• ই-পেপার

অ্যানাল ফিস্টুলা নিরাময়ের একমাত্র উপায় শল্যচিকিৎসা

হেপাটাইটিস নির্মূল সম্ভব

অধ্যাপক ডা. মো. কুতুব উদ্দিন মল্লিক
হেপাটাইটিস নির্মূল সম্ভব

বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। সংক্রামক ব্যাধির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এটি। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ভাইরাল হেপাটাইটিসের প্রায়ই কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। তাই রোগ অগ্রসর হওয়ার আগে রোগীরা জানতেও পারে না যে তারা আক্রান্ত। যখন উপসর্গ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে চিকিৎসা অনেক দেরি হয়ে যায়। ক্রনিক হেপাটাইটিস থেকে দেখা দেয় লিভার ক্যান্সার। যকৃতের ক্যান্সারের মূল কারণও এটি।

হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণে বিশ্বে প্রতিবছর ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। নতুন করে শনাক্ত হয় ২০ লাখ রোগী। অথচ হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ। হেপাটাইটিস শনাক্তের কার্যকর পরীক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং হেপাটাইটিস বির টিকাও বাজারে রয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চাইলে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।

হেপাটাইটিস নির্মূলে মূল বাধা সামাজিক কুসংস্কার এবং নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে সামাজিকভাবে নিগৃহ হতে হয়। জানাজানি হওয়ার ভয়ে হেপাটাইটিসের সঠিক চিকিৎসা নিচ্ছে না অনেকেই। চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে নীতিনির্ধারকদের রয়েছে গড়িমসি।

আসুন, এই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে আমরা একটি হেপাটাইটিসমুক্ত বিশ্ব গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রাচীরগুলো ভেঙে ফেলি। হেপাটাইটিস পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং টিকাদান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান সবার কাছে পৌঁছে দিই। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবাগুলো আরো বড় পরিসরে সহজলভ্য করা নিয়ে কাজ করাও জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন জোরালো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, টেকসই বিনিয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতায় হেপাটাইটিসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। হেপাটাইটিস নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়।

 

লেখক : অধ্যাপক

লিভার, পরিপাকতন্ত্র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

প্রতিষ্ঠাতা ও বিভাগীয় প্রধান, লিভার বিভাগ

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

 

 

নীরবেই হয়

হেড-নেক ক্যান্সার

২৭ জুলাই বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবস। এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এ ধরনের ক্যান্সারে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশেরও বেশি। লিখেছেন অধ্যাপক ডা. মো. মোসলেহ্ উদ্দিন

হেড-নেক ক্যান্সার
ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি নিচ্ছে রোগী। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের মোট ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের হার অনুযায়ী হেড-নেক ক্যান্সারের অবস্থান সপ্তম। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে মোট রোগীর এক-চতুর্থাংশই হেড-নেক ক্যান্সারে আক্রান্ত। অন্যান্য সাধারণ রোগের সঙ্গে এর প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটাই মিলে যায়, তাই রোগীরা বুঝতেও পারে না দেহে এই মারণব্যাধি বাসা বেঁধেছে। ফলে হেড-নেক ক্যান্সারে মৃত্যুর হারও অপেক্ষাকৃত বেশি, ৫০ থেকে ৬২ শতাংশ রোগী এতে মারা যায়। হেড-নেক ক্যান্সার থেকে বাঁচতে হলে এর কারণ ও উপসর্গের বিষয়ে জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির মূল লক্ষ্য। এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘সচেতনতা থেকে কর্মপ্রণয়ন, হেড-নেক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এক বিশ্ব এক কণ্ঠ’। অর্থাৎ সচেতনতার পাশাপাশি ক্যান্সার মোকাবেলায় প্রয়োজন সম্মিলিত লড়াইয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।

 

হেড-নেক ক্যান্সার কী

মস্তিষ্ক ও চোখ ছাড়া মাথা ও গলার অন্যান্য অংশের ক্যান্সারকে বলা হয় হেড-নেক ক্যান্সার। এর মধ্যে আছে সাইনাস, মুখগহ্বর, জিহ্বা, গলা, লালাগ্রন্থি, স্বরযন্ত্র, থাইরয়েড ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

