• ই-পেপার

বর্ষায় ভালো থাকুন ভালো রাখুন

  • বর্ষায় কাপড়, আসবাব, ত্বক ও চুলের আলাদা যত্ন নেওয়া জরুরি। এ সময় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে কাপড় ও আসবাবে ছত্রাক জন্মে। ত্বক ও চুলও হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ। কী করা উচিত? লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

সাজ

বর্ষার সাজ মেকআপ কেমন হওয়া উচিত জানালেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন আয়েশা সিদ্দিকা স্বর্ণা

সাজ
ফুলের ব্যবহার বর্ষার সাজে স্নিগ্ধতা যোগ করবে

বর্ষার মৌসুমে চুলের সাজে কদম ফুল ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া কাঠগোলাপ, বেলি, বকুল, দোলনচাঁপা, শাপলা ও কামিনী ফুল দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন। কানে ফুলের তৈরি গয়না, হাতে বেলি ফুলের ব্রেসলেট পরলেও সুন্দর লাগবে। বর্ষায় হালকা রঙের সাজ মানানসই। সাজে হালকা মেকআপ বেছে নিন। মেকআপের বেইস পানিরোধী করুন। মেকআপ হতে হয় ত্বকের ধরন বুঝে। বাজারে এখন ওয়াটারপ্রুফ বা পানিরোধী ফাউন্ডেশন, মাশকারা, কাজল, লিপস্টিক—সবই পাওয়া যায়। তবে ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ করতে হলে প্রথমেই নিজের ত্বকের ধরনটা বুঝতে হবে। সে অনুযায়ী প্রসাধনী বেছে নিতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, তেলমুক্ত মেকআপ উপকরণ নিতে হবে। ত্বক শুষ্ক হলে ক্রিমি বা সাটিন ফিনিশের পানিরোধী বেইস মানানসই। তবে কারো ত্বকে অ্যালার্জি বা কোনো ধরনের সংক্রমণের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ওয়াটারপ্রুফ ফাউন্ডেশন, কাজল, আইলাইনার, লিপস্টিক ইত্যাদি ব্যবহার করুন। চোখের সাজ ফুটিয়ে তুলতে রঙিন আইলাইনার বেছে নিন। চোখের আকৃতির ওপর নির্ভর করে চিকন বা মোটা লাইন ড্র করে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা সাজ। চোখের সাজে স্মোকি টোন সব পোশাকেই মানিয়ে যায়। দিনের সাজে গোলাপি বা হালকা বাদামি এবং রাতের জন্য লাল, কমলা বা ম্যাজেন্টা রং মানানসই।

বিভিন্ন স্টাইলে চুল খুলে বা বেঁধে রাখতে পারেন। এখন নিয়মিত বৃষ্টি হলেও গরম খুব একটা কমেনি। সে ক্ষেত্রে চুলের সাজে বিভিন্ন স্টাইলে খোঁপা কিংবা বেণি করতে পারেন। হালকা রঙের পোশাকের সঙ্গে হালকা সাজ এবং বিনুনি করা চুল ক্যাজুয়াল লুক নিয়ে আসবে।

 

 

 

লটকনের পুষ্টিগুণ

টকমিষ্টি স্বাদের লটকন একটি বর্ষাকালীন ফল। এতে থাকা পুষ্টিগুণ বর্ষাকালীন বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে সুরক্ষা দেয়। এ ছাড়া চর্মরোগ, দাঁতের রোগ, মানসিক অবসাদ ও বমিভাব কমাতে উপকার মেলে লটকনে। লিখেছেন আহমেদ ইমরান

লটকনের পুষ্টিগুণ

বর্ষাকালে লটকন ফলটির প্রাচুর্য চোখে পড়ে। ভিটাসিন সি-তে ভরপুর ফলটির দামও বেশ কম। হাড়ফাটা, বুগি, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা ও লটকাউ—অঞ্চলভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত লটকন। ইংরেজিতে ফলটির নাম Burmese grape. এটি এক ধরনের হলুদ রঙের ছোট্ট গোলাকার ফল। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো জানান, লটকন পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ফল। মৌসুমি ফল হওয়ায় শরীরের জন্য উপকারী। লটকনে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিংক, থায়ামিন, ভিটামিন বি, সি ইত্যাদি এবং প্রোটিন ও প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়, যা আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। লটকনে ভিটামিন বি পাওয়া যায়। প্রতি ১০ গ্রাম লটকনে ১০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি১ এবং প্রতি ১০০ গ্রামে ০.২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি২ পাওয়া যায়।

পুষ্টিগুণ

* ভিটামিন সি-এর চমত্কার উত্স লটকন। এ ছাড়া এতে মেলে থায়ামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। লটকনে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। শরীরের ঘা তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে।

* ভিটামিন সি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে। প্রতিদিন দু-তিনটি লটকন খেলে ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ হয়। এতে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয়। 

* রসালো লটকন শরীরে পানির সমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

* মুখে রুচি বাড়াতে লটকন খেতে পারেন। বমিভাব কমাতেও উপকার দেয় লটকন।

হ ত্বকের রুক্ষতা ও ত্বক ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে লটকন।

* স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত লটকন খেলে চর্মরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

* খনিজ, ভিটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর এই ফলটি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী।

* মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে পারে নানা উপকারী উপাদানে ঠাসা এই ফল।

* লটকনে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন সারা দিন সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে।

* লটকনের ভিটামিন বি বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং চোখের রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

*   রক্ত ও হাড়ের জন্য উপকারী উপাদান আয়রন রয়েছে লটকনে।

*   এতে থাকা পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপকারী খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

* ফলটি বিভিন্ন চর্মরোগ; যেমন—চুলকানি, খোসপাঁচড়া ও দাদ সারাতে সক্ষম।

মুচমুচে পাঁচ পদ

বর্ষার বিকেলে পিঁয়াজু, চপ, শিঙাড়ার তুলনা হয় না। সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা মোমো স্বাদে যোগ করবে উষ্ণতা। দুপুর বা রাতের পাতে মুচমুচে ইলিশ ভাজি হলে তো আর কথাই নেই। এমন পাঁচ পদ রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী লিপি ইসমাইল

মুচমুচে পাঁচ পদ

আলুর চপ

 

উপকরণ

১ কাপ সিদ্ধ আলু, ১ কাপ বেসন, ২-৩টি কাঁচা মরিচ কুচি করা, ১ চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১ চা চামচ নুডলসের মসলা, ১ কাপ ধনেপাতা কুচি, আধা কাপ পেঁয়াজ ভাজা, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া, ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া, ১ কাপ তেল এবং স্বাদমতো লবণ।

মুচমুচে পাঁচ পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*    বেসন ও তেল বাদে বাকি সব উপকরণ মেখে চপের আকারে গড়ে নিন।

*    এবার বেসনে আধা চা চামচ মরিচ, হলুদ গুঁড়া, লবণ ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন।

*   এবার চপগুলো ব্যাটারে ডুবিয়ে তেল গরম করে এপিঠ-ওপিঠ ভালো করে ভেজে নিলেই তৈরি হলো মজাদার আলুর চপ। চপগুলো ভাজা হলে প্রথমে কিচেন টিস্যুতে রাখুন, যেন অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে যায়। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

ভেজ মোমো

উপকরণ

২ কাপ ময়দা, এক চিমটি লবণ, পরিমাণমতো পানি এবং ১ চা চামচ তেল।

 

পুরের জন্য : ২ কাপ বাঁধাকপি কুচি, ১টি গাজর গ্রেট করা, ১ চা চামচ আদা কুচি, আধা চা চামচ রসুন কুচি, স্বাদমতো লবণ, ১টি পেঁয়াজ কুচি করা, ২টি কাঁচা মরিচ কুচি করা, আধা চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ৩ চা চামচ সাদা তেল এবং ১ চা চামচ সয়া সস।

মুচমুচে পাঁচ পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*  একটি পাত্রে ময়দা নিয়ে এক চিমটি লবণ ও ১ চা চামচ তেল দিয়ে একটু নেড়ে পরিমাণমতো পানি দিন। ভালো করে মথে ডো বানিয়ে নিন।

*    পুর তৈরির জন্য প্যান চুলায় বসিয়ে এতে ৩ চা চামচ সাদা তেল দিন। এরপর একে একে আদা কুচি, রসুন কুচি, পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে ১ মিনিট নাড়ুন।

*   এরপর এতে বাঁধাকপি কুচি, গাজর কুচি ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে নাড়ুন। আধা মিনিট সতে করে ওপরে গোলমরিচ ও সয়া সস ছড়িয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন।

*   ডো থেকে লেচি কেটে ছোট ছোট লুচির মতো তৈরি করে মাঝে এক চামচ করে ভেজ পুর দিন। এরপর পছন্দমতো শেপে মোমো তৈরি করুন। সব মোমো তৈরি করা হয়ে গেলে স্টিমারে ১৫ মিনিট স্টিম করে নিন। মোমো তৈরি হয়ে গেলে সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

 

লইট্যা মাছের পিঁয়াজু

উপকরণ

৬টি লইট্যা মাছ, ১ কাপ বেসন, আধা কাপ চালের গুঁড়া, স্বাদমতো লবণ, আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া, এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, আধা চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া এবং পরিমাণমতো তেল।

মুচমুচে পাঁচ পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*   মাছ ধুয়ে টুকরা করে কেটে নিন। এরপর সামান্য লবণ দিয়ে মাছ মাখিয়ে নিন।

*   এবার সব শুকনা উপকরণ, লবণ ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, ব্যাটার বেশি ঘন হবে না, বেশি পাতলাও হবে না।

* এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছগুলো প্রথমে ব্যাটারে ডুবিয়ে একটি একটি করে এপিঠ-ওপিঠ মুচমুচে বাদামি করে ভেজে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল মজাদার মুচমুচে স্পাইসি লইট্যা পিঁয়াজু।

 

বরিশালী ইলিশ ভাজা

উপকরণ

৪ টুকরা ইলিশ মাছ, ৪টি কাঁচা মরিচ থেঁতো করা, ১ চা চামচ আদা বাটা, ১চা চামচ লেবুর রস, স্বাদমতো লবণ, ১ চা চামচ কাশ্মীরি লাল মরিচ গুঁড়া, পরিমাণমতো সরিষার তেল এবং আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

মুচমুচে পাঁচ পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*  মাছ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। আদা ও কাঁচা মরিচ একসঙ্গে বেটে নিন।

*  মাছে লেবুর রস, আদা ও কাঁচা মরিচ বাটা, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে ৩০ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন।

*  কড়াইয়ে তেল গরম করে তেল থেকে ধোঁয়া উঠলে আঁচ না কমিয়ে তাতে মাছ দিন। বেশি আঁচে ৩-৪ মিনিট ভাজুন। পরে আঁচ কমিয়ে আরো ৩-৪ মিনিট ভেজে নামিয়ে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

কলিজা শিঙাড়া

উপকরণ

২টি আলু সিদ্ধ কিউব করে কাটা, ১ কাপ মুরগির কলিজা, আধা চা চামচ ভাজা জিরা গুঁড়া, আধা চা চামচ ভাজা ধনে গুঁড়া, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, আধা চা চামচ আদা বাটা, আধা চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, আধা চা চামচ লাল মরিচ গুঁড়া, সিকি কাপ ধনেপাতা কুচি, ১ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি, ২ চা চামচ সয়াবিন তেল এবং স্বাদমতো লবণ।

খামির তৈরির জন্য : ২ কাপ ময়দা, ৩ টেবিল চামচ তেল, স্বাদমতো লবণ এবং ১ চা চামচ কালিজিরা।

