এবার বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগে ভাইকিংদের মতো যুদ্ধসাজ নিয়ে সাগরপারে অফিশিয়াল ফটোশুট করেন নরওয়ের ফুটবলাররা। কারণ তাঁরা ২৮ বছর পর আরেকবার যুদ্ধে নামতে যাচ্ছিলেন বৈশ্বিক মঞ্চে। লড়াইটা নতুন কোনো গৌরব ছিনিয়ে আনার, দলটিও পরিচিত ‘দ্য ভাইকিং’ নামে। শেষ পর্যন্ত গৌরব করার মতো কিছু রসদ নিয়েই দেশে ফিরতে পারছে তারা। কারণ নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে নরওয়ে। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ আটে অভিযান শেষ হলেও আর্লিং হালান্ডরা দেশবাসীকে দিতে পেরেছেন মর্যাদাপূর্ণ উপহার।
বড় কোনো টুর্নামেন্টে কখনো এত দূর যেতে পারেনি দেশটি। তাই এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা হালান্ড বলেছিলেন, ‘এখন যা কিছু আমরা পাব, সেটাই বোনাস।’ কিন্তু সেই জয়ে স্বপ্নটা বড় হয়েছিল, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করার আত্মবিশ্বাসটাও পেয়ে যায় নরওয়ে। তারকা স্ট্রাইকার হালান্ড পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করেছেন যা দেশটির হয়ে বিশ্বকাপে সেরা নৈপুণ্য। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতাও তিনি। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড প্রতি ম্যাচেই ছিলেন মাঝমাঠের চালিকাশক্তি। নজর কেড়েছেন ২১ বছরের উদীয়মান তারকা ফরোয়ার্ড অ্যান্টোনিও নুসা। অবশ্য বিশ্ব ফুটবলে বলার মতো কোনো ভালো অতীত নেই নরওয়ের। এমনকি নিজ মহাদেশ ইউরোপের সবচেয়ে বড় আসর ইউরোতে এখন পর্যন্ত একবারই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। ২০০০ সালের একমাত্র ইউরো আসরে খেলতে নেমেও নরওয়ে বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। মহাদেশের সীমানা পেরিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চেও ভাইকিংদের ইতিহাস ভালো নয় তেমন। ১৯৩৮ সালে ১৬ দলের বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে জিততে পারেনি কোনো ম্যাচ। ৫৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে (১৯৯৪) গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারিয়ে ও স্কটল্যান্ড, মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে প্রথমবার শেষ ষোলোয় ওঠে তারা।
২৮ বছর পর এবার নিজেদের মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপে নেমেই চমক দেখিয়েছে সেই দলটি, ইতিহাস গড়া সাফল্যে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ভাইকিংরা। এবার তারা জিতেছে ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলের বিপক্ষে। প্রতি ম্যাচেই বিশেষ এক উদযাপন করতে দেখা গেছে নরওয়ের বিপুল সমর্থকদের, যার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ফুটবলাররাও। মাঠেই পাল তোলা জাহাজের বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে ‘ভাইকিং রো’ করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়েছেন তাঁরা। অধিনায়ক ওডেগার্ড আর হালান্ডের নেতৃত্বে ‘দ্রিম দ্রিম’ বেজেছে ড্রামস। সেই শব্দ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে বিশ্বকে, “তোমাদের সামনে লড়াই জিততেই নামবে ‘দ্য ভাইকিংস’।” এটি সম্ভব হয়েছে দেশটির বয়সভিত্তিক ফুটবল নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিশেষ প্রোগামের মাধ্যমে। এবার বিশ্বকাপে নামা ২৬ খেলোয়াড়ের ১৭ জনই খেলেন ইউরোপের শীর্ষ চারটি লিগের বিভিন্ন ক্লাবে। সে কারণেই তো এবার গৌরব ধরা দিয়েছে তাদের।