ম্যাসাজ এক ধরনের করিয়ে দেওয়া ব্যায়াম। স্পোর্টস মেডিসিন ও ফিজিওথেরাপি চিকিত্সায় ম্যাসাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় তিন হাজার বছর আগে গ্রিসে ম্যাসাজের প্রথম প্রচলন হয়। চীন, জাপান, ইংল্যান্ড, মিসর, তুরস্ক, পারস্য, রোমের মতো উপমহাদেশেও আড়াই হাজার বছর আগে থেকেই এর প্রচলন ছিল। এখন তো পাঁচতারা হোটেল থেকে পাড়ার গলির স্যালনেও ম্যাসাজ থেরাপি পাওয়া যায়। বডি ম্যাসাজ এখন আর শুধু বিলাসিতা নয়, শরীরকে পুনরুজ্জীবিত ও সুস্থ রাখার জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। বডি ম্যাসাজের আধুনিক নানা যন্ত্রপাতিও পাওয়া যায় বাজারে। বডি ম্যাসাজ শরীরের জন্য আরামদায়ক এবং মনের জন্য প্রশান্তিদায়ক হওয়ায় অনেকেই কিনছেন এসব ম্যাসাজ মেশিন। শরীর চাঙ্গা করতেও জুড়ি নেই ম্যাসাজের। তাই ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যে ম্যাসাজের জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখলে শরীর ও মন দুটিই উপকৃত হবে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পাইওনিয়ার থেরাপি সেন্টারের থেরাপিস্ট বকতিয়ার আহমেদ।
ক্লান্তি ও রোগমুক্তি
ম্যাসাজ শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ম্যাসাজ করালে পেশির চাপ কমে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়, যা শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। ঘাড়, কোমর, কাঁধসহ পেশির ব্যথায়ও কার্যকর ম্যাসাজ। নিয়মিত বডি ম্যাসাজের ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এর ফলে শরীর রোগমুক্ত থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়ে।
চাপ ও উদ্বেগ কমায়
ম্যাসাজ শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন হরমোন উত্পাদন বৃদ্ধি করে, যা মানসিক প্রশান্তি ও সুখের অনুভূতি দেয়। ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে। এটি কর্টিসল হরমোন কমাতে সাহায্য করে। মুড ভালো করে।
হার্টের সুরক্ষায়
বডি ম্যাসাজ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং হূদরোগের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ম্যাসাজ করালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যথা উপশম করে
আর্থ্রাইটিস বা অন্যান্য সংযোগস্থল সংক্রান্ত সমস্যায় ম্যাসাজ অত্যন্ত উপকারী। এটি পেশি ও জয়েন্টের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং ব্যথা উপশম করে। শক্ত পেশি ঢিলা করে শরীরকে নমনীয় করে। হাত-পায়ের পেশিতে ব্যথা, ঘাড় ব্যথা দূর করতেও বডি ম্যাসাজ উপকারী। যদি হাত-পা বা পিঠে অকারণ ব্যথা হয়, দুইবার বডি ম্যাসাজ করিয়ে নিন।
ঘুম ভালো হয়
ম্যাসাজ মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি এনে দেয়, যা গভীর ও প্রশান্ত ঘুমে সহায়ক হয়। বিশেষ করে ইনসমনিয়ায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত ম্যাসাজ উপকারী।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
বডি ম্যাসাজ ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এতে ত্বকের কোষে পুষ্টিপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। নতুন কোষ বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল, নরম ও মসৃণ হয়। ম্যাসাজের সময় ত্বকের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। তাই ত্বকে মৃত কোষ জমে থাকতে পারে না। ত্বক লাবণ্যময় হয়ে ওঠে।
হজমশক্তি উন্নত করে
ম্যাসাজের ফলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়, যা হজমশক্তিকে বৃদ্ধি করে। পেটের ম্যাসাজ করালে অন্ত্রের চলাচল সহজ হয় এবং গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির মতো সমস্যার সমাধান হয়।
সতেজ অনুভূতি
বডি ম্যাসাজে সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়। মনকে ঝরঝরে করে তোলে। তাই মন ভালো রাখতে বডি ম্যাসাজ করান। ম্যাসাজের ফলে শরীরের টিস্যুগুলোর পরিবর্তন হয়। শারীরিক গঠন সুন্দর রাখতেও সাহায্য করে।
সতর্কতা
* ম্যাসাজের সময় অতিরিক্ত জোরে বা ভুলভাবে চাপ দেওয়া যাবে না। এতে গুরুতর আঘাতের আশঙ্কাও থাকে।
* ম্যাসাজের পরে হালকা ব্যথা বা পেশিতে টান অনুভূত হতে পারে। কখনো কখনো নীলচে দাগ বা অস্বস্তি হতে পারে।
* রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বা যাঁরা রক্ত তরল রাখার ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা বডি ম্যাসাজ নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
* অস্টিওপোরোসিস বা হাড় দুর্বলতার সমস্যা থাকলে ম্যাসাজ নেওয়া যাবে না।
*সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার, ভাঙা হাড় বা খোলা ক্ষত থাকলে ম্যাসাজ করবেন না।
*থেরাপিস্টকে অবশ্যই আপনার শারীরিক অবস্থা ও সহ্যক্ষমতার কথা জানাতে হবে।
হ ম্যাসাজের সময় অতিরিক্ত ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে যিনি ম্যাসাজ করিয়ে দিচ্ছেন, তাঁকে জানান।






