• ই-পেপার

সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বেশি শক্তিশালী, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া এক কাতারে

ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে

ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে
ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে। গতকাল রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর নোহালী কাচারিপাড়া থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইরানকে কাবু করতে মার্কিন বাহিনী মরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরানকে কাবু করতে মার্কিন বাহিনী মরিয়া

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরো কমিয়ে আনতে টানা ১১তম রাতের মতো দেশটিতে বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে মার্কিন বাহিনী। এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকম জানায়, সর্বশেষ এই দফায় ইরানি সামরিক অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা সংক্রান্ত স্থাপনা, বিমানের হ্যাংগার, ড্রোন মজুদ সুবিধা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তেহরান থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খুব শিগগির এবং খুব জোরালোভাবে পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে পাল্টা হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।

জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের : জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর আবাসন ও কল্যাণ ভবন এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বুধবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বড় সরঞ্জাম গুদাম, হ্যাংগার এবং ভারী সামরিক উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ ইইউ নৌবাহিনীর : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অ্যাস্পাইডস জানিয়েছে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ইয়েমেনের হুতিদের হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌ-পরিবহন শিল্পের জন্য একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির মাত্রা হ্রাস না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলার সুপারিশ করা হচ্ছে। সূত্র :  আলজাজিরা, সিএনএন, মেহের নিউজ

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়ের অভাব ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে  আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সাকি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় বাড়ে এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। এর পেছনে সমন্বয়ের অভাব, জবাবদিহির ঘাটতি ও দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনছে। তিনি জানান, আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব কাজ শেষ হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে আইনি ও নীতিগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পৃথক রেট শিডিউল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি এসব রেট শিডিউল পর্যালোচনা করছে। খুব শিগগির সাধারণ ও বিশেষ ধরনের কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল প্রণয়ন করা হবে, যাতে প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন আরো বাস্তবসম্মত হয়। এডিপি বাস্তবায়নের ওপর সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিপির বাস্তবায়ন ভালো হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডও চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সাকি বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি নতুন উপাদান যুক্ত হওয়া, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিবর্তন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেবৃহত্তর দিনাজপুর সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও উন্নয়ন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন এবং মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালিসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আসবে। এ ছাড়া আগে থেকেই অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরো ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান হস্তান্তর করেন। বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম সংস্থাটির পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকটে পড়েছে, তখনই চীন দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবেলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টকে দেওয়া উদ্ধারসামগ্রী বন্যা মোকাবেলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চীনের মানবিক সহায়তা ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অনুদান গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। চীনের এই সহায়তায় জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম (এনডিসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের সদস্য  ও অন্য অতিথিরা।