বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এক লাখ ডলার অনুদান দিল চীন
ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে

ইরানকে কাবু করতে মার্কিন বাহিনী মরিয়া

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরো কমিয়ে আনতে টানা ১১তম রাতের মতো দেশটিতে বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে মার্কিন বাহিনী। এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকম জানায়, সর্বশেষ এই দফায় ইরানি সামরিক অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা সংক্রান্ত স্থাপনা, বিমানের হ্যাংগার, ড্রোন মজুদ সুবিধা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তেহরান থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগির এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে পাল্টা হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।
জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের : জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর আবাসন ও কল্যাণ ভবন এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বুধবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বড় সরঞ্জাম গুদাম, হ্যাংগার এবং ভারী সামরিক উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ ইইউ নৌবাহিনীর : ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অ্যাস্পাইডস জানিয়েছে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ইয়েমেনের হুতিদের হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌ-পরিবহন শিল্পের জন্য একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির মাত্রা হ্রাস না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলার সুপারিশ করা হচ্ছে।’ সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন, মেহের নিউজ
সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বেশি শক্তিশালী, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়া এক কাতারে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। এবার বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া। এবারের সূচকেও যথারীতি শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। আর সবার শেষে আফগানিস্তান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কতটি দেশে যাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।
সূচকে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এখন বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন; যদিও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা গত বছর আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারতেন। গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭তম। আর সর্বশেষ ২০২০ সালে এই সূচকে বাংলাদেশ ৯৮তম অবস্থানে ছিল। পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৩তম ও ১০১তম। অন্যদিকে ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম।
এ বছরের সূচকে শীর্ষ অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ১৯২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়ার আরো তিন দেশ—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন এ তিন দেশের পাসপোর্টধারীরা। সূচকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ সুইডেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। সূচকে দেশটির অবস্থান ৫২তম। মালদ্বীপের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে সবচেয়ে নিচে (১০৪তম) আফগানিস্তানের অবস্থান। দেশটির পাসপোর্টধারীরা ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। সূত্র : ওয়েবসাইট
উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্পে একনেকের অনুমোদন

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়ের অভাব ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সাকি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় বাড়ে এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। এর পেছনে সমন্বয়ের অভাব, জবাবদিহির ঘাটতি ও দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনছে। তিনি জানান, আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব কাজ শেষ হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে আইনি ও নীতিগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পৃথক রেট শিডিউল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি এসব রেট শিডিউল পর্যালোচনা করছে। খুব শিগগির সাধারণ ও বিশেষ ধরনের কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল প্রণয়ন করা হবে, যাতে প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন আরো বাস্তবসম্মত হয়। এডিপি বাস্তবায়নের ওপর সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিপির বাস্তবায়ন ভালো হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডও চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সাকি বলেন, প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি নতুন উপাদান যুক্ত হওয়া, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিবর্তন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কারণে ব্যয় বেড়েছে।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—বৃহত্তর দিনাজপুর সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও উন্নয়ন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন এবং মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালিসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আসবে। এ ছাড়া আগে থেকেই অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরো ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়েছে।
