বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই, আমি ক্ষুধার তাড়নায় মাটির সঙ্গে গড়াগড়ি করতাম এবং পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। এভাবে একদিন আমি মানুষের চলার রাস্তায় বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর মহানবী (সা.) এসে আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি আমার মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমার পেছনে পেছনে আসো। আমি তাঁর পিছু পিছু তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করার পরে আমার প্রবেশের অনুমতি (তাঁর স্ত্রীদের কাছে) চাইলেন। তারা আমাকে অনুমতি দিলে আমি প্রবেশ করলাম।
মহানবী (সা.) ঘরে ঢুকে এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাস করলেন, এ দুধ আসলো কোথা থেকে? জবাবে তারা বললেন, অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, আবু হির, (হে আবু হুরাইরা) আমি বললাম, লাব্বাইক (আমি উপস্থিত) ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, সুফফাবাসীদের কাছে গিয়ে তাদের ডেকে নিয়ে আসো। আর আহলে সুফফারা ইসলামের মেহমান ছিলেন, তাঁদের কোনো থাকার মতো ঘর-বাড়ি ছিল না। তাদের কোনো পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ কিছুই ছিল না।
মহানবী (সা.)-এর কাছে কোনো সাদাকাহের জিনিস এলে, তিনি তা সুফফাবাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সাদাকাহ থেকে মহানবী (সা.) কখনোই কোনো কিছু নিতেন না। আবার কোনো কিছু হাদিয়া আসলেও তিনি সেটা তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। হাদিয়ার জিনিস থেকে মহানবী (সা.) নিজে গ্রহণ করতেন এবং অন্যকেও দিতেন। তো, তিনি আমাকে সুফফাবাসীকে ডাকার জন্য বললেন। তখন আমার মনে সংকোচ হলো।
আমি (মনে মনে) বললাম, এই অল্প দুধ সবার জন্য কি যথেষ্ট হবে? তা ছাড়া এই দুধের অধিক হকদার হলাম আমি। এই দুধ পান করে একটু শক্তিশালী হবো। আহলে সুফফারা উপস্থিত হওয়ার পর, তাদের পান করার জন্য মহানবী (সা.) আমাকে আদেশ করবেন। তারপর তাদের পান করানোর পরে কতটুকুই-বা বাকি থাকবে! তা ছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথা মানা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।
তাই আমি তাদের কাছে এসে তাদের ডাকতে লাগলাম। তারা এসে অনুমতি চাইল, অনুমতি পেয়ে সবাই নিজ-নিজ জায়গায় বসে পড়লেন। এবার মহানবী (সা.) বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, পাত্রটি নিয়ে তাদের একেকজনকে দাও। ফলে আমি এক-একজনকে দিতে লাগলাম। প্রথমজন তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি ফেরত দিলেন। অতঃপর আমি অন্য একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এরপরে আরেকজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এভাবে সবার পালা শেষ করে আমি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে উপস্থিত হলাম। সবাই তৃপ্তিসহকারে পান করতে পেরেছে। এরপরে মহানবী (সা.) পাত্রটি নিয়ে তাতে নিজ হাত রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, এখন তো তুমি আর আমি বাকি। আমি বললাম, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, তুমি এবার বসে পান করতে থাকো। আমি বসে-বসে পান করতে লাগলাম। তিনি আবার বললেন, পান করো। ফলে আমি আবার পান করতে থাকলাম। তিনি আমাকে বারবার পান করার কথা বললে আমি বললাম, আর পারছি না। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, পান করার মতো আমার পেটে আর কোনো জায়গা ছিল না। অবশেষে তিনি বললেন, পাত্রটি আমাকে দেখাও। আমি পাত্রটি মহানবী (সা.)-এর কাছে দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে 'বিসমিল্লাহ' বলে বাকি দুধ পান করে নিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৫২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১০৬৭৯)




