• ই-পেপার

জঙ্গি হামলা-অপহরণ ঠেকাতে সামরিক বাহিনী সম্প্রসারণ করছে নাইজেরিয়া

প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানল
ছবি : রয়টার্স

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে অন্টারিও পর্যন্ত নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

গত সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানলের সৃষ্টি হয়। সেখানে এখনো ৯০টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে ২৫টি জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের কাছে কিম্বার্লির দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক জানান, চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না

প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতে সৃষ্ট এই দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে। ফলে আলবার্টার ব্যানফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কানাডা সরকার। আগুন নেভাতে ৫,৩০০ জনেরও বেশি দক্ষ দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে মেক্সিকো থেকে আরো ২০০ জন দমকলকর্মী আগামী সপ্তাহে কানাডায় পৌঁছাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯.৫ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড় ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আদিবাসী গোষ্ঠীসহ হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুইবেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও আবহাওয়ার সামান্য উন্নতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে যেকোনো সময় আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু: ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তবে একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন সিনেটর চাক শুমারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন।

বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে এলে তিনি শুমারকে একটি ‘সুন্দর ফিলিস্তিনি পোশাক’ পাঠাবেন, যাতে তিনি নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানাতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমি আগামীকাল তাকে (চাক শুমারকে) একটি সুন্দর ফিলিস্তিনি পোশাক পাঠাব। যাতে আগামী সপ্তাহে বিবি নেতানিয়াহু শহরে এলে সে তাকে স্বাগত জানাতে পারে।' এরপর তিনি ইহুদি ধর্মাবলম্বী সিনেটর চাক শুমারকে নিয়ে আরো বলেন, 'সে ফিলিস্তিনি হয়ে গেছে।' এছাড়াও বলেন, শরিয়া আইন এখন শুমারের 'নতুন ভিত্তি'। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার চাক শুমারকে ‘ফিলিস্তিনি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও ইহুদি অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন তার সমালোচনা করে।

অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ট্রাম্প ‘ফিলিস্তিনি’ শব্দটি পরিচয় হিসেবে নয়, বরং অপমান ও গালি হিসেবে ব্যবহার করেন। তাদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য ফিলিস্তিনিদের প্রতি অসম্মানজনক এবং বিভাজনমূলক। 

এদিকে এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সোমবার ওয়াশিংটন সফরে যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন, মঙ্গলবার, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের শেষকৃত্যেও অংশ নেবেন। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পাঁচ মাসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দুই নেতার বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
 

শতবর্ষী দুই সমস্যার সমাধানে বিশ্বের শীর্ষ গণিত পুরস্কার জিতলেন দুই চীনা

অনলাইন ডেস্ক
শতবর্ষী দুই সমস্যার সমাধানে বিশ্বের শীর্ষ গণিত পুরস্কার জিতলেন দুই চীনা
সংগৃহীত ছবি

প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গণিত পুরস্কার ‘ফিল্ডস মেডেল’ জিতেছেন দুই চীনা গণিতবিদ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের হং ওয়াং ও  ইউ দেং ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে আরো দুই গবেষক—যুক্তরাষ্ট্রের জন পার্ডন এবং কানাডার জ্যাকন সিমারম্যান—এই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

চারজন বিজয়ীর প্রত্যেককে ১৫ হাজার কানাডীয় ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গণিতবিদদের সামনে থাকা দুটি জটিল সমস্যার সমাধান করায় হং ওয়াং ও ইউ দেং এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং ফিল্ডস মেডেল পাওয়া ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় নারী গণিতবিদ। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গণিতের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে পরিচিত ফিল্ডস মেডেল এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের গণনাভিত্তিক অনেক কাজ দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে।

এই অর্জনের খবর প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘ফিল্ডস মেডেল জয়ী প্রথম চীনা গণিতবিদ’—এই দুটি হ্যাশট্যাগ ওয়েইবো, রেডনোটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। ওয়েইবোর একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি সব চীনা মানুষের গর্ব।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি।’ চীনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও দুই গণিতবিদকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে তাদের শিক্ষাজীবন, গবেষণা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং এই অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য কী ধরনের গুরুত্ব তৈরি হয়েছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। চীনা বংশোদ্ভূত প্রথম ফিল্ডস মেডেলজয়ী গণিতবিদ শিং-টুং ইয়াউ বলেন, ‘চীনের গণিত সমাজের জন্য এটি এমন একটি স্বপ্ন, যা আমরা কয়েক দশক ধরে বাস্তব হতে চেয়েছি।’

হং ওয়াং তার সহকর্মী জশ জালের সঙ্গে মিলে ১৯১৭ সালে জাপানি গণিতবিদ সোইচি কাকেয়া উত্থাপন করা একটি বিখ্যাত সমস্যার সমাধান করেন। সমস্যাটি ছিল—একটি পেনসিলকে একবার সম্পূর্ণ ঘোরাতে হলে সবচেয়ে কম কতটুকু জায়গা প্রয়োজন? ওয়াং ও জাল এই সমস্যাটি নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেন। তারা ধরে নেন, পেনসিলটি সমতল জায়গায় নয়, বরং ত্রিমাত্রিক স্থানে ভাসছে। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা সমস্যাটির সমাধান করেন এবং গত বছর তাদের গবেষণা প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে হং ওয়াং বলেন, ‘এই ধারণাটি মানুষকে আকর্ষণ করে, কারণ একই ধরনের বিষয় একেবারে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যার মধ্যেও দেখা যায়।’ হং ওয়াং মূলত হারমোনিক বিশ্লেষণ নিয়ে গবেষণা করেন। গণিতের এই শাখায় তরঙ্গের চলাচল ও তার বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করা হয়।

৩৭ বছর বয়সী গণিতবিদ ইউ দেংও আরেকটি শতবর্ষী সমস্যার সমাধানের জন্য ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন। ১৯০০ সালে জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যা পরে ‘হিলবার্টের ষষ্ঠ সমস্যা’ নামে পরিচিত হয়। এই সমস্যার মূল প্রশ্ন ছিল—অসংখ্য আলাদা কণার চলাচল থেকে কিভাবে পুরো একটি ব্যবস্থার আচরণ ব্যাখ্যা করা বা হিসাব করা সম্ভব। ইউ দেং গ্যাসের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘যেসব মহান গণিতবিদকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা করেছি, তাদের নামের পাশে আমার নাম যুক্ত হওয়া সত্যিই অনেক বড় সম্মানের।’ বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ফিল্ডস মেডেলকে গণিতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার হিসেবে ধরা হয়। এটি প্রতি চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী অসাধারণ গণিতবিদদের দেওয়া হয়। নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

হং ওয়াং ১৯৯১ সালে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলের গুইলিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি একসঙ্গে দুটি শ্রেণি পাস করেন। পরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে চীনের মর্যাদাপূর্ণ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রথমে তিনি পৃথিবীবিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও এক বছর পর গণিত বিভাগে চলে যান। স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে যান। সেখানে প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয় ও একোল পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। একই সঙ্গে ফ্রান্সের ইনস্টিটিউ দে ওত এতুদ সিয়ঁতিফিক (আইএইচইএস)-এর স্থায়ী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিল্ডস মেডেল পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাখোঁ বলেন, ‘তিনি আমাদের গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষের প্রতীক।’ আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিজ্ঞানের জন্য ফ্রান্সকে বেছে নিন।’ অন্যদিকে ইউ দেং ছোটবেলা থেকেই গণিত অলিম্পিয়াড ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ২০০৭ সালে তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে দুই বছর পর তিনি এমআইটিতে চলে যান। এরপর প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ
স্পেনের আভিলা প্রদেশে একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে আসা দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মী ও সাধারণ মানুষ

স্পেন ও ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে মোট ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর কাছে নতুন করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দেশটিতে দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এ ঘটনাকে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস এবং একাধিক আগুনের সম্মিলিত বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো জানান, দাবানল বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা দমকল বাহিনীর সক্ষমতার বাইরে। আগুনের তীব্রতার কারণে অনেক এলাকায় সরাসরি অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না; সেখানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে এল এসকোরিয়াল শহরের আশপাশের এলাকা রক্ষায় তারা কাজ করছে।

এদিকে, পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দো এলাকায় আরেকটি বড় দাবানল জ্বলছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এটি মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে মিলে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ পর্যন্ত মাদ্রিদ অঞ্চলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ২০ হাজার মানুষ লকডাউনের আওতায় রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। আটটি পৌরসভা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি শহরে লকডাউন জারি রয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোজিও কাবরেরা বলেন, ‘আগুনের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি আপনাকে গ্রাস করে ফেলবে। জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও দেখিনি।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলেও ভয়াবহ দাবানলে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জিরন্দ অঞ্চলের দাবানলে এরই মধ্যে ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে। অনেক মানুষ নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলটি এখন নিজস্ব গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করে বোর্দো শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছেন। সহায়তার অংশ হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউরোপে গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় এরইমধ্যেই বেশি বনভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বড় বিপদ দক্ষিণ ইউরোপে ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

সূত্র : বিবিসি