বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ, জ্বালানিসংকট এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা মোকাবেলায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর নিউ ধানমণ্ডি কনভেনশন হলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি উঠে আসে। এতে ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।
সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিক্রি ও টার্নওভারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মাহমুদুন নবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব নুসরাত ফারজানা, ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বক্তব্য দেন। তারা ব্যবসা সহজীকরণ, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চাঁদাবাজি দমন, ট্রেড লাইসেন্স সেবা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে প্রণোদনা, নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি সুবিধা সম্প্রসারণ, রিয়েল এস্টেট খাতে করহার কমানো, চশমা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআইর সদস্য পদ সনদ প্রদান করা হয়।








