• ই-পেপার

সিদ্ধিরগঞ্জে অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার, বাবাসহ গ্রেপ্তার ৩

বাঞ্ছারামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি : সভাপতি দুধ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ রিপন

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
বাঞ্ছারামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি : সভাপতি দুধ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ রিপন
দুধ মিয়া (বাঁয়ে) ও মোশারফ হোসেন রিপন। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আওতায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি দীর্ঘদিন পর উপজেলায় গঠন করা হলো।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক রিজিয়া খাতুন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। 

নতুন গঠিত এ কমিটির সভাপতি হলেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুধ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও সংগঠক এ কে এম মোশাররফ হোসেন রিপন।

এ ছাড়া ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্যরা হলেন সহসভাপতি মো. মোবারক হোসেন নাছিম ও লক্ষ্মী রানী এবং সদস্য ৫ জন হলেন ড. অহিদুজ্জামান, আব্দুল মতিন, শাহাজাহান, সাবেক প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী লাকী এবং নারী উদ্যোক্তা মুন্নি বেগম।

কমিটি মেয়াদকাল থাকবে তিন বছর। কমিটির কর্ম এলাকা থাকবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা।

নতুন সভাপতি দুধ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন রিপন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে শিগগিরই মাঠে নামব। আমরা দন্তহীন বাঘ হয়ে থাকতে চাই না।

যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১

যশোর অফিস
যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১
প্রতীকী ছবি

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ঝন্টু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আশানুর রহমান নামে আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
 
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে উপজেলার মাড়ুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ঝন্টু (৩২) উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে। আহত আশানুর রহমান (৩৫) একই গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। 

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ঝন্টুর মামাতো বোন তামিমা আক্তার জুঁই (১৪) অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে উপজেলার দক্ষিণ সাগর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে আবু উবাইদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনের সঙ্গে ঝন্টু ও আশানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবু উবাইদ ও তার সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে ঝন্টু ও আশানুরকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঝন্টুর বুকের বাম পাশে দুটি এবং আশানুরের বুকের মাঝখানে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা ইয়াসমিন জ্যোতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঝন্টুকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, আহত আশানুর রহমানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন মোশাররফ খান চৌধুরী

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন মোশাররফ খান চৌধুরী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ‘কবি নজরুল স্মারক সম্মাননা’ পেয়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান ও আমেরিকা প্রবাসী শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যকলা কেন্দ্রের সেমিনার হলরুমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘পূবের হাওয়া’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাচী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘পূবের হাওয়া’ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদ।

সম্মাননা গ্রহণ শেষে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিচারপতি সিকদার মকবুল হকের সভাপতিত্বে এবং  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের মহাসচিব মিলন মল্লিকের সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন, প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এমপি, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী দীর্ঘ ৪৪ বছর প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয়) কলেজ’ অন্যতম।

দীপু দাস হত্যায় আরো তিন আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
দীপু দাস হত্যায় আরো তিন আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় আলোচিত দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরো তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রিপন সরকারের ছেলে তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়নগঞ্জের বন্দর থানাধীন মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. রবিন (৩৭)।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে মারধর ও মরদেহের ওপর অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলেন এবং জনতাকে বর্বরোচিত হামলায় উৎসাহিত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২৯ জন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। দীপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দীপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে দীপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে বিবস্ত্র করে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন। 

দীপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।