• ই-পেপার

দ্বাদশ নির্বাচনের তিন মাস : থামেনি আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-সংঘাত

মবের শাসনের বদলে আইনের শাসনে ফিরতে হবে : সাইফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মবের শাসনের বদলে আইনের শাসনে ফিরতে হবে : সাইফুল হক
ছবি : কালের কণ্ঠ

মবের শাসনের পরিবর্তে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতি আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিচারবিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, বিগত সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সে উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের কোনো তৎপরতা জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের কার্যকর নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মবের শাসনের পরিবর্তে আইনের শাসনে ফিরতে হবে। কোনো নির্বাচিত সরকারই মবতন্ত্রের কাছে জিম্মি হতে পারে না। বিচার বিভাগের ওপর জনআস্থা নষ্ট হলে সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। গত ১৭ বছর বিরোধী দলগুলো যে ধরনের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার দাবি করেছে, এখন সেই ধরনের বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সভায় গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। বিচার বিভাগের সচিবালয় গুটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকার-সমর্থকরা যদি আবার সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে। আইনজীবী সমিতির নির্বাচনগুলো যেভাবে একতরফাভাবে হচ্ছে, তা অতীতের পরিস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। তিনি সবাইকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট অনুরুদ্ধ সরকার, অ্যাডভোকেট পিয়াস মজুমদার ও মীর রেজাউল আলম।

সভা শুরুর আগে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

জামায়াতের মতো মোনাফেক দল পৃথিবীতে আর জন্ম হয়নি : ফজলুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের মতো মোনাফেক দল পৃথিবীতে আর জন্ম হয়নি : ফজলুর রহমান
সংগৃহীত ছবি

জামায়াতের মতো মোনাফেক, দুষ্ট ও শয়তান রাজনৈতিক দল পৃথিবীতে আর জন্মগ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের বিরুদ্ধেই বলছি। যারা ঈমানদার ও ভালো মাওলানা তাদের এক শ সালাম। তবে এদের থেকে সাবধান থাকবেন।’

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান, মন্দির ও শ্মশানের জন্য। কোনো ধর্মস্থান টাকা না পেলে জানাবেন। আরা যারা পায়নি তার আগামী বরাদ্দে প্রথমে পাবেন।’

ইতিহাস কোনো নির্বাচনী স্লোগান নয়

অনলাইন ডেস্ক
ইতিহাস কোনো নির্বাচনী স্লোগান নয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম এখন আর শুধু ইতিহাসের বইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রতিফলন ঘটছে সংসদে, রাজনৈতিক সমাবেশে, টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ও সমাজমাধ্যমে। ১৯৭১ সালের অনেক পরে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের কাছে এ লড়াই এখন আর স্বাধীনতার জন্য নয়, বরং ঐতিহাসিক সত্যের জন্য। এ কারণেই শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক অঙ্গীকারটি নিছক একটি প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি জাতির সম্মিলিত স্মৃতি সংরক্ষণের একটি প্রয়াস।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যাঁরা লড়াই করেছেন তাঁদের একটি যাচাইকৃত তালিকা তৈরির সরকারি অঙ্গীকার তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিটি জাতি তার বীরদের একটি নির্ভুল বিবরণ দিতে দায়বদ্ধ। যখন ইতিহাসকে রাজনীতিকরণ করা হয় তখন সত্যই তার প্রথম শিকার হয়। এ উদ্যোগটির কাল তাৎপর্যপূর্ণ। গত দুই বছরে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার বারবার চেষ্টা করেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিল না। বরং যে পরিস্থিতিতে এটি অর্জিত হয়েছিল তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, একটি অবিভক্ত পাকিস্তানের জন্য জামায়াতের অবস্থান ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের মতোই!

