ময়মনসিংহের ভালুকায় আলোচিত দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রিপন সরকারের ছেলে তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়নগঞ্জের বন্দর থানাধীন মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. রবিন (৩৭)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে মারধর ও মরদেহের ওপর অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলেন এবং জনতাকে বর্বরোচিত হামলায় উৎসাহিত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২৯ জন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। দীপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দীপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে দীপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে বিবস্ত্র করে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।
দীপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।