 

লক্ষণ

হেড-নেক ক্যান্সারের উপসর্গের সঙ্গে অন্য অনেক রোগের মিল আছে। ফলে এটি সহজে শনাক্ত হয় না। যেমন—

♦ গলায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত

♦ গলা ফুলে যাওয়া, বসে যাওয়া, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন

♦ মুখগহ্বরের ঘা না শুকানো

♦ খাবার গিলতে অসুবিধা ইত্যাদিকে হেড-নেক ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

অনেক সময় এক অংশের ক্যান্সারে অন্য কোথাও উপসর্গ দেখা দিতে পারে; যেমন—গলার সমস্যার জন্য কানে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। নাক ও সাইনাসে ক্যান্সার হলে নাক বন্ধ, নাক থেকে রক্ত যাওয়া, মাথা ব্যথা হতে পারে। চোখের কাছাকাছি ক্যান্সার হলে দৃষ্টির পরিবর্তন বা চোখের আশপাশে ফুলে যেতে পারে।

 

কেন হয়

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে হেড-নেক ক্যান্সারের প্রকৃত কারণ অজানাই রয়ে যায়। বংশে এই রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়ে। এর মধ্যে আছে ধূমপান (সিগারেট, সিগার, পাইপ ইত্যাদি), সাদা পাতা-জর্দা সেবন, গুল মুখে রেখে দেওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত যৌনকর্ম ইত্যাদি। সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

করণীয়

ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এর চিকিৎসা রয়েছে। দীর্ঘদিন মুখের ঘা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, গিলতে অসুবিধা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা ঘাড়ে ফোলা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সম্ভব। ক্যান্সার যত আগে ধরা পড়বে, চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা ততটাই বাড়বে।

 

চিকিৎসা ও চ্যালেঞ্জ

বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হেড-নেক ক্যান্সারের চিকিৎসায় শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা প্রয়োজন। অপারেশনের পরও রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। এ দুই ধরনের থেরাপির ক্ষেত্রে আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে। তাই প্রতিবছরই অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে দেশের, দরিদ্র রোগীরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সমস্যা নিরসনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেড-নেক সার্জারি বিভাগের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকসংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এর পাশাপাশি অনকোলজি বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। থেরাপি প্রদানের জন্য অভিজ্ঞ জনশক্তি গড়ে তোলাও জরুরি। এতে রোগীদের বিদেশমুখিতা অনেকাংশে কমবে, আবার উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তিতে অর্থসংস্থানও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

 

লেখক : সাবেক প্রধান

হেড-নেক সার্জারি

নাক-কান-গলা বিভাগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬

সচেতনতাই সমাধান

২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। লিভারের এই মারাত্মক রোগে প্রতিবছর সারা বিশ্বে মারা যায় প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ, আক্রান্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। হেপাটাইটিস কেন হয় এবং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী

সচেতনতাই সমাধান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্সের আহ্বানে হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Let’s break it down’। অর্থাৎ হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পথে থাকা সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসিক বাধাগুলো ভেঙে ফেলতে হবে; দূর করতে হবে কুসংস্কার ও বৈষম্য। এ উপলক্ষে ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

হেপাটাইটিস কী

লিভারের এক ধরনের ভাইরাসজনিত প্রদাহ হেপাটাইটিস। হেপাটাইটিস ভাইরাসের রয়েছে মোট পাঁচটি ধরন—এ, বি, সি, ডি এবং ই। খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাস। এ দুটি ভাইরাসের সংক্রমণে দেখা দেয় তীব্র (acute) হেপাটাইটিস। সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস-ই দেখা দিলে ভ্রূণ ও মায়ের দেহে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণে দেহে নানা জটিল রোগ দেখা দেয়, মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এ দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণও হেপাটাইটিস বি এবং সি। লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণও এ দুটি ভাইরাস। প্রাথমিক লক্ষণ না থাকায় আক্রান্ত ১০ জনের ৯ জনই জানে না যে তারা ভাইরাসে আক্রান্ত। তাই এ দুটি ভাইরাসকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’।

