মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ২৭১ কিলোমিটার জনপদ নিজেদের দখলে থাকার পরও স্বস্তিতে নেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। তাদের দখলে ভাগ বসাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। দখলকৃত ভূখণ্ড অক্ষুণ্ন রাখতে আরাকান আর্মিকে নিয়মিত লড়তে হচ্ছে এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে।
রাখাইনের দখল নিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর লড়াইয়ে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন সময়ে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে।
রাখাইনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে একাধিকবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তের এপারে গুলি ও মর্টার শেল পড়ে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সব শেষ মায়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হুজাইফা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।
এদিকে গত ১৮ মে দুপুরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা সংলগ্ন নাফ নদের ওপারে রাখাইনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সে সময় নাফ নদে মাছ শিকারে থাকা আতঙ্কে দ্রুত নাফ নদ ত্যাগ করেন। আজ মঙ্গলবার সকালেও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং এলাকার বিপরীতে রাখাইনে দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়েনি।
উনচিপ্রাং এলাকার জেলে আব্দুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার নাফনদে মাছ ধরার সময় মায়ানমারে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড মতো গুলির শব্দ শোনা গেছে। সম্ভবত গোলাগুলির এসব ঘটনা মায়ানমারের অভ্যন্তরে তিন-চার কিলোমিটার পূর্বে হতে পারে। এ কারণে আগের মতো বিকট কোনো শব্দ এবার শোনা যায়নি।
টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, মাঝেমধ্যে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের বিপরীতে মায়ানমারে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আমরা যা জেনেছি, এখন রাখাইনের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রক আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসা এবং আরএসওর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আমাদের সীমান্তেও আতঙ্ক বিরাজ করে।
বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, মায়ানমারের জান্তা বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইনের গুরুত্বপূর্ণ শহর মংডুসহ বেশির ভাগ এলাকা আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে তারাও আপাতত সেখানে স্বস্তিতে নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে জান্তা বাহিনী নীরব থাকলেও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলো রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিতে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ সংঘাত আরো দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।





