• ই-পেপার

আইএমএফের মিশন ঢাকায়

৪৫০ কোটি ডলার নতুন ঋণ চায় সরকার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ

মাহমুদুল হাসান
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দুই মাস পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় দলের হাইকমান্ড। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূলে সংকট তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসবের লাগাম টানতে চান দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি দলীয় সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয়ে দলের এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্কাইপে এই বৈঠকে যোগ দেন। 

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক দীর্ঘদিন পরে হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও ছিল। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলগত প্রস্তুতির জন্য সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য কাউন্সিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে দলের চেয়ারম্যান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বেগম সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে দেশ ও সার্বিক অবস্থা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিস্তারিত জানাবেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।

উক্তি

উক্তি

আগে সরকারি কর্মকর্তারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা কচুরিপানা পরিষ্কার করার মতো বিষয়ে বিদেশ সফরে যেতেন। সেই সময় এখন আর নেই।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষামন্ত্রী

বিশেষ লেখা

শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন

মামুন রশীদ

শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন
মামুন রশীদ

মাত্র তিন বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সতর্কবার্তার নাম ছিল শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালে দেশটি সার্বভৌম ঋণখেলাপি হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কার্যত শূন্যে নেমে আসে, জ্বালানি ও ওষুধ আমদানিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ গাড়ির সারি, বিদ্যুৎবিভ্রাট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন ছিল যে অনেকেই দেশটির অর্থনীতিকে হারানো কেস বলে মনে করেছিল।

কিন্তু মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সেই শ্রীলঙ্কাই আবার বিশ্বব্যাংকের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু জাতীয় আয় উচ্চ-মধ্যম  আয়ের দেশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। সংকট থেকে উত্তরণের এই গতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্ময় তৈরি করেছে।

শ্রীলঙ্কার সাফল্যের রহস্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। তারা নতুন কোনো অর্থনৈতিক তত্ত্ব আবিষ্কার করেনি; বরং বহু পরীক্ষিত অর্থনৈতিক নীতিগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই।

অর্থনৈতিক সংকটের পর শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মসূচির অধীনে রাজস্ব সংস্কার, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি খাতে মূল্য বাস্তবায়ন, মুদ্রানীতিতে কঠোরতা এবং ঋণ পুনর্গঠনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব সিদ্ধান্ত তারা মাঝপথে পরিবর্তন করেনি। রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে আইএমএফ-সমর্থিত বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিময় হার ব্যবস্থায় পরিবর্তন, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণএসব পদক্ষেপের আলোচনা হয়েছে ও চলছে। কিন্তু আলোচনার চেয়ে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নীতি ঘোষণা করা সহজ; কঠিন হলো সেটিকে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা।

শ্রীলঙ্কার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করা। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে এবং নিয়মিতভাবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমস্যার মূল অনেক সময় নীতির অভাবে নয়; বরং নীতি বাস্তবায়নের দুর্বলতা। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, কর আহরণের সীমাবদ্ধতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতাএসব সমস্যা বহুদিন ধরেই চিহ্নিত। প্রশ্ন হলো, আমরা সমস্যাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের পথে এগোতে পারছি কি না?

শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধারে ঋণ পুনর্গঠনও বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার একসঙ্গে এগিয়েছে। ফলে অর্থনীতি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বাইরের সহায়তা তখনই কার্যকর হয়, যখন দেশের নিজস্ব নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা উন্নয়ন সহযোগীরা কোনো দেশের হয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে না, সেটি করতে হয় দেশকেই।

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করেছে পর্যটন, প্রবাস আয় এবং শিল্প উৎপাদনের পুনরুদ্ধার। অর্থাৎ স্থিতিশীলতা নিজে কোনো লক্ষ্য নয়; এটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি আরো শক্তিশালী হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতির ধারাবাহিকতা। শ্রীলঙ্কায় সরকার পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা। কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণত এক বা দুই বছরে আসে না, এর জন্য ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। প্রতিটি সরকার যদি পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ বাতিল করে নতুন করে শুরু করতে চায়, তাহলে কোনো সংস্কারই পরিণতি পায় না।

বাংলাদেশ আজ শ্রীলঙ্কার মতো সংকটে নেই। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি অনেক বিস্তৃত, রপ্তানি খাত শক্তিশালী, কৃষি উৎপাদনে সক্ষম, রেমিট্যান্সের ভিত্তিও তুলনামূলক স্থিতিশীল। অর্থাৎ আমাদের সামনে সুযোগ আরো বেশি। কিন্তু সুযোগ কখনোই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। সুযোগকে সাফল্যে রূপান্তর করতে হলে প্রয়োজন সঠিক নীতি, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।

শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কোনো শর্টকাট নেই। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যে দেশ তিন বছরের মধ্যে ঋণখেলাপির অবস্থান থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে ফিরতে পারে, সে দেশ আমাদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে; অনুকরণ নয়, অনুপ্রেরণা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম নয়। আমাদের বাজার বড়, জনসংখ্যা তরুণ, শিল্পভিত্তি বিস্তৃত এবং উদ্যোক্তা শ্রেণি অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন? উত্তরটি আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং সুশাসনের সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উল্টে যায় একটি ডিমবোঝাই পিকআপ। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম কুড়াতে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানেই দ্রুতগতির এক বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছে পাঁচজন, আহত হয়েছে আরো কয়েকজন।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা যাত্রীবাহী ওই বাসসহ অন্তত চারটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। তখন এলাকার অনেকেই সড়কজুড়ে পড়ে থাকা ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এ সময় খুলনাগামী যাত্রীবাহী বাস নড়াইল এক্সপ্রেস  দ্রুতগতিতে এসে তাঁদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন, আহত হন কয়েকজন। নিহতরা হলেন উপজেলার আলগী ইউনিয়নের আরিফ মাতুব্বর (২৫), ওবায়দুল সেখ (৪০), জয়নাল মিয়া (২৪), নুরুন্নবী সেখ (১২) ও হাফিজুর (৫০)।

দুর্ঘটনার পর নড়াইল এক্সপ্রেস বাসটিসহ অন্তত চারটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী কাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, সোয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। মহাসড়কের দুই পাশে বাজার, দোকানপাট ও বসতি থাকায় যানবাহন ও মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।