• ই-পেপার

বিশ্বসেরা ইসলামী ব্যাংকের পুরস্কার পেল কাতারের যে ব্যাংক

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ জুন ২০২৬

আজ শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৮ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জুমার সময় শুরু ১২টা ০০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৬ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৭ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১২ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১১ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই

শায়খ আহমাদুল্লাহ
আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই

শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠন করা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই দেখছি অনেক মানুষ উচ্চশিক্ষিত হলেও সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলি তাদের মধ্যে অনুপস্থিত। সম্প্রতি মিরপুরে এক বৃদ্ধা মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যুর আলোচিত ঘটনাটি এর একটি বাস্তব উদাহরণ। অথচ তাঁর প্রত্যেক সন্তানই উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত।

মানবিকতা ও নৈতিকতার এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ আমাদের বস্তুবাদী শিক্ষাব্যবস্থা। এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের যতটা ক্যারিয়ারমুখী ও ভোগবাদী হতে শেখায়, ততটা মানবিক হতে শেখায় না। ফলে দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যত দিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, তত দিন এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আমাদের সমাজে ঘটতেই থাকবে।

এ ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী পিতা-মাতাও। কারণ আমরা অনেক সময় সন্তানদের অতিরিক্ত ক্যারিয়ারনির্ভর ও আত্মকেন্দ্রিক করে গড়ে তুলি। অথচ মনে রাখা দরকার, সন্তানদের যতই বৈষয়িকভাবে সচ্ছল করে তুলি না কেন, যদি দীন ও নৈতিকতার শিক্ষা তাদের না দিই, তবে তারা কখনো প্রকৃত মানুষ হয়ে বেড়ে উঠবে না। তারা হয়তো বিপুল সম্পদের মালিক হবে, কিন্তু প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি লাভ করবে না।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সম্পদের প্রাচুর্যই প্রকৃত সচ্ছলতা নয়; বরং প্রকৃত সচ্ছলতা হলো অন্তরের সচ্ছলতা’ (বুখারি)। যার অন্তর সচ্ছল ও পবিত্র, সেই প্রকৃত সচ্ছল মানুষ। কারও বাহ্যিক সচ্ছলতা না থাকলেও যদি তার অন্তর সচ্ছল হয়, তবে সে মানসিকভাবে অনেক বেশি সুখী ও প্রশান্ত থাকবে।

ইসলাম প্রতিটি মানুষকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল হতে নির্দেশ করেছে। প্রত্যেক মানুষই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে, সন্তান জিজ্ঞাসিত হবে পিতা-মাতার হক আদায়ের ব্যাপারে। স্বামী তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, স্ত্রীও জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে। এভাবে প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

যখন প্রত্যেক দায়িত্বশীল নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে, তখনই মূলত একটি সুন্দর পরিবার ও সমাজ বিনির্মিত হবে। নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সততার গুণ অর্জনের জন্য কেবল উচ্চশিক্ষিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য দরকার দীন ও নৈতিক শিক্ষা। উচ্চশিক্ষা অর্জন করা অবশ্যই জরুরি; কিন্তু তার আগে মানবিক মূল্যবোধ, উত্তম চরিত্র, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির শিক্ষায় নিজেকে গড়ে তোলা অপরিহার্য। কারণ এসব গুণই মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানুষ করে তোলে।

নয়তো শুধু উচ্চশিক্ষাই যদি মানুষ গড়ার জন্য যথেষ্ট হতো, তাহলে শিক্ষিত সন্তানদের হাতে পিতা-মাতা অবহেলিত হতেন না, বৃদ্ধাশ্রমগুলো পূর্ণ হতো না এবং সমাজে এত নৈতিক অবক্ষয়ও দেখা যেত না। প্রকৃত শিক্ষা সেই শিক্ষা, যা মানুষকে কেবল বৈষয়িক দক্ষতায় দক্ষ করে গড়ে তোলে না, বরং দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বানানোর আগে প্রকৃত মানুষ হওয়ার পাঠ দেওয়া জরুরি।

মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে’ (সুরা ফাতির)। অর্থাৎ প্রকৃত জ্ঞানী তারা যারা আল্লাহভীরু, সৎ ও বিনয়ী। আর যারা আল্লাহকে সর্বক্ষেত্রে ভয় করে তারা সব জায়গায় মানবিকতা ও সততার পরিচয় দেয়। একটি সুন্দর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য মানবিক এবং তাকওয়াবান মানুষের বিকল্প নেই। অর্থাৎ এমন মানুষ, যারা অন্যের কষ্ট অনুভব করবে, সত্যকে ধারণ করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাহসী হবে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করবে। শিক্ষা তখনই সফল হবে, যখন তা মানুষের অন্তরে নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো জ্বালাতে সক্ষম হবে।

অতএব আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে প্রকৃত মানুষ হই। কারণ মানবিকতা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ শিক্ষাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি উত্তম চরিত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা গড়ে তোলা। তাহলেই আমরা সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত এবং প্রকৃত মানুষ হতে পারব।

♦ জুমার মিম্বর থেকে

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম

কবরের আযাব ও ফিতনা থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল

অনলাইন ডেস্ক
কবরের আযাব ও ফিতনা থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল
সংগৃহীত ছবি

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফর শেষে প্রত্যেককে মৃত্যুর মধ্যদিয়ে অনন্তকালের আবাসস্থলে প্রবেশ করতে হবে। চিরসত্য মৃত্যুকে ঘিরে তাই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পেয়ে বসবেই (পাকরাও করবেই), যদিও তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গের মধ্যে অবস্থান করো। (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)

এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর আখিরাতের প্রথম ধাপই হলো কবর। আর এই কবরেই দুই ফেরেশতা মুনকার ও নাকিরের প্রশ্নের জবাবের ওপর নির্ভর করে মুমিন ও নেককার বান্দারা আযাব থেকে মুক্ত থাকবেন। অন্যদিকে গুনাহের ভাগীদারদের জন্য কবরের আযাব নির্ধারিত হবে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফিৎনা এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখীন হবে। (সুনান আন নাসায়ী, হাদিস: ২০৬৯)

এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে যেমন নবীজি (সা.) নানা আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন উত্তম আমলের মাধ্যমে আখিরাতে সফল হওয়ার রাস্তা। এর মধ্যে একটি হাদিসে ছোট্ট একটি আমলের কথা এসেছে, যেটি আখিরাতের প্রথম ধাপ কবরের আযাবের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো, একবার এক সাহাবী একটি কবরের ওপর নিজের তাঁবু স্থাপন করেন। তখন তিনি ধারণা করতে পারেননি যে, সেটি একটি কবর। একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি অনুভব করেন, কবরে একজন লোক সুরা মূলক তিলাওয়াত করছেন। অবশেষে তিনি তা পাঠ করে শেষ করেন। পরে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা.), আমি এক স্থানে আমার তাঁবু ফেলি। আমার ধারণা ছিল না যে, এটি একটি কবর। পরে হঠাৎ অনুভব করি একজন লোক সুরা মুলক তিলাওয়াত করে খতম করলেন।

জবাবে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি হলো প্রতিরোধক। এটি হলো মুক্তিদায়ক। এ কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়। এ কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯০)

আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, ৩০ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনের একটি সুরা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই সুরা পাঠ করে তাহলে সুরাটি তার জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে মাফ করে দেয়া হবে। সুরাটি হলো ‘তাবারাকল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪০০)

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর যে পাঁচ আমল করবেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর যে পাঁচ আমল করবেন
সংগৃহীত ছবি

নামাজ একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি বান্দাকে তার রবের সঙ্গে সংযুক্ত করে, হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখে। কিন্তু অনেকেই সালাম ফিরিয়ে দ্রুত উঠে পড়েন, অথচ নামাজ-পরবর্তী কয়েকটি মুহূর্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক মূল্যবান সুযোগ। মহানবী (সা.) শুধু নামাজ আদায় করেই থেমে যেতেন না; বরং নামাজের পরও কিছু আমল নিয়মিত পালন করতেন। এসব আমল মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে, গুনাহ ক্ষমার কারণ হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সহজ করে দেয়। আমলগুলো হলো—

১. ইস্তিগফার পাঠ করা : মহানবী (সা.) সালাম ফিরানোর পর তিনবার ইস্তিগফার করতেন।

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহ’।

অর্থ : ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ 

হাদিস : মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দেন, প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১৫১৮)


২. তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করা : মহানবী (সা.) বলেছেন,

مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبَّرَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ... غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৯৭)

এরপর পড়া উত্তম :

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’

অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই, সমস্ত রাজত্ব ও সকল প্রশংসা তার। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’


৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা : মহানবী (সা.) (সা.) বলেছেন,

مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا الْمَوْتُ

‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (নাসায়ি, হাদিস নং : ৯৯২৮)

আয়াতুল কুরসি হলো-

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তাখুজুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বিইজনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।’

অর্থ : ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক ও রক্ষক। তাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার। কে আছে এমন, যে তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে? তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে। আর তার জ্ঞানের কোনো অংশই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান ততটুকু ছাড়া। তার কুরসি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি সর্বোচ্চ, মহান।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

৪. দোয়া ও মোনাজাত করা : নামাজের পরের সময় দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম উত্তম সময়। এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দোয়া বেশি কবুল হয়? তিনি বললেন—

جَوْفُ اللَّيْلِ الْآخِرِ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ

‘রাতের শেষ অংশে এবং ফরজ নামাজের পর করা দোয়া।’ (তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস নং : ১৬৪৮)

তাই নামাজের পর নিজের, পরিবারের, উম্মাহর এবং আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত।

৫. কিছুক্ষণ মুসাল্লায় অবস্থান করা : অনেকেই নামাজ শেষে তাড়াহুড়া করে চলে যান। অথচ কিছুক্ষণ বসে জিকির-আজকার করা বিরাট সওয়াবের কাজ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে যে,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফির লাহু, আল্লাহুম্মারহামহু।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন।’

যতক্ষণ ব্যক্তি নামাজের স্থানে অজু অবস্থায় অবস্থান করে ফেরেশতারা তার জন্য এভাবে দোয়া করতে থাকেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৪৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৪৯)

ফরজ নামাজ মুমিনের ওপর দায়িত্ব ও আবশ্যক, কিন্তু নামাজ-পরবর্তী আমলগুলো সেই দায়িত্বকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। মাত্র কয়েক মিনিটের ইস্তিগফার, তাসবিহ, আয়াতুল কুরসি, দোয়া এবং মুসাল্লায় কিছুক্ষণ অবস্থান—এসব আমল একজন মুমিনের ইমানকে শক্তিশালী করে, গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং জান্নাতের পথকে সহজ করে দেয়।

তাই আজ থেকেই সংকল্প করি—সালাম ফিরিয়েই যেন ইবাদতের সমাপ্তি না ঘটে; বরং নামাজের পরের এই বরকতময় মুহূর্তগুলোকে আল্লাহর স্মরণে, ক্ষমা প্রার্থনায় এবং দোয়ায় সমৃদ্ধ করি। মনে রাখুন, অনেক সময় নামাজের পরের কয়েক মিনিটই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন। 

বিশ্বসেরা ইসলামী ব্যাংকের পুরস্কার পেল কাতারের যে ব্যাংক | কালের কণ্ঠ