kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চলতি অর্থবছরে ২৭৭ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চলতি অর্থবছরে ২৭৭ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সরকারের বিদেশি ঋণ। বাড়ছে সুদসহ ঋণ পরিশোধের চাপও। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছিল ১১২ কোটি ডলার। পাঁচ বছর পর বিদেশি ঋণ পরিশোধের এ চাপ দ্বিগুণ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে সরকারকে সুদসহ ২৭৭ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। আর দুই অর্থবছর পর এর পরিমাণ ৪০২ কোটি বা চার বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের এ চিত্র উঠে এসেছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে। ‘ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স ম্যানেজমেন্ট; প্রেজেন্ট সিনারিও’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে দেশের সরকারি খাতে বিদেশি ঋণের স্থিতি ৫৬.৬৬ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার ৬৬৬ কোটি ডলার। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক ঋণসংক্রান্ত প্রতিবেদন ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৯৩.২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬৮.২৫ বিলিয়ন ডলারই ছিল সরকারি খাতের ঋণ। সরাসরি সরকারের নেওয়া বিদেশি ঋণ ছিল ৫৬.৭৪ বিলিয়ন ডলার, যার পুরোটাই দীর্ঘমেয়াদি। বাকি ১১.৫০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ নিয়েছে সরকারি কম্পানিগুলো। মার্চ শেষে দেশের বেসরকারি খাতের নেওয়া বিদেশি ঋণের স্থিতি ২৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল ১৬৯.৪৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১১১.৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতির পরও ছাড় হয়নি, এমন বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৪৮.৫৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি বিদেশি ঋণের স্থিতি ৫৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার। এ ঋণের ৪০ শতাংশ দ্বিপক্ষীয়। বাকি ৬০ শতাংশ ঋণ এসেছে বহুপক্ষীয় বিভিন্ন সংস্থা থেকে। ইআরডি বলছে, সরকারের নেওয়া বিদেশি ঋণের গড় সুদহার ১.৫ শতাংশ। এ ঋণের গড় গ্রেস পিরিয়ড সাত বছর ছয় মাস। গড়ে আগামী ২৩ বছর দুই মাসের মধ্যে সব বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮.১৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে সরকার। একই সময়ে ১০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ ও অনুদান ছাড় হয়েছে।

ইআরডির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যই ৫৬.৬৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ নিতে হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার বিশ্বব্যাংক। বহুজাতিক সংস্থাটি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ঋণের ৩২.৩৩ শতাংশ একাই জোগান দিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩.৫২ শতাংশ ঋণের জোগান এসেছে এডিবি থেকে। এ ছাড়া জাপান ১৭.৭৯ শতাংশ, চীন ৮.৪১ শতাংশ, রাশিয়া ৮.৯৩ শতাংশ ও ভারত ১.৭৯ শতাংশ বিদেশি ঋণের জোগান দিয়েছে।

সেমিনারে বক্তব্যে বৈদেশিক ঋণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, বৈদেশিক ঋণে সুদ কম, পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে পরিশোধ করতে হয়। বৈদেশিক ঋণে সুদ শূন্য দশমিক ৭৫ থেকে দেড় শতাংশ। এ ঋণ পরিশোধ করার সময়টাও অনেক বড়। অনেক ঋণ আবার ৩১ বছরে পরিশোধ করতে হয়। আর দেশি ঋণ যদি ব্যাংক থেকে নেওয়া হয় তাহলে সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেওয়া লাগে। বিদেশে যদি কম সুদ পাই তাহলে নেওয়া উচিত। এখনো ৪৮ বিলিয়ন ডলার পাইপলাইনে আছে। এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার ২০২২ সালে পেয়েছি। যেহেতু সস্তায় ও দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি ঋণ পাওয়া যাচ্ছে, এ জন্য এ ঋণই নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা