হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরো কমিয়ে আনতে টানা ১১তম রাতের মতো দেশটিতে বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে মার্কিন বাহিনী। এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকম জানায়, সর্বশেষ এই দফায় ইরানি সামরিক অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা সংক্রান্ত স্থাপনা, বিমানের হ্যাংগার, ড্রোন মজুদ সুবিধা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তেহরান থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগির এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে পাল্টা হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।
জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের : জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর আবাসন ও কল্যাণ ভবন এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বুধবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বড় সরঞ্জাম গুদাম, হ্যাংগার এবং ভারী সামরিক উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ ইইউ নৌবাহিনীর : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অ্যাস্পাইডস জানিয়েছে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ইয়েমেনের হুতিদের হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌ-পরিবহন শিল্পের জন্য একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির মাত্রা হ্রাস না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলার সুপারিশ করা হচ্ছে।’ সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন, মেহের নিউজ

