• ই-পেপার

কবে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান? জানা গেল সূচি

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে নজর থাকবে যাদের দিকে

ক্রীড়া ডেস্ক
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে নজর থাকবে যাদের দিকে
সংগৃহীত ছবি

নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (ওয়াফকন) ২০২৬ আসরের পর্দা উঠছে আগামীকাল রবিবার। টানা তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে মরক্কো। ঘরের মাঠে আগের দুটি আসরে টানা ফাইনাল হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও এবার নিজেদের প্রথম শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে তৈরি স্বাগতিক মরক্কোর নারীরা।

এবারের আসরের গুরুত্ব কেবল মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বেই সীমাবদ্ধ নয়, জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বমঞ্চের টিকিটও। টুর্নামেন্টের চার সেমিফাইনালিস্ট সরাসরি পেয়ে যাবে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা নারী বিশ্বকাপের টিকিট।

গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্পটলাইটে থাকা ফুটবলারদের দিকে নজর রাখা যাক—

এস্টার ওকোরোনকো (নাইজেরিয়া)

নাইজেরিয়ার টানা দশম রেকর্ড শিরোপা জয়ের আসল রূপকার ছিলেন এএফসি টরন্টোর এই ফরোয়ার্ড। গত আসরে দুই গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করে দলকে শিরোপা এনে দেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা। ফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেও তার অসাধারণ গোল এবং অ্যাসিস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিস্মরণীয় জয় পায় নাইজেরিয়া। আফ্রিকার বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ডে অবমূল্যায়িত হওয়া এই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার নিজেকে আবারও নতুন করে প্রমাণের বড় মঞ্চ।

তাবিতা চাওয়িঙ্গা (মালাউই)

প্রথমবারের মতো ওয়াফকনে খেলার সুযোগ পাওয়া মালাউইয়ের মূল আক্রমণের মূল ভরসা লিয়ঁ ফরাসি ক্লাবকে টানা পঞ্চমবারের মতো লিগ শিরোপা জেতানো ফরোয়ার্ড তাবিতা চাওয়াইঙ্গা। পার্ক দেস প্রিন্সেসে থাকা অবস্থায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করা প্রথম মালাউই নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই তারকা। ছোট বোন তেমওয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে শক্তিশালী নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া ও মিসরের মুখোমুখি হতে তৈরি তিনি।

গিজলেন শেব্বাক (মরক্কো)

মরক্কোর ৩৫ বছর বয়সী অধিনায়কের জন্য ট্রফি জয়ের শেষ সুযোগ হতে পারে এটিই। গত আসরে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে প্রথমে গোল করলেও শেষ পর্যন্ত রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল মরক্কোকে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া শেব্বাকের স্বপ্ন এবার বাবার মতো জাতীয় দলকে ট্রফি জেতানো। তার বাবা লারবি ১৯৭৬ সালে মরক্কোর হয়ে পুরুষদের আফকন জিতেছিলেন। এবার বাবার পথ ধরে ইতিহাস গড়তে চান তিনি।

লিলিয়ান আওওর (কেনিয়া)

দীর্ঘ আট বছর পর প্রথমবার মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কেনিয়া। দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ২৭ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে দুটি সেভ করে রূপকথার মতো জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। রোমানিয়ান ক্লাব ফারুল কনস্টান্টাকে ব্যাক-টু-ব্যাক লিগ শিরোপা জেতানো আওওরের গ্লাভসেই আশা খুঁজছে র‍্যাংকিংয়ের ১২৮ নম্বর দল কেনিয়া।

নাদিন গাজি (মিসর)

২০১৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো মিসর দলে ডাক পেয়েছিলেন নাদিন গাজি। এক দশক পর, দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ করে স্বমহিমায় ফিরেছেন আল আহলির এই মিডফিল্ডার।

রেফিলো জেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)

২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দলকে নেতৃত্ব দেবেন রেফিলো জেন। সম্প্রতি ১৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করা এই ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের লক্ষ্য একটাই—শিরোপা পুনরুদ্ধার করা এবং একই সঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা।

ভার্সেনিয়া দা লুজ (কেপ ভার্দে)

টুর্নামেন্টের আরেক ডেবিউট্যান্ট কেপ ভার্দে। দেশটির নারী দল আন্তর্জাতিক ফুটবল শুরু করেছে ২০১৮ সালে। আর শুরু থেকেই দলের অপরিহার্য অংশ লেফট-ব্যাক ভার্সেনিয়া দা লুজ। শিক্ষাজীবনে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করা ২০২০ সালের এই অধিনায়ক পুরোপুরি খণ্ডকালীন খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলটিকে এবার বড় কোনো চমক দেওয়ার স্বপ্নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইতালির কোচ হচ্ছেন পিরলো

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতালির কোচ হচ্ছেন পিরলো
ছবি : রয়টার্স

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির প্রধান কোচের পদে সাবেক মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোর আগমন এখন নিশ্চিত। ৪৭ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তির সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে পৌঁছেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। ইতালিয়ান দৈনিক লা রিপাবলিকার বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

সর্বকালের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত পিরলো ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও জুভেন্টাসের হয়ে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার অতিবাহিত করেছেন তিনি। 

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট ডিভিশন লিগের ক্লাব দুবাই ইউনাইটেডের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন পিরলো। এর আগে ২০২০-২১ মৌসুমে যুভেন্টাসের ডাগআউটে ছিলেন তিনি, যেখানে ক্লাবটিকে কোপা ইতালিয়া ও ইতালিয়ান সুপার কাপের শিরোপা এনে দেন। 

পিরলোর চুক্তির খবর আসার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এফআইজিসি সভাপতি জোভান্নি মালাগোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও ৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড ইতালির পরিকল্পনায় রাজি হননি।

গত এপ্রিলে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করেন তৎকালীন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নামে এফআইজিসি। পিরলো ও গার্দিওলা ছাড়াও ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল ইতালিয়ান ফুটবলের নীতি নির্ধারকরা।

জার্মানির কোচ হয়েই কেন পদত্যাগের হুংকার ক্লপের

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানির কোচ হয়েই কেন পদত্যাগের হুংকার ক্লপের
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের কোচ হয়েছেন ক্লপ। ছবি : এক্স থেকে

ইউলিয়ান নাগেলসমানের উত্তরসূরি হয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ।  তাতে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ায় নমনীয় থাকার কথা ছিল তার। তবে জার্মানির কোচ হয়েই পদত্যাগের হুংকার দিয়ে রেখেছেন তিনি।

সেটিও প্রথম কোচ হওয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে। প্রথম দেখায় কেন এমন হুংকার দিয়েছেন ক্লপ তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। জার্মান কোচের মতে, নিজের সমালোচনা সহ্য করতে রাজি। তবে কোনোভাবে যদি ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারকে নিয়ে বাজে কোনো মন্তব্য করা হয় তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

জার্মানির সঙ্গে ৪ বছরের চুক্তি হয়েছে ক্লপের। অর্থাৎ, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৪ বারের বিশ্বকাপজয়ীদের ডাগআউটে থাকছেন তিনি। নিজ দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। জার্মানির দায়িত্ব শেষে আর কখনো কোচিং করাবেন না বলে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে চান ৫৯ বছর বয়সী কোচ। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের পর ইয়ুর্গেন ক্লপের আর কোনো ক্যারিয়ার থাকবে না। এটি তাই আমার কোচিং জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়। ক্যারিয়ারের শীর্ষবিন্দু। দলের জন্য সবটুকু উজাড় করে দেব।’

 

এরপরেই আকার-ইঙ্গিতে সাংবাদিকদের সতর্ক করলেন ক্লপ। লিভারপুলের হয়ে প্রায় সর্বজয়ী কোচ বলেছেন, ‘ডিএফবি যদি বলে আমি ব্যর্থ, চলে যাব। আমার কাজের সমালোচনা করুন, আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু যদি বাজে ব্যবহার করেন, আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তবে আমি এক মুহূর্তও থাকব না।’

টমাস টুখেল-নাগেলসমানের সঙ্গে সাংবাদিকরা কেমন ব্যবহার করেছেন সেটা স্মরণ করে দিয়েছেন ক্লপ। তিনি বলেছেন, ‘জানি এমন অনেক দেশ আছে যেখানে জাতীয় দলের কোচদের সঙ্গে আরও খারাপ ব্যবহার করা হয়। মনে রাখবেন, এই দায়িত্ব নিজের জন্য নিচ্ছি না, আপনাদের জন্য নিচ্ছি। নাগেলসমান ও টমাস টুখেলের সঙ্গে আপনারা কেমন আচরণ করেছেন তা জেনেও এই চাকরিটা গ্রহণ করেছি আমি। কারণ, এই কাজকে আমি ভালোবাসি। তবে প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

ডাচদের সাবেক অধিনায়ক বেলজিয়ামের নতুন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ডাচদের সাবেক অধিনায়ক বেলজিয়ামের নতুন কোচ
বেলজিয়ামের নতুন কোচ বোমেল। ছবি : এক্স থেকে

সমঝোতার মধ্যে দিয়ে বেলজিয়ারেম কোচের পদ ছেড়েছেন রুডি গার্সিয়া। ৬২ বছর বয়সী কোচের বিদায়ের পর থেকেই গুঞ্জন চলছিল নতুন কোচ হচ্ছেন মার্ক ফন বোমেল। 

সেটাই সত্যি হয়েছে। গার্সিয়ার উত্তরসূরি হয়েছেন বোমেল। ৪৯ বছর বয়সী কোচ ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত বেলজিয়ামের ডাগআউটে দাঁড়াবেন। আগামী ১৫ আগস্ট দায়িত্ব বুঝে নিবেন তিনি।

 

চুক্তির বিষয়টি উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। বেলজিয়ামের কোচ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন বোমেল। নেদারল্যান্ডসের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘বেলজিয়ামের কোচ হতে পারাটা সত্যি সম্মানের। বেলজিয়াম দলে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় এবং প্রতিভাবান তরুণ আছে। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে এমন একটি দল গড়তে চাই— যা হবে সুশৃঙ্খল, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সেরাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যথেষ্ট সাহসী।’

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়াবেন বোমেল। ২০১৮-১৯ মৌসুমে পিএসভি আইন্দহোভেন দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা বোমেল সর্বশেষ কাজ করেন বেলজিয়ামের ক্লাব অ্যান্টওয়ার্পের হয়ে। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দলটিকে বেলজিয়ান প্রো লিগ, বেলজিয়ান কাপ ও বেলজিয়ান সুপার কাপ জেতান তিনি।