অতি সম্প্রতি জামায়াত আমির উল্লেখ করেন যে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার থেকে এসেছেন। অন্যদিকে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ঘোষণা করেন, ‘আমাদের সন্দেহের চোখে দেখবেন না। আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধা সমর্থক ছিলাম।’ ব্যক্তিদের শুধু তাদের পারিবারিক পটভূমি বা ব্যক্তিগত পরিচয় দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস দিয়ে বিচার করতে হবে। এখানেই জামায়াতের সমালোচকরা যুক্তি দেন যে ১৯৭১ সালে দলটি তার ভূমিকার বিষয়ে এখনো পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি। ঐতিহাসিক বিবরণ সুস্পষ্ট। একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছিল। একটি অবিভক্ত পাকিস্তান বজায় রাখার পক্ষে ছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদও, আলশামসের মতো সংগঠনের মাধ্যমে অসংখ্য নেতা ও কর্মী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা করেছিলেন। এ সহায়ক শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত কিছু ভয়াবহতম নৃশংসতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। যার মধ্যে ছিল বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করে হত্যা, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা, ধর্ষণ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী, মহাসচিব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এ দণ্ডাদেশগুলো ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়বদ্ধতার বিষয়টি সমাধান করলেও এগুলো ১৯৭১ সালে দলের নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিবরণকে আরও শক্তিশালী করেছে। সংসদ সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাস করার মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক বোঝাপড়াকেই পুনর্নিশ্চিত করেছে; যা তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটিকে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে চলেছে। জামায়াত এই বিধানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিএনপি নেতারা পৃথকভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক বিরোধিতা সত্ত্বেও নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো বিবর্তিত হতে পারে। গণতন্ত্রে আদর্শগত রূপান্তর এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু প্রকৃত মীমাংসা সততার মাধ্যমেই শুরু হয়। কোনো গণতান্ত্রিক সমাজই তার অতীতের বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো নতুন করে লিখে নিজেকে শক্তিশালী করে না। ঐতিহাসিক জবাবদিহিতা মানে চিরস্থায়ী শাস্তি নয়; এর অর্থ হলো নথিভুক্ত সত্যকে স্বীকার করে নেওয়া। এ বিষয়টি বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজকের অধিকাংশ ভোটারই ১৯৭১ সালের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেননি। তাদের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নীতি, যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রূপকল্পের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা। তবু সচেতন গণতান্ত্রিক পছন্দের জন্য এও বোঝা প্রয়োজন যে দলগুলো তাদের নিজেদের ইতিহাস কীভাবে উপস্থাপন করে। যে রাজনৈতিক সংগঠন সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য স্বীকার করতে সংগ্রাম কওে, তা অনিবার্যভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সুতরাং শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রশাসনিক নির্ভুলতার চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক আখ্যানের পরিবর্তে প্রকৃত সত্য উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। সুতরাং শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা কেবল প্রশাসনিক নির্ভুলতার চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি থেকে রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক বয়ানের পরিবর্তে প্রকৃত সত্য পায়, তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। যে প্রজন্ম স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, তারা ধীরে ধীরে মশাল হস্তান্তর করছে। ১৯৭১ সালের সত্য রক্ষা করার দায়িত্ব এখন ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের ওপরই বর্তাচ্ছে, যারা সেই সময়ের সাক্ষী ছিল না। বাংলাদেশিরা ক্ষমা, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক নবায়নে বিশ্বাস রাখতে পারে। কিন্তু সেই মূল্যবোধগুলো ঐতিহাসিক সত্যের বিনিময়ে আসতে পারে না। যতক্ষণ না জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করছে এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেই ইতিহাসের মুখোমুখি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বহু বাংলাদেশি এ প্রশ্ন তুলতেই থাকবে যে দলটি তাদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না?

কিশোর-তরুণদের হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
কিশোর-তরুণদের হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই : রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই। যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার আবার দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ থাকতে পারে না। 

আজ শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নানা চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। অথচ ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলেও তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তবে কোনো অন্যায় চাপের কাছে তিনি মাথানত করেননি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের যে উত্তরাসূরি রাজনীতি তাদের তো আনতে হবে। টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খানকে মানুষ রক্তপিপাসু বলে জানত, শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছেন? শেখ হাসিনা যে কি নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন হবে কিভাবে? ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাদের রক্তের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। তাহলে রাজনীতিতে কিভাবে ফিরে আসা সম্ভব? হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।

রিজভী বলেন, ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রতিরোধের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনেও মানুষ অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান।

রিজভী বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। 

দ্বাদশ নির্বাচনের তিন মাস : থামেনি আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-সংঘাত | কালের কণ্ঠ