মুচমুচে পাঁচ পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*   প্যানে তেল দিয়ে হালকা গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে এতে আদা বাটা দিয়ে আরেকটু ভাজুন।

*এবার এতে ধনে, জিরা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে নাড়ুন। এরপর এতে আধা কাপ পানি দিয়ে মসলা কষিয়ে নিন। এরপর এতে কলিজা ছোট ছোট করে কেটে দিন। কলিজা হাফ ডান হলে সঙ্গে আলু মিশিয়ে দিন।

*  আলু নেড়ে একটু ভেঙে নিন। এরপর লবণ মিশিয়ে ৫ মিনিট মাঝারি আঁচে ঢেকে রান্না করুন। কলিজা পুরোপুরি হয়ে এলে কাঁচা মরিচ কুচি ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য

সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহূত পোশাক ক্রয়ের ধারা পুরনো হলেও এখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা বিভিন্ন অনলাইন স্টোরে বদৌলতে থ্রিফট পোশাকের আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে। তরুণদের মধ্যে থ্রিফট শপিং এখন শুধু অর্থ সাশ্রয়ের উপায় নয়, ফ্যাশনেরও অংশ। লিখেছেন তানজিদ শুভ্র

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য
বুঝেশুনে কিনতে জানলে থ্রিফট শপিংয়েও ভালো মানের পোশাক খুঁজে পাওয়া সম্ভব

কম খরচে ভালো মানের পোশাক পাওয়া, ইউনিক ডিজাইনের প্রতি আকর্ষণ, পরিবেশসচেতনতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব—সব মিলিয়ে থ্রিফট শপিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের শিক্ষার্থী আফরা ইয়াসমীন অবনী প্রায় দুই বছর ধরে থ্রিফট শপিং করছেন। শুরুটা হয়েছিল কৌতূহল থেকে। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার একটি জ্যাকেট কিনেছিলাম। কম দামে ভালো মানের পোশাক পেয়ে অবাক হয়েছিলাম। এর পর থেকেই থ্রিফট শপিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।’ অবনীর মতে, থ্রিফট শপিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো কম খরচে ভালো মানের পোশাক পাওয়া। পাশাপাশি অনেক সময় এমন ইউনিক ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায়, যা সাধারণ দোকানে সহজে মেলে না। তিনি বলেন, এটি শুধু অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় নয়, ফ্যাশন ট্রেন্ডও। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভিনটেজ ও ইউনিক পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তবে থ্রিফট পোশাক নিয়ে এখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলায়নি বলেও জানালেন তিনি। অনেকেই এখনো ব্যবহূত পোশাক কেনা ও ব্যবহার নিয়ে ভ্রু কুঁচকান। কিন্তু বুঝেশুনে বাছাই করলে এ রকম বাজার থেকেও উন্নতমানের পোশাক পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী।

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য
বেগমবাজারের পুরনো শাড়ির দোকান। ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্রিফট শপিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি পরিবেশগত দিকও রয়েছে। ক্লাইমেট ওয়াচের রিপোর্টার খাদিজা আক্তার মাহিমা বলেন, পোশাকশিল্প পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। একটি জিন্স প্যান্ট উত্পাদনেই বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়। অথচ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছে। কাপড় ডাস্টবিনে ফেলে দিলে তা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশে থেকে যায়। থ্রিফট শপিংয়ের মাধ্যমে একই পোশাক বারবার ব্যবহার করা যায়। ফলে বর্জ্য কমে এবং পরিবেশের ওপর চাপও কমে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের জন্য পোশাক বর্জ্য একটি বড় পরিবেশগত সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে পোশাকশিল্পের বর্জ্য নদী, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কাপড় ফেলে না দিয়ে পুনর্ব্যবহার করা দায়িত্বশীল ভোক্তা আচরণের অংশ। থ্রিফট সংস্কৃতি