• ই-পেপার

প্রতিটি মুহূর্তে গুনাহে লিপ্ত রাখে লিভ টুগেদার

নবীজি (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত করেছেন

অনলাইন ডেস্ক
নবীজি (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত করেছেন
সংগৃহীত ছবি

পরকালে সফল হতে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে গুনাহ বা পাপ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি উত্তম আমল করা জরুরি। কারণ, বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে পরকালে তার ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এজন্য ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর ‘পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হয়ে পরকালে সফল হতে মহান রবের হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তার দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি।

পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৭)

এক্ষেত্রে পরকালে যারা সফলকাম হবে তারা অনন্তকাল জান্নাতে বসবাস করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য পরকালে সফলকাম হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নবীজি (সা.) যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন উত্তম আমলের পথও। এরমধ্যে একটি হাদিসে ১০ শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে, খোদ নবীজি (সা.) যাদের লানত (অভিশাপ) করেছেন।

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- মদ সম্পর্কে ১০ শ্রেণির মানুষকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন। তারা হলো- মদ প্রস্তুতকারী, যে মদ প্রস্তুত করতে বলে, তা পানকারী, তা বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয়, যে তা পান করায়, বিক্রয়কারী, এর মূল্য গ্রহণকারী, যে মদ ক্রয় করে এবং যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৮)

৭০ বছরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা পাগড়ি দেবে ফরিদাবাদ মাদরাসা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
৭০ বছরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা পাগড়ি দেবে ফরিদাবাদ মাদরাসা
সংগৃহীত ছবি

ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন’ নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনিবার্য কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করে আগামী ১২ ও ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি, মোতাবেক ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ২০২৬ (সোম ও মঙ্গলবার) এবং ৮ ও ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে এই ঐতিহাসিক মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

দুই দিনব্যাপী এ মহাসম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গত ৭০ বছরে (১৯৫৬-২০২৬) জামিয়া থেকে শিক্ষা সমাপ্তকারী হাফেজ, কারি, আলেম ও মুফতিদের সম্মাননা পাগড়ি (দস্তার) প্রদান। দীর্ঘ সাত দশকের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।

মহাসম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে দ্বীনি শিক্ষা, সমসাময়িক বৈশ্বিক ও জাতীয় নানা ইস্যু, মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ এবং ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, মহাসম্মেলনকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জামিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (আবনা ও ফুযালা) মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার, ঐক্য সুদৃঢ় এবং জামিয়ার আদর্শ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের মুহিউদ্দীন জানান, মহাসম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই বর্ষভিত্তিক প্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বরের মহাসম্মেলন সফল করতে জামিয়ার বর্তমান ও সাবেক সব শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মুফতি আবু সাঈদ, জাতীয় সিরাত কমিটির সভাপতি মুফতি ইমাদুদ্দীন, তানযিমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদের সদস্যসচিব ও ইসলামী আলোচক মাওলানা হাসান জামিলসহ বিভিন্ন বর্ষের প্রতিনিধিরা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জামিয়ার শুভানুধ্যায়ী, মুহিব্বীন এবং আবনা-ফুযালায়ে কিরামের কাছে মহাসম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য দোয়া, সার্বিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ সাত দশকের শিক্ষা, ত্যাগ ও ইলমি ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে উঠতে যাচ্ছে এই ‘৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন’, যা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যেসব কারণে আল্লাহ বান্দার গুনাহ গোপন রাখেন

মুফতি ওমর বিন নাছির
যেসব কারণে আল্লাহ বান্দার গুনাহ গোপন রাখেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কেউ ছোট ভুল করে, কেউ বড় গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু চিন্তা করুন, আমাদের প্রতিটি গোপন পাপ যদি সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে যেত, তাহলে কি আমরা সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারতাম? হয়তো না। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী—সবার চোখে আমরা অপমানিত হতাম। এখানেই প্রকাশ পায় আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও রহমত। তিনি মানুষের প্রতিটি গুনাহ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেন না। বরং তিনি বান্দাকে সময় দেন, সুযোগ দেন, তওবার আহ্বান জানান এবং নিজের কাছে ফিরে আসার পথ খুলে রাখেন। এটি আল্লাহর ‘সাত্তার’ (দোষ-ত্রুটি গোপনকারী) সিফাতের এক অপূর্ব প্রকাশ।

যে ব্যক্তি এই রহমতের মূল্য বুঝে গোপনে তওবা করে, আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের গুনাহকে মানুষের সামনে গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করে, সে আল্লাহর দেওয়া পর্দাকে নিজেই ছিঁড়ে ফেলে।

১. আল্লাহ বান্দাকে অপমান নয়, সংশোধনের সুযোগ দিতে চান
আল্লাহ তাআলা মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই তিনি বান্দাকে প্রথম ভুলেই ধ্বংস করে দেন না; বরং ফিরে আসার সুযোগ দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থ : ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াত প্রমাণ করে, আল্লাহ চান না বান্দা হতাশ হয়ে যাক; বরং তিনি চান বান্দা তওবার মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করুক।

২. গুনাহ গোপন রাখা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ

অর্থ : ‘আমার উম্মতের সবাই আল্লাহর ক্ষমার আশা করতে পারে, তবে যারা প্রকাশ্যে গুনাহ করে (অথবা গুনাহ প্রকাশ করে) তারা ব্যতিত।’ এরপর তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি রাতে গুনাহ করল, আল্লাহ তা গোপন রাখলেন; কিন্তু সকালে সে নিজেই বলে বেড়াল— 'আমি গত রাতে অমুক গুনাহ করেছি।' অথচ আল্লাহ তার গুনাহ ঢেকে রেখেছিলেন, আর সে নিজেই আল্লাহর দেওয়া পর্দা সরিয়ে দিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯০)
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, গুনাহ গোপন রাখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় অনুগ্রহ।

৩. আল্লাহ চান বান্দা যেন তাঁর কাছেই ক্ষমা চায়
মানুষের কাছে নিজের অতীতের গুনাহ বলে বেড়ানোর কোনো উপকার নেই। প্রকৃত উপকার হলো—আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন,

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ : ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

৪. গুনাহ প্রকাশ করা কেন এত ভয়ংকর?
নিজের গুনাহ প্রকাশ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি—আল্লাহর দেওয়া গোপনীয়তার নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করে। গুনাহকে সাধারণ বা গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদের একই পাপের প্রতি উৎসাহিত করতে পারে। নিজের অন্তরের লজ্জাবোধ (হায়া) ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। তওবার পরিবর্তে গুনাহকেই নিজের পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলে। সমাজে অশ্লীলতা ও পাপের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই ইসলাম গুনাহকে প্রকাশ করতে নিরুৎসাহিত করেছে।

৫. গোপন তওবা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

 التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

অর্থ : ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তওবা করে, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই ছিল না।’ (সুনানে ইবন মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)
এটি আল্লাহর অসীম দয়ার প্রমাণ। আন্তরিক তওবা অতীতের পাপকে মুছে দেয়।

 ভুল হয়ে গেলে একজন মুমিন কী করবে?
যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে একজন মুমিনের করণীয়— গুনাহ গোপন রাখা। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা। ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। নেক আমলের মাধ্যমে জীবনের ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ

অর্থ : ‘নিশ্চয়ই সৎকাজ মন্দকাজকে দূর করে দেয়।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪)

আল্লাহ তাআলা আমাদের অপমান করতে চান না; তিনি চান আমাদের ক্ষমা করতে। তাই তিনি আমাদের অসংখ্য গুনাহ মানুষের চোখের আড়ালে রেখে দেন। এটি তাঁর অসীম দয়া, সহনশীলতা ও ভালোবাসার প্রকাশ। কিন্তু যদি আমরা নিজেরাই সেই পর্দা সরিয়ে মানুষের সামনে গুনাহের গল্প করি, তাহলে আমরা আল্লাহর দেওয়া এক মহান নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করি।

মনে রাখবেন, অতীতের গুনাহ নিয়ে মানুষের সামনে গল্প করার চেয়ে গভীর রাতে সিজদায় মাথা রেখে আল্লাহর কাছে কান্না করা অনেক বেশি সম্মানের, অনেক বেশি নিরাপদ। যে গুনাহ আল্লাহ গোপন রেখেছেন, সেটিকে আর প্রকাশ করবেন না। বরং গোপন পাপকে গোপন তওবার অশ্রু দিয়ে মুছে ফেলুন। কারণ আল্লাহ পাপের গল্প শুনতে ভালোবাসেন না—তিনি ভালোবাসেন অনুতপ্ত বান্দার আন্তরিক তওবা, অশ্রুসিক্ত দোয়া এবং তাঁর দিকে ফিরে আসাকে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিজের গুনাহ গোপন রেখে আন্তরিকভাবে তওবা করার তাওফিক দান করুন, আমাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত রাখুন। আমিন।
 

নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর মহানবী (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর মহানবী (সা.)-এর কর্মপদ্ধতি
সংগৃহীত ছবি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমন কালে অন্য সব বিষয়ের মতো ধর্মীয় জীবনও ছিল ক্ষতবিক্ষত। শিরক ও পুরোহিতদের মনগড়া নিয়ম-আচার মানুষকে দাসে পরিণত করেছিল। জ্ঞান-বুদ্ধির প্রবেশাধিকার ছিল সেখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মানুষ অস্বাভাভিকত্বের মায়াজল থেকে বের হতে পারত না। ধর্মের নিয়ন্ত্রকরা হালাল-হারামের বিধি-নিষেধ দিয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। যেখানে ন্যূনতম ঐশী আলো ছিল সেখানে অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি অন্ধকার ছড়িয়ে দিয়েছিল।

মানুষ অন্ধকারেই চোখ খুলত এবং অন্ধকারের গাঢ় পর্দা দেখে আবারও ঘুমিয়ে যেত। দয়ার নবী মানুষকে এই অন্ধকার থেকে মুক্তির বার্তা দেন। পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ লক্ষ্যে তিনি তিনটি মৌলিক নীতি ও কর্মকৌশল গ্রহণ করেছিলেন—
১. চিন্তা ও গবেষণার আহবান জানানো।
২. পৌরোহিত্যকে নিষিদ্ধ করা।
৩. মানব রচিত রীতি-নীতি নিষিদ্ধকরণ।

তিনি সর্বপ্রথম মানুষকে বুঝিয়েছেন যে অস্বাভাবিকত্ব নয়, বরং চারিত্রিক দৃঢ়তা ও আদর্শ জীবনই সবচেয়ে বড় অলৌকিকত্ব। জ্ঞান-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নিজেকে ও বিশ্বজগতের স্রষ্টার পরিচয় জানা অনেক বড় কাজ। মানুষের বন্ধ জ্ঞানের দুয়ার খোলার ওপর কোরআন জোর তাগিদ দিয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বিরোধ দেখতে পেত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা আসমান-জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এগুলোকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পূতঃপবিত্র। আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)

আল্লাহ সেসব মানুষকে সতর্ক করেছেন, যারা চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা থেকে দূরে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দ্বারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দ্বারা শোনে না; তারা পশুর মতো, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফেল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)

অস্বাভাবিকত্বের প্রতি নতজানু মানুষের ভ্রম দূর করতে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলে, তারা প্রতিপালকের কাছ থেকে তার নিকট নিদর্শন প্রেরিত হয় না কেন? বলো, নিদর্শন আল্লাহরই এখতিয়ারে। আমি একজন প্রকাশ্য সতর্ককারী মাত্র।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৫০)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা বলে, আমরা কখনোই তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে এক প্রস্রবণ উৎসারিত করবে। অথবা তোমার খেজুরের ও আঙুরের এক বাগান হবে, যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দেবে নদী-নালা।...বোলো, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি হচ্ছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসুল।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯০-৯৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাওহিদ বা একত্ববাদের দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে পৌরোহিত্য এবং ঈশ্বর সেজে থাকা মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই মহান আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক স্থাপনের পথ বাতলে দিয়েছেন। পৌরোহিত্যের আড়ালে বিস্মৃত মহান স্রষ্টার পরিচয় উন্মুক্ত করেছেন এবং মানুষকে তাঁর পরিচয় লাভের পথ বাতলে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব, তারা যা বলে তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র, মহান।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২২)

আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘হে মানুষ! একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, এই উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্র হলেও। এবং মাছি যদি কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের কাছ থেকে এটাও তারা তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। উপাসক ও উপাস্য কতই দুর্বল।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭৩)

মহানবী (সা.)-এর আগমন কালে প্রচলিত ধর্মগুলোর আরেকটি বড় সংকট ছিল মানব রচিত রীতি-নীতিকে স্রষ্টার নামে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। ধর্মীয় কুসংস্কার মানুষকে শুধু বিভ্রান্তই করত না, বরং তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবজাতিকে ধর্মের নামে চাপিয়ে দেওয়া বোঝা ও কুসংস্কারের শিকল থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বাহিরা, সাইবা, ওয়াসিলা ও হাম আল্লাহ স্থির করেননি, কিন্তু অবিশ্বাসীরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে এবং তাদের বেশির ভাগ উপলব্ধি করে না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১০৩)

পবিত্র কোরআনে আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সন্ন্যাসবাদ—এটা তো তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করেছিল। আমি তাদের এর বিধান দিইনি, অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৭)

এভাবেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ধর্মের নামে প্রচলতি অধর্ম ও কুসংস্কার থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দিয়েছিলেন। মানুষ বহু প্রভু ও ঈশ্বরের সন্তুষ্টির পরিবর্তে এক প্রভুর উপাসনার সুযোগ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।

প্রতিটি মুহূর্তে গুনাহে লিপ্ত রাখে লিভ টুগেদার | কালের কণ্ঠ