• ই-পেপার

সুন্দরবনের বনজীবীদের কষ্টের জীবন, কঠোর পরিশ্রমেও অভাব নিত্য সঙ্গী

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দুয়ায় স্মরণসভা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দুয়ায় স্মরণসভা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম ও সৃষ্ট চরিত্র যুগ যুগ ধরে পাঠকদের অনুপ্রাণিত করবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

কেন্দুয়া মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন হুমায়ূন স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক মো. মজিবুর রহমান।

সাংবাদিক কোহিনূর আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান এবং জমিলা মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. লুৎফর রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও পালা নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞা, কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।

প্রধান আলোচক নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম আজও পাঠকসমাজে সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর সৃষ্টি চরিত্র, গল্প ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করছে। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তিনি এই মহান সাহিত্যিককে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী দিল বাহার খান ও হাশেম বয়াতী। এছাড়া কবিতা ও সাহিত্য পাঠে অংশ নেন কবি ও গীতিকার শাহাবুল কবীর, কবি ও সাংবাদিক মঞ্জুরা আক্তার লিলি, কবি ও সাংবাদিক হুমায়ুন কবির রিটন, প্রিয়াংকা শর্মা তুলি, শতাব্দী শর্মা ধুলি, জুনায়েদুল হক মারুফসহ উপস্থিত কবি, শিল্পী ও সাহিত্য অনুরাগীরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যে অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টি ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলী’ চরিত্র দুটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও পাঠকপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজন, কনের মাকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজন, কনের মাকে জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গা শহরে বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় এক নাবালিকা কন্যার মাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বিয়ে বন্ধ করে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ের আয়োজন না করার শর্তে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিথি মিত্র।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, বাল্যবিয়ের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নাবালিকা কন্যার মায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে কনের মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, ‘বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

৫০ বছর ধরে ইমামতি, ফেনীতে খতিব শামসুল হককে রাজকীয় বিদায়

ফেনী প্রতিনিধি
৫০ বছর ধরে ইমামতি, ফেনীতে খতিব শামসুল হককে রাজকীয় বিদায়
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ইমামকে রাজকীয়ভাবে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সম্মান জানালেন এলাকার মুসল্লীরা।

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে নামাজে ইমামতি, খুতবা, দ্বীনি শিক্ষা ও সামাজিক নেতৃত্ব দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন এলাকার মানুষের অভিভাবক। বয়সের ভারে এবার স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। বিদায়ের মুহূর্তে প্রিয় ইমামকে রাজকীয়ভাবে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সম্মান জানালেন এলাকার মুসল্লীরা। আবেগঘন সেই আয়োজনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ। আজ  শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর থেকে তাঁকে বিদায় দেওয়া হয়।

বিদায় নেওয়া ইমাম মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী (৯৫) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রৌশআরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।

মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীর বাড়ি উপজেলার মধ্যম শিলুয়া গ্রামে। তিনি মিয়াজি বাড়ির মরহুম এবাদুল্লাহ মিয়াজী মোল্লার ছেলে। ১৯৭৬ সাল থেকে টানা ৫০ বছর ধরে তার বাড়ির পাশে শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রৌশআরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তার সম্মানে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।

এর আগে খতিব শামসুল হক মিয়াজির বাবা এবাদুল্লাহ মিয়াজি ৮১ বছর এবং তার দাদা হামিদ উল্যাহ মিয়াজি ৬০ বছর এই মসজিদে খতিব ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে মধ্যম শিলুয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়িটির পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর। পথজুড়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা সালাম, শুভেচ্ছা ও দোয়ার মাধ্যমে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানান। এ সময় অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।

00
কথা বলছেন ইমাম মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী।

অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘোষণা দেওয়া হয় আগামী এক বছরের বেতন, আজীবন পেনশন ও আমৃত্যু যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে চৌধুরী বাড়ি।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান চৌধুরী বলেন, ‘ইমাম সাহেব আমাদের কাছে শুধু একজন ইমাম নন, তিনি ছিলেন অভিভাবক। পাঁচ দশক ধরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সম্মানজনক বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে।’

বিদায়ের আগে আবেগঘন কণ্ঠে মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী বলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় এ মসজিদ ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কেটেছে। সারা জীবন আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা ও দাদাও এ মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার বাবার নির্দেশে এক মসজিদেই জীবন পার করেছি। দায়িত্বের কারণে নিজের অনেক শখ-আহ্লাদ কুরবান দিয়েছি। আজ বিদায় বেলায় মানুষের এত ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী আলমগীর বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী দীর্ঘ ৫০ বছর আমাদের এ মসজিদের খেদমত করে গেছেন। শুধু তাই নয় পূর্ব পুরুষেরাও এ মসজিদের দেখমত করেছেন। উনার বাধক্যজনিত কারণে এ বিদায়। তবে চৌধুরী বাড়ীর লোকজন উনার আমৃত্যূ পর্যন্ত দেখশোনা করে যাবে।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে পৃথক অভিযানে মাদক ও চোরাই পণ্য জব্দ, আটক ৩

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম সীমান্তে পৃথক অভিযানে মাদক ও চোরাই পণ্য জব্দ, আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ও ধলডাঙ্গা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ব্যাটালিয়নের অধীন অন্যান্য বিওপির সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জিরা, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেন। জব্দ করা মালামালের মোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’