মদিনার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে কুবার ‘আরিস কূপ’ (বিরে আরিস) বিশেষভাবে স্মরণীয়। ইসলামের ইতিহাসে এই কূপটি একদিকে যেমন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যবহৃত মোহরখচিত আংটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার সাক্ষী, অন্যদিকে তেমনি এটি প্রথম তিন খলিফা আবু বকর (রা.), ওমর (রা.) এবং ওসমান (রা.)-কে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়ার পবিত্র স্মৃতি বহন করে।
সৌদি বিশ্বকোষে উল্লেখ অনুযায়ী, মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে বিখ্যাত কূপগুলোর অন্যতম হলো আরিস কূপ। নবীজির আংটি এখানে পতিত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই এটি ‘বিরে খাতাম’ (আংটির কূপ) নামেও পরিচিতি লাভ করে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আরিস কূপের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি পর্যায়ক্রমে আবু বকর (রা.), ওমর (রা.) এবং ওসমান (রা.)-কে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন।
প্রত্যেককে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন। তবে ওসমান (রা.)-এর ক্ষেত্রে তিনি এটিও জানান যে তিনি ভবিষ্যতে একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন, কিন্তু সে অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৬৯৫, ৩৬৯৭)
যে আংটি ছিল রাষ্ট্রীয় সিলমোহর
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আংটিটি ছিল রুপার তৈরি। এতে তিন লাইনে খোদাই করা ছিল ‘মুহাম্মদ, আল্লাহর রাসুল।’ বিদেশি শাসকদের কাছে পাঠানো সরকারি চিঠি ও রাষ্ট্রীয় দলিলে এই আংটির ছাপ সিলমোহর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আংটিটি যথাক্রমে আবু বকর (রা.), ওমর (রা.) এবং পরে ওসমান (রা.)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।
যেভাবে হারিয়ে যায় ঐতিহাসিক সেই আংটি?
ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ওসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে আনুমানিক ৩০ হিজরি সালে আরিস কূপের পাশে অবস্থানকালে অসাবধানতাবশত আংটিটি তাঁর হাত থেকে কূপে পড়ে যায়। এরপর কয়েক দিন ধরে কূপের পানি তুলে এবং ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও আংটিটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটি ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনারূপে স্থান পেয়েছে। তাই আজও আরিস কূপ মুসলিমদের কাছে গভীর ঐতিহাসিক ও আবেগঘন স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিবেচিত।
আরিস কূপের গুরুত্ব
ইসলামের ইতিহাসে আরিস কূপ মহানবী (সা.)-এর জীবন, তাঁর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের স্মৃতিবিজড়িত এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। তাই যুগে যুগে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও মুসলিম দর্শনার্থীদের কাছে এই কূপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং মদিনার ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।




