• ই-পেপার

সিন্ডিকেটমুক্ত হাসপাতাল চাই

ফুটবল ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

ফুটবল ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ আর উন্মাদনা। মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা পরছে পছন্দের দলের জার্সি, টাঙিয়েছে পতাকা। এ ছাড়া পছন্দের দলের সমর্থনে চলছে মিছিল, শোডাউন। ফেসবুক পোস্ট কমেন্টে নিজের দলকে সামনে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাই। তবে বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনার আড়ালে চলছে কথা-কাটাকাটি, এমনকি সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও। বাংলাদেশ থেকে হাজার কিলোমিটার দূরত্বের খেলাকে কেন্দ্র করে দেশে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। পতাকা টাঙানো কিংবা খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, স্ট্রোক, খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ এবং পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যার ঘটনা দেখা গেছে। এতে খেলার আনন্দ পরিণত হয়েছে বেদনাদায়ক শোকের ঘটনায়। আমাদের উচিত ফুটবল বিশ্বকাপকে শুধুই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া এবং এই খেলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও আবেগতাড়িত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে না পরা। বিশ্বকাপ ফুটবল হোক শুধুই সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম।

আল-আমিন ইসলাম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

সরেয়ারতল ঘাটে সেতু চাই

সরেয়ারতল ঘাটে সেতু চাই

লালমনিরহাট জেলার সরেয়ারতল ঘাটে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। স্বাধীনতার ৫৫ বছর কেটে গেলেও এখানে সেতুর দেখা মেলেনি। অনেক জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিয়েছেন, সেতু হবে, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। সেখানে বর্ষা এলে নৌকা একমাত্র ভরসা, আর শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এলাকাবাসী পারাপার হয়। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসীর আক্ষেপ, কবে তাদের এই অপেক্ষার অবসান হবে। জনপ্রতিনিধিরা প্রায়ই প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, শিগগিরই এখানে সেতু নির্মাণ করা হবে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এই এলাকার মানুষের প্রতি এ ধরনের অবহেলা কেন?

আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দেখতে চায়, সরকার তাদের দিকেও ফিরে তাকিয়েছে। এ ব্যাপারে অযথা সময়ক্ষেপণ না হোক, এটাই কাম্য।

 

মো. মাসুদ রানা রাশেদ

ফুলগাছ, মোগলহাট, লালমনিরহাট

চা-শিল্পের সংকট নিরসন করুন

চা-শিল্পের সংকট নিরসন করুন

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, পঞ্চগড় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ একরের বেশি জমিতে চা চাষ হয়। চা উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের নবম। কিন্তু এর পরও দেশের চা-শিল্পে রয়েছে নানা সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে আজও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর জন্য নিলাম পদ্ধতির নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও মিসরের বাজারে চায়ের চাহিদার সুযোগ গ্রহণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। প্যাকেজিং উন্নত ও নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে। চা-শিল্পকে শিল্প খাতের পাশাপাশি কৃষিশিল্পের অন্তর্গত করা জরুরি, যাতে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অত্যন্ত নগণ্য (বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা)। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ের কারণে তাঁরা তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার জোগাতে হিমশিম খান। এ ছাড়া অনেক চা-বাগানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। এসব সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বি এম হিশাম লাজ

শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বালুঘাট বন্ধ : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

বালুঘাট বন্ধ : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

সম্প্রতি সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কলমাকান্দা ও তাহিরপুর অঞ্চলে বালু উত্তোলন কার্যক্রম এবং বালুঘাট বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকের জন্য এই কাজই ছিল একমাত্র জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করাও এখন তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এই সংকট দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে। কর্মহীন মানুষের এই দুরবস্থা শুধু তাঁদের পরিবারকেই নয়, পুরো অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা ও মানবিক দিকটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, পরিবেশগত ও আইনগত বিষয়গুলো সমন্বয় করে এমন একটি কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা পুনরুদ্ধারের পথও সুগম হয়।

সিরাজুমমনির মোস্তাকিম

শিক্ষার্থী, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