ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭জুলাই) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলেই মাদরাসা শিক্ষার্থীরা জাতীয় উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ভাইস চ্যান্সেলর।
এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর উপস্থিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আত্মসমালোচনা ও আত্মমূল্যায়নের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় সব মাদরাসায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে মাদরাসাগুলোতে ইবতেদায়ি শাখা চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নতুন প্রজন্মকে তাদের আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার সামনে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মাদরাসা শিক্ষাকে আরো যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।’
সেমিনারে কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. নওসের আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজী।
এ ছাড়া সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির প্রতিনিধিরা মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




