরে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল; সেই ডিসেম্বরে পাকিস্তানিদের দোসর শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

২০২৪ সালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এই কফিন মিছিল হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। আমাদের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মদদে পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির যৌথবাহিনী হামলা করেছিল। আমরা সেদিন কফিন মিছিল শেষ করতে পারিনি। আমরা দেখেছি সেই ভিসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদের বিচার হয়নি। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলপন্থী সব শিক্ষককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘এই জুলাই-আগস্টে যারা আমাদের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, গুলি চালিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছে, তাদের বিচার অনতিবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, মুগ্ধ, শহীদ রাফিসহ যারা আমাদেরকে এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমরা সব ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আজকের এই দিনে ঐতিহাসিক ১৭ জুলাই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সন্ত্রাসী সংগঠনকে আমরা বিতাড়িত করেছিলাম, সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা এদেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আগামী দিনে আমাদের লড়াই সংগ্রাম আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাব।’

ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর বলেন, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার নিজেদের জুলাই এর পক্ষ শক্তি হিসাবে হাজির করলেও আমরা দেখতে পাই তাদেরই পাশে বসে থাকা সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান ও নীলুফার চৌধুরী টকশোতে বসে জুলাইকে মেটিকুলাস ডিজাইন ও ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যা দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ বলতে চাই আপনি যদি জুলাইয়ের পক্ষশক্তি হয়ে থাকেন তবে আপনার পাশে বসে থাকা এসব কুলাঙ্গারকে শায়েস্তা করতে হবে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

জাককানইবি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছেন শ্রমিকরা, বিভিন্ন সময় নিহত ৩

জাককানইবি প্রতিনিধি
জাককানইবি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছেন শ্রমিকরা, বিভিন্ন সময় নিহত ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হচ্ছে, যেখানে কোনোরকম নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। বিভিন্ন সময়ে আহত এবং নিহত হয়েছেন একাধিক নির্মাণ শ্রমিক। অথচ প্রকল্পের সাইটে দেখা যায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোনোরকম নিরাপত্তা ছাড়াই কয়েক শ ফুট উঁচুতে ঝুলে ঝুলে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪ এ স্যানিটারি কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন নির্মাণশ্রমিক রাসেল। সহকর্মীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত রাসেল চাঁদপুর থেকে কাজে এসেছিলেন এই প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে।

এর আগে গত বছরের ২২ মার্চ নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক মো. ইব্রাহিম। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় কাজ শেষে নিচে নামার সময় ভবনের ফাঁকা অংশের পাশে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান তিনি। পরে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই সময় শ্রমিকরা অভিযোগ করেছিলেন, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি।

এরও আগে ২০১৯ সালের ১৫ মে নির্মাণাধীন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বর্তমান বিদ্রোহী হল) ছাত্র হলের ১০ তলা ভবনের অষ্টম তলায় কাজ করার সময় নিচে পড়ে মারা যান ২০ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক হাসান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে সেই রিপোর্ট আর কোনোদিন প্রকাশ্যে আসেনি।

শুধু মৃত্যুই নয়, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হলের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত ১০ নির্মাণশ্রমিক আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ঢালাইয়ের সময় দুর্বল সাপোর্ট ব্যবহার করায় ছাদটি ধসে পড়তে পারে।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার পর প্রতিবারই তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্মাণশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা সরঞ্জামের বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের জন্য হেলমেট, সেফটি বুট, গ্লাভস, গগলস এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং উচ্চতায় (২ মিটারের বেশি) কাজ করার সময় শ্রমিকদের সুরক্ষা বেল্ট পরা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও ভারসম্য রক্ষায় মাচা নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও মজবুত উপকরণ ব্যবহার করা ও তা নিয়মিত পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে এবং উন্মুক্ত ছাদ, লিফট ও সিঁড়ির আশেপাশে নিরাপত্তা রেলিং ও সতর্কতামূলক জাল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনে আরও বলা হয়েছে, কর্মস্থলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকপক্ষ শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে আইনত বাধ্য।

এনএস এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ওয়াশিম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। ভবনের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় যারা ভবনের ভেতরে কাজ করছেন, তারা সেফটি বেল্ট ব্যবহার করছেন না। তবে যারা উঁচু স্থানে কাজ করছেন, তারা সেফটি বেল্ট পরেই কাজ করছেন।’

সম্প্রতি শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪ এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খান এন্ড সন্স বিডি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার জসিম বলেন, ‘যে ছেলেটি মারা গেছেন,তিনি কাজে যাওয়ার আগে তাকে সেফটি বেল্ড দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে যে হেলপার আছে তাকেও সেফটি বেল্ড দেওয়া হয়েছে। যিনি মারা গেছেন তিনি সেই বেল্ড পরেনি তার হেলপারকে বলেছে বেল্ড পড়া লাগবে না কোন সমস্যা নাই। এইসব বিষয়ে জানা গেছে হেলপারের মুখ থেকে।’

বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সেই হেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা কোনো সহায়তা করেনি।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ইঞ্জিনিয়ার অফিস আছে। ওরা নিয়মিত এসব দেখভাল করে। আমরা প্রকল্প পরিচালক অফিস সবসময় যেতে পারি না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা মানতে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এখানে আরেকটা বিষয় শ্রমিকরা নিজেরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজে যেতে চান না।’

এ নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কোনো উপ-পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারা প্রতিবেদন দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমাদের বাংলাদেশে যে ইন্সুরেন্স পলিসি আছে সেখানে মারা গেলে নির্ধারিত এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এক লক্ষ টাকায় কি কোনো জায়গায় সমাধান হয়? সেখানে তাদের ফ্যামিলির দায়িত্বটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হয়, যেকোনো কন্ডাকটরের কাজ করেছে তাকেই নিতে হবে দায়িত্ব। তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে, কত টাকা কিংবা কি করে সমাধান করবে সেটা তাকেই বলা হয়েছে।’