• ই-পেপার

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা রায়ের পর্যালোচনায় যা বললেন আদালত

রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) এ রায় প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের এ রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রবিবার শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে এত দ্রুত বিচার করা সম্ভব হয়েছে। এত কম সময়ে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।’

এদিন সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত।

রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ আসামিপক্ষের আইনজীবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ আসামিপক্ষের আইনজীবীর

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পরে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। কারণ আসামি নিজেই দোষ স্বীকার করেছে এবং সে সাফাই সাক্ষী দেয় নাই। এ জন্য সে অপরাধী আর অপরাধীর ন্যায়বিচার হয়েছে বলে মনে করি।

অপরদিকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, আমরা আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত করে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ওই দিনই শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য নথি বদলি করা হয়। তবে সেদিন থেকে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় গত ১ জুন মামলাটির চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

পরদিন ২ জুন মামলাটির ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয় । এরপর ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়।

রায়ে খুশি রামিসার বাবা

অনলাইন ডেস্ক
রায়ে খুশি রামিসার বাবা
রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণার পর তিনি খুশি হয়ে ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করেন।

মামলার রায়ে আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়  আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমি আলহামদুলিল্লাহ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্খা সেটা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্খিত রায় পেয়েছি।’

আরো পড়ুন
রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ

রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ

 

তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন, সবার নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে ‘ভি’ চিহ্ন দেখালেন রামিসার বাবা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুরে পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা ৩৭  মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন  ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। ১১টা ৪১ মিনিটে রায় ঘোষণা শেষে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।

আজ সকাল ১১টায় বিচারক আদালতে উঠে রায় পড়া শুরু করেন। এ সময় বিচারক আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন। সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান বিচারক। সার্বিক তথ্য-প্রমাণ সাক্ষ্যের আলোকে সর্বশেষ তিনি এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

রায়কে কেন্দ্র করে আজ  সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং এর কিছুটা আগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়েছে। 

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার  ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল। গত ১৯ মে দিবাগত রাত ১২ টা ৫ মিনিট অর্থাৎ ২০ মে মামলা দায়েরের পর ৫  দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।  ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিকের ছুটি বাতিল করে এ মামলাটির শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে পরেরদিন মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত এক দিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা হীনকামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায়  শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।