• ই-পেপার

আমদানির তিন গুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে খেজুর

২০২০ সালের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
২০২০ সালের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০২০ সালের পর তেলের মূল্যে এটিকে সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে। মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় পতনের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৬৪ ডলারে। সপ্তাহের শুরুতে এর দাম ৯৪ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে এই ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একটি শান্তিচুক্তির খসড়া মিত্র দেশগুলোর কাছে পাঠানোর পর।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত না হলেও চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।

গত ৯০ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষক হেনরি অ্যালেন বলেছেন, বাজারে সংঘাত শেষ হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ বাড়ছে। তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে তেলের দাম কমার ইতিবাচক প্রভাবে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৭ শতাংশ বাড়লেও, মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা মন্থর। দেশটির সাংহাই সিএসআই ৩০০ সূচক কমেছে ০.৪৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, দেশে ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, দেশে ভরি কত?

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। টানা পতনে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর, শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খবর গালফ নিউজখালিজ টাইমস

দুবাইয়ের বাজারে শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫৪৪.০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাজার বন্ধের সময় ছিল ৫৪১.২৫ দিরহাম। এর আগে গত ২৭ মে এর দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫৩৭.০ দিরহামে নেমেছিল।

অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে প্রতি গ্রাম ৫০৩.৭৫ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৪৮৩.০ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট ৪১৪.০ দিরহাম এবং ১৪ ক্যারেট সোনা ৩২৩.০ দিরহামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) ২২ ক্যারেট সোনার দামও ৫০০ দিরহামের নিচে নেমে গিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আজ ০.২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১১ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ১৬.৩৭ পয়েন্ট বা ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫১৮.২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রুপার বাজার আজ স্থিতিশীল ছিল, প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ৭৫.৭২ ডলারে।

সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা মনে করেন, কারিগরি দিক থেকে সোনার বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে ক্যাপিটাল ডট কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাথর্ন কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক বড় পতনের পর বাজার এখনো কিছুটা ভঙ্গুর। বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনা কিছুটা চাপের মুখেও রয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

ইরান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এর ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী বছর পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ শুরু করেছেন, যার ফলে সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ে বিনিয়োগের চাহিদা কিছুটা কমেছে।

ঈদের দিন বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম, দেশে কোনটার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের দিন বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম, দেশে কোনটার ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে—এমন খবরের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার বেড়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিনের শুরুতে দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে পরে মার্কিন ডলার ও তেলের দাম কমায় দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় স্বর্ণের বাজার। খবর রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৭ ডলার ৫৯ সেন্টে উন্নীত হয়। এর আগে গত মার্চের পর এটিই ছিল স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৭৫ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তিটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই খবরের পর বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের সূচক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। ডলারের দাম কমায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য প্রকাশিত অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, দেশটিতে গত এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। মার্চ মাসে এই সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও এপ্রিলে তা মাসভিত্তিক হিসাবে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আর নাও বাড়াতে পারে—পিসিই উপাত্তে এমন আভাস পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন।

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই অং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘আজ স্বর্ণের বাজারে যেন কোনো দৈবশক্তি ভর করেছে। প্রথমত, মার্কিন পিসিই সূচকের ইতিবাচক উপাত্ত এবং দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি আসন্ন চুক্তির খবর—সব মিলিয়ে স্বর্ণের বাজারে একটি বড় স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক মনে করেন, ফেডারেল রিজার্ভ এবার সুদের হার বাড়ানোর চেয়ে বর্তমান হার ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম একধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক সংকটে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, সুদের হার বাড়লে এই মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বা সুদ পাওয়া যায়—এমন বন্ড বা সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

সিটি ইনডেক্সের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ড (সরকারি বন্ডের মুনাফা) একসঙ্গে শক্তিশালী হচ্ছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৮ ডলারে উঠেছে। তবে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০২ দশমিক ৬৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ১০ ডলারে নেমেছে।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল সোনা-রুপার দাম

অনলাইন ডেস্ক
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্রুত সমাধানের আশা ম্লান হয়ে গেছে। আর এর জের ধরেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৪ দশমিক ১৬ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে সোনার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৫০ ডলারে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ইরান অভিযোগ করে, বিতর্কিত হরমুজ প্রণালির কাছে বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএম’র জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির আশা ম্লান হতে থাকায় সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৪৫০ ডলারের সাপোর্ট লেভেলের কাছাকাছি চলে এসেছে। এর বাইরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জন বাজারে সোনার দাম আরো কমিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে ফেড দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে। আর এমনটা হলে সোনার বাজারে আরো বড় ধরনের দরপতন ঘটতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত মূল্যস্ফীতির বাজারে সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বা সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ফেড যদি সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে লভ্যাংশহীন ধাতু সোনার ওপর চাপ বাড়ে এবং এর দাম কমে যায়।

তবে জার্মান ব্যাংক কমার্সব্যাংক তাদের এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা প্রশমন সোনার দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর এই কারণেই আমরা আশা করছি যে চলতি বছরের শেষের দিকে সোনার দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯২৭ দশমিক ০৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

আমদানির তিন গুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে খেজুর | কালের কণ্ঠ