 

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে প্রায় ৪.৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি এবং ০.৬ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-সিতে আক্রান্ত। অর্থাৎ দেশে আনুমানিক এক কোটি মানুষ এই ভাইরাসে ভুগছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আশ্রিত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে হেপাটাইটিস-সির সংক্রমণ হার আশঙ্কাজনক, প্রায় ২০ শতাংশ। গ্রামে স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সুযোগ কম থাকায় এবং কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার দরুন রোগীরা জটিল অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসে। তখন আর রোগ নিরাময় সম্ভব হয় না।

 

লক্ষণ

হেপাটাইটিস-এর লক্ষণগুলো ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অনেক সময় কোনো উপসর্গই থাকে না। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, হালকা জ্বর, বমি ভাব, পেটের ডান পাশে ব্যথা, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাসে মল, জয়েন্টে ব্যথা এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)। তবে মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হেপাটাইটিস সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

 

প্রতিরোধে করণীয়

♦ হেপাটাইটিস এ এবং ই প্রতিরোধে নিরাপদ খাবার, পানি ও পরিচ্ছন্নতা জরুরি। ‘এ’ ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করা যেতে পারে।

♦ হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমিত হয় রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে। রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে সঠিক স্ক্রিনিং, ডিসপোজেবল ইনজেকশন, সিরিঞ্জ ও ব্লেড ব্যবহার, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস (রেজার, টুথব্রাশ, কাঁচি) শেয়ার না করা, নিরাপদ যৌন চর্চা এবং চিকিৎসাকাজে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস-বির টিকা নেওয়া যেতে পারে। হাত মেলানো বা রোগীর খাবারের পাত্র ব্যবহারে এই রোগ ছড়ায় না।

 

মা ও শিশুর সুরক্ষা

মায়ের দেহে হেপাটাইটিস সংক্রমণ থাকলে সেটি নবজাতকের দেহেও ছড়িয়ে পড়ে। জন্মের সময় সংক্রমিত হলে ৯৫ শতাংশ, জন্মের কিছু সময় পর আক্রান্ত হলে ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসে ভোগে এবং ২০-২৫ শতাংশ শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মারা যায়। তাই গর্ভবতী মায়ের হেপাটাইটিস পরীক্ষা এবং আক্রান্ত হলে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে বার্থ ডোজ টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবুলিনও দিতে হবে। আমাদের দেশে এখনো প্রায় ৪৮ শতাংশ ডেলিভারি ধাত্রীদের মাধ্যমে হয়। ফলে ধাত্রীদের সচেতনতা এবং সরকারের ইপিআই শিডিউলে ২৪ ঘণ্টার বার্থ ডোজ দ্রুত সংযুক্ত করা প্রয়োজন।

 

চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

হেপাটাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। হেপাটাইটিস বি এবং সি চিকিৎসার জন্য মুখে খাওয়ার ওষুধ ও ইনজেকশন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। হেপাটাইটিস-সি চিকিৎসার ওষুধ (DAAs)বেশ দামি, তবে সরকারি কিছু সেন্টারে এটি বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। হেপাটাইটিস-বির ওষুধ দীর্ঘদিন খেতে হয়। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে লিভার ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ে, তাই এর চিকিৎসায় হেলাফেলা করা যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূল করা। এই লক্ষ্য অর্জনে ভ্যাকসিনেশন, মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ রোধ, নিরাপদ ইনজেকশন/রক্ত সঞ্চালন ও সহজলভ্য চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সব গর্ভবতী মায়ের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং জাতীয় হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম চালুর দিকেও জোর দিতে হবে। ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত প্রজন্মই হবে আমাদের আগামী দিনের বড় অর্জন।

 

লেখক : মহাসচিব

ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ

 

 

অনিদ্রা কাটাতে করণীয়

অনিদ্রা কাটাতে করণীয়