উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
- ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন
ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে

ইরানকে কাবু করতে মার্কিন বাহিনী মরিয়া

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরো কমিয়ে আনতে টানা ১১তম রাতের মতো দেশটিতে বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে মার্কিন বাহিনী। এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকম জানায়, সর্বশেষ এই দফায় ইরানি সামরিক অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা সংক্রান্ত স্থাপনা, বিমানের হ্যাংগার, ড্রোন মজুদ সুবিধা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তেহরান থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগির এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে পাল্টা হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।
জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের : জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর আবাসন ও কল্যাণ ভবন এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বুধবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বড় সরঞ্জাম গুদাম, হ্যাংগার এবং ভারী সামরিক উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ ইইউ নৌবাহিনীর : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অ্যাস্পাইডস জানিয়েছে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ইয়েমেনের হুতিদের হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌ-পরিবহন শিল্পের জন্য একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির মাত্রা হ্রাস না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলার সুপারিশ করা হচ্ছে।’ সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন, মেহের নিউজ
সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বেশি শক্তিশালী, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া এক কাতারে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। এবার বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া। এবারের সূচকেও যথারীতি শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। আর সবার শেষে আফগানিস্তান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কতটি দেশে যাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।
সূচকে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এখন বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন; যদিও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা গত বছর আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারতেন। গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭তম। আর সর্বশেষ ২০২০ সালে এই সূচকে বাংলাদেশ ৯৮তম অবস্থানে ছিল। পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৩তম ও ১০১তম। অন্যদিকে ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম।
এ বছরের সূচকে শীর্ষ অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ১৯২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়ার আরো তিন দেশ—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন এ তিন দেশের পাসপোর্টধারীরা। সূচকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ সুইডেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। সূচকে দেশটির অবস্থান ৫২তম। মালদ্বীপের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে সবচেয়ে নিচে (১০৪তম) আফগানিস্তানের অবস্থান। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। সূত্র : ওয়েবসাইট
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান হস্তান্তর করেন। বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম সংস্থাটির পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকটে পড়েছে, তখনই চীন দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবেলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টকে দেওয়া উদ্ধারসামগ্রী বন্যা মোকাবেলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চীনের মানবিক সহায়তা ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে অনুদান গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। চীনের এই সহায়তায় জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম (এনডিসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের সদস্য ও অন্য অতিথিরা।
