বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কৌশলগত অংশীদারির সম্ভাবনা অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে রূপান্তরে কৌশলগত অংশীদারির সম্ভাবনা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, নরওয়ের উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ‘নরফান্ড’ এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের নির্বাচিত স্পন্সরবৃন্দ অংশ নেন। সম্প্রতি ইডকলের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে এই উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ইডকল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মহামান্য হোকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উপদেষ্টা বায়েজিদ মুনতাসির সায়েদ এবং এসপেন ক্যাপিটাল সলিউশনস এলএলসির পার্টনার রাজি আমিন, যিনি নরফান্ড ও রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইডকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ এবং সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক।
স্বাগত বক্তব্যে নাজমুল হক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও সুশৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, যা নরফান্ডের মতো উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানের ম্যান্ডেটের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ইডকলের ঊনত্রিশ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি অনুমোদিত ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ডিরেক্ট অ্যাক্সেস এনটিটি’র একটি হিসেবে এর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা এ ধরনের কৌশলগত সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে জনাব রাজি আমিন বাংলাদেশে নরফান্ডের বিনিয়োগ আগ্রহ সম্পর্কে একটি ব্রিফিং প্রদান করেন, যা মূলত সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ইক্যুইটি বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রায় নরওয়ের অব্যাহত সমর্থনের কথা ব্যক্ত করে উল্লেখ করেন, নরফান্ডের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশকে আটটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশের একটি হিসেবে নির্বাচন করা নরওয়ের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যা কোনো সাময়িক লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক নয়।
সমাপনী বক্তব্যে আলমগীর মোরসেদ উল্লেখ করেন, এই গোলটেবিল বৈঠকটি ইডকলের ঊনত্রিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৭ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি নরফান্ডের ম্যান্ডেট এবং ইডকলের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের অভিন্নতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি আশাব্যঞ্জক ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন অংশীদার এবং বাংলাদেশের প্রকল্প স্পন্সরদের মধ্যে অনুরূপ অংশীদারি ইডকলের ‘অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’-এর মাধ্যমে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।









