• ই-পেপার

একলাফেই প্রায় ৪% দাম বৃদ্ধি

অস্থির বিশ্ববাজার তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১০০ ডলার

উক্তি

উক্তি

ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

নিউইয়র্কে সড়কমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জবাবদিহি জোরদার করা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জবাবদিহি জোরদার করা প্রয়োজন
শেখ রবিউল আলম

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর সমন্বয় এবং জবাবদিহি জোরদারের আহবান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথ সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই আহবান জানান।

সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময় সড়কমন্ত্রী বলেন,  শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেই হবে না, সড়ক পরিবহনব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।

সড়কমন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগকে শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহির কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করতে হবে।

হামে শিশুমৃত্যু ৮০০ ছাড়াল

আক্রান্তদের ৭৮% টিকাবঞ্চিত

টিকার বাইরে ছিল যারা, মৃত্যুর তালিকায়ও তারা মৃতদের ৯১% টিকাবঞ্চিত

শিমুল মাহমুদ
আক্রান্তদের ৭৮% টিকাবঞ্চিত
হামের সংক্রমণ যেন থামছেই না। গতকালও হামে আক্রান্ত শিশুদের মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে চার মাসের ব্যবধানে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু ৮০০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ হতে হতে একসময় শিশুর সংখ্যা যখন কমে আসবে, অর্থাৎ যখন আর কেউ বাকি থাকবে না, তখনই শুধু হামের সংক্রমণ কমবে। এর আগে নয়। কারণ অনেক শিশু হাম ও রুবেলার এমআর টিকাবঞ্চিত হওয়া হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৭ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু চার শিশুর। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮০৩ জনের। আক্রান্ত এক লাখ ৩৫ হাজার ১৯৩ জন।

গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দেশে হাম আক্রান্ত ও মৃত্যু শিশুদের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিশ্চিত হামে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ এবং মৃতদের ৯১.৪ শতাংশ কোনো এমআর টিকা নেয়নি।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৭৮.৬ শতাংশ কোনো এমআর টিকা নেয়নি। এক ডোজ টিকা পেয়েছিল ১০.৯ শতাংশ এবং দুই ডোজ পেয়েছে ১০.৫ শতাংশ। ইপিআই উপসর্গে আক্রান্ত ৬৬ হাজার ৬৯০ জন ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ১৪ হাজার শিশুর ওপর সমীক্ষা চালায়।

ইপিআইয়ের সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের ৯১.৪ শতাংশ কোনো এমআর টিকা নেয়নি। মাত্র ৬.৫৪ শতাংশ এক ডোজ এবং ২.১ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছিল। ২৪ শতাংশের টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। ৩৩৭ জনের পৃথক বিশ্লেষণে আরো উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের ২২ শতাংশের বয়স ছিল ছয় মাসের কম, ৩০ শতাংশের বয়স ছয় থেকে ৯ মাস, ২৫ শতাংশের বয়স ৯ থেকে ১১ মাস এবং ১৭ শতাংশের বয়স  এক থেকে চার বছর। অর্থাৎ অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার বলেন, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর নির্ভরশীল থাকে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে মাতৃপ্রদত্ত প্রতিরোধক্ষমতাও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত থাকছে না।

তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৪ শতাংশ শিশুর সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো টিকার কার্যকারিতা শতভাগ নয়। তাই শুধু নিয়মিত টিকাদান নয়, নির্দিষ্ট সময় পরপর গণটিকাদান কর্মসূচিও চালিয়ে যেতে হবে।

হামের প্রাদুর্ভাবের পর সরকার ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় এবং পরে সারা দেশে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালায়। ২০ মে পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়ার দাবি করে। কিন্তু চার সপ্তাহ পার হলেও সংক্রমণ প্রত্যাশিত হারে কমেনি।

এ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এটি শুধু টিকাবঞ্চিত শিশুদের সংকট নয়; বরং দেশের টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা ও কাভারেজ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জাতীয় ভেরিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, যদি প্রকৃত অর্থেই শতভাগের কাছাকাছি টিকাদান সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে সংক্রমণ আরো দ্রুত কমে আসার কথা। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো বর্তমানে কোন বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং টিকাবঞ্চিত শিশু কোথায় রয়ে গেছে, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, প্রশাসনিকভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলেই সফলতা আসে না। প্রকৃত কাভারেজ জানতে স্বাধীন জরিপ করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, টিকা দেওয়ার পরও সংক্রমণ প্রত্যাশিত হারে না কমলে টিকার কার্যকারিতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য বলছে, সংক্রমণ ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমতির দিকে। তবে সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং মৃত্যুও থামেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দিন পর্যন্ত টিকাবঞ্চিত শিশুদের খুঁজে বের করে কার্যকরভাবে টিকার আওতায় আনা না যাবে, তত দিন হামের এই সংক্রমণচক্র পুরোপুরি ভাঙা কঠিন হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত ও মৃতদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান কিংবা বয়সসীমায় পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না। পাশাপাশি ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকার আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

 

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ফ্রান্সের আইন প্রণেতারা। গত মঙ্গলবার এই ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য এমন বয়সসীমা নির্ধারণ করল ফ্রান্স।

গত বছরের শেষের দিকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়া। গত মাসে যুক্তরাজ্য সরকারও একই ধরনের বিধি-নিষেধের ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্পেন, গ্রিস ও ডেনমার্কও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।

ফরাসি আইন প্রণেতারা বিপুল সমর্থনে বিলটি পাস করেন। বিলটির জোরালো সমর্থক ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। এখন তিনি এতে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করবেন। ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাখোঁ আইন প্রণেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।

এর আগে জানুয়ারিতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, আমাদের সন্তানদের ও কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। আমাদের সন্তানদের আবেগ-অনুভূতি বিক্রি বা নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়; কোনো মার্কিন প্ল্যাটফর্ম কিংবা চীনা অ্যালগরিদমকারো দ্বারাই তা হতে দেওয়া হবে না।

আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যাতে আইনটি কার্যকর করা যায়, সে জন্য সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে সংসদে বিলটি পাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ম্যাখোঁ। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কিভাবে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অস্ট্রেলিয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা যাতে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা পুরনো অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে না পারে, সে জন্য কম্পানিগুলোকে যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফরাসি সরকারও জানিয়েছে, আইন বাস্তবায়নে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে। আইনের আগের খসড়াগুলোতে শিশুদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিজ্ঞাপনে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য এমন সতর্কবার্তা প্রদর্শনের কথাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলে এই পরিকল্পনাগুলো রাখা হয়নি। নতুন এই আইনটি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবে ফ্রান্সের অডিওভিজ্যুয়াল ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরকম। দেশের বড় সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের ওপর এটি প্রযোজ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি