শহীদ জিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ জিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রিটেনের রাজনীতিতে শুরু হলো নতুন নেতৃত্বের অধ্যায়। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। বাকিংহাম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বার্নহ্যাম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন আশার প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন পেছনে ফেলে দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে ব্রিটেনের নেতৃত্বে এলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ব্রিটেনের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি আরো বেশি গুরুত্ব পাবে।

প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী। জেন্টলম্যান ফর এক্সিলেন্স (শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক)। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। একটি হলো— আইন পেশার প্রতি তাঁর ছিল অসীম ডেডিকেশন (নিবেদন)। অন্যটি হলো—কমিটমেন্ট টু দ্য কেস (মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা), যা বর্তমানে বেশির ভাগ আইনজীবীর মধ্যেই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অভাব রয়েছে।
আইনজীবীদের উদ্দেশে জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পরে আইনজীবীদের ওপরই ভরসা করেন। তাই মামলার ফল যাই হোক না কেন, মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। এক-এগারো সরকারের সময় তিনি তাঁর সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাঁর আচরণ অন্য আট-দশজন রাজনীতিকের মতো ছিল না। রাজনীতির প্রতিটা ধাপে তিনি পেশাদারি বজায় রেখেছেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আইনাঙ্গনের সবার একজন ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে আইনজীবী সমিতি বা বার কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কোর্টে যে আরগুমেন্ট করতেন, তা এখন আইনের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পেশাগত নৈতিকতা সব আইনজীবীর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, তিনি আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। কখনো কোনো এজলাসে উত্তেজিত হতেন না। কোর্ট কোনো আদেশ দিলে মাথা পেতে নিতেন। বর্তমানে অনেক আইনজীবীর মধ্যে এসব বিষয়ে শূন্যতা রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ অনেকে।

মাঠ তখন প্রায় ফাঁকা। স্পেনের ফুটবলাররা উল্লাসে মেতেছেন, গ্যালারিজুড়ে উৎসবের ঢেউ। অথচ সেই কোলাহলের মধ্যেই এক কোণে একা বসে আছেন লিওনেল মেসি। মাথা নিচু, চোখ ভেজা। কয়েক গজ দূরে ঝলমল করছে বিশ্বকাপ ট্রফি। অথচ সেটি আর তাঁর নয়। চার বছর ধরে যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি আবার ফিরেছিলেন, সেটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায়। নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামের সেই একাকী মুহূর্তটিই হয়তো বলে হয়তো বলে দিল, সব রূপকথার শেষটা জয় দিয়ে লেখা হয় না। ১-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপের মুকুট হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। হারিয়েছে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগও। কিন্তু স্কোরলাইনের চেয়েও বড় হয়ে থাকবে ম্যাচ শেষে একা বসে থাকা মেসির সেই ছবি। ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেওয়া মানুষটিকে শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গেল অশ্রুসিক্ত চোখে। হয়তো সেই এক ফোঁটা অশ্রুই বলে দিচ্ছিল, রূপকথার শেষটা এমন হওয়ার কথা ছিল না!
নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সূর্য পশ্চিম গ্যালারির আড়ালে নামার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠল এক নির্মম সত্য, আর্জেন্টিনার জাদু শেষ হয়ে গেছে। আর সেই জাদুর শেষ দৃশ্যটি লিখেছে স্পেন। পুরো বিশ্বকাপে যে দল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আর আক্রমণাত্মক ফুটবলে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, ফাইনালে যেন সেই দলকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। বল পায়ে ছিল, কিন্তু গতি ছিল না। পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা, ছিল না সেই আর্জেন্টিনা, যারা প্রতিকূলতাকে নিজেদের শক্তিতে পরিণত করেছিল। ফাইনাল এমনিতেই অনেক সময় সৌন্দর্য হারায়। সতর্কতা আর স্নায়ুচাপ ম্যাচকে রুদ্ধশ্বাসের বদলে রুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু এই ফাইনালে আর্জেন্টিনা যেন শুরু থেকেই নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি তারা, বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে যা আগে কখনো ঘটেনি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও সেই চিত্র বদলাতে পারেনি। গোল তো দূরের কথা, স্পেনের গোলরক্ষককে সত্যিকারের পরীক্ষায়ও ফেলতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
আর মেসি? ফাইনালের আগ পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটির নামই ছিল লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি সময়কে যেন নিজের ইচ্ছামতো বাঁকিয়ে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি স্পর্শ যেন ফিরিয়ে এনেছে ফুটবলের সোনালি দিনগুলো। মনে হয়েছে, বয়স শুধু ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা। কিন্তু ফাইনালে সেই মেসিকেও খুঁজে পাওয়া গেল না। স্পেনের নিখুঁত রক্ষণ তাঁকে ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেয়। বল পেয়েছেন কম, জায়গা পেয়েছেন আরো কম। যিনি পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রাণ ছিলেন, শিরোপার মঞ্চে তিনি হয়ে গেলেন প্রায় নীরব এক দর্শক। ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে, কিন্তু কিংবদন্তির আলো নিভে যায়নি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ব্যালন ডি’অর—ফুটবলে জেতার মতো প্রায় সবকিছুই তিনি জিতেছেন। এই ফাইনাল জিতলে শুধু তাঁর কিংবদন্তিতে আরেকটি অলংকার যোগ হতো; কিন্তু না জেতায় সেই কিংবদন্তির উজ্জ্বলতা এতটুকুও কমেনি। তবু আক্ষেপ থেকে যায়। কারণ এই ম্যাচ ছিল এক রূপকথার নিখুঁত সমাপ্তি লেখার সুযোগ। অথচ সেই রূপকথার শেষ লাইনটি লিখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে যাদের দৃঢ়তা ছিল অনুপ্রেরণার প্রতীক, শেষ ম্যাচে তারাই হয়ে উঠল অস্থির, অসংলগ্ন ও হতাশ একটি দল।
লিওনেল স্কালোনির অর্জনও এই একটি ম্যাচে মুছে যাবে না। তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন, কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন, একটি প্রজন্মকে বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবু এটাও সত্য, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেই নিজেদের সবচেয়ে বিবর্ণ রূপটি দেখল আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে ফুটবল যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়েছিল। স্পেনের ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন মেসিকে। একজনের চোখে বিশ্বজয়ের উচ্ছ্বাস, অন্যজনের চোখে অপূর্ণতার অশ্রু। এক ফ্রেমে দাঁড়িয়ে ছিল ফুটবলের দুই প্রজন্ম—একজন যাঁর গল্প প্রায় শেষের পথে, আরেকজন যাঁর গল্প সবে শুরু। হয়তো এভাবেই ফুটবল তার উত্তরাধিকার এক হাত থেকে আরেক হাতে তুলে দেয়। এটাই কি তবে মেসির শেষ বিশ্বকাপ? উত্তরটা হয়তো সময়ই দেবে। কারণ এই মানুষটিকে নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সাহস ফুটবল বহুবার হারিয়েছে। ২০১৬ সালে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েও ফিরেছিলেন। ২০২২ সালের পরও অনেকে ভেবেছিল বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ, অথচ তিনি আবারও ফিরে এসে স্বপ্ন দেখিয়েছেন একটি জাতিকে।
তবু যদি এটা সত্যিই শেষ হয়ে থাকে, তবে সেটি কোনো ব্যর্থতার গল্প নয়; বরং এক অসমাপ্ত সৌন্দর্যের গল্প। সব কিংবদন্তি ট্রফি উঁচিয়ে বিদায় নেন না। কেউ কেউ বিদায় নেন কোটি মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থেকে, কিছু অপূর্ণতা আর একরাশ দীর্ঘশ্বাস সঙ্গে নিয়ে। তাই মেসির গল্পে হয়তো আজও ফুল স্টপ পড়েনি। শুধু শেষ অধ্যায়ে রয়ে গেছে অপূর্ণতার এক গভীর দাগ। বহু বছর পর মানুষ হয়তো এই ফাইনালের স্কোরলাইন ভুলে যাবে, কিন্তু মাঠের এক কোণে মাথা নিচু করে বসে থাকা লিওনেল মেসির সেই ছবি এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরা তরুণ ইয়ামালের মুহূর্তটি ভুলবে না কখনো।