বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। সংক্রামক ব্যাধির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এটি। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ভাইরাল হেপাটাইটিসের প্রায়ই কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। তাই রোগ অগ্রসর হওয়ার আগে রোগীরা জানতেও পারে না যে তারা আক্রান্ত। যখন উপসর্গ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে চিকিৎসা অনেক দেরি হয়ে যায়। ক্রনিক হেপাটাইটিস থেকে দেখা দেয় লিভার ক্যান্সার। যকৃতের ক্যান্সারের মূল কারণও এটি।
হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণে বিশ্বে প্রতিবছর ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। নতুন করে শনাক্ত হয় ২০ লাখ রোগী। অথচ হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ। হেপাটাইটিস শনাক্তের কার্যকর পরীক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং হেপাটাইটিস বির টিকাও বাজারে রয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চাইলে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।
হেপাটাইটিস নির্মূলে মূল বাধা সামাজিক কুসংস্কার এবং নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে সামাজিকভাবে নিগৃহ হতে হয়। জানাজানি হওয়ার ভয়ে হেপাটাইটিসের সঠিক চিকিৎসা নিচ্ছে না অনেকেই। চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে নীতিনির্ধারকদের রয়েছে গড়িমসি।
আসুন, এই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে আমরা একটি হেপাটাইটিসমুক্ত বিশ্ব গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রাচীরগুলো ভেঙে ফেলি। হেপাটাইটিস পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং টিকাদান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান সবার কাছে পৌঁছে দিই। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবাগুলো আরো বড় পরিসরে সহজলভ্য করা নিয়ে কাজ করাও জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন জোরালো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, টেকসই বিনিয়োগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতায় হেপাটাইটিসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। হেপাটাইটিস নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়।
লেখক : অধ্যাপক
লিভার, পরিপাকতন্ত্র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও বিভাগীয় প্রধান, লিভার বিভাগ
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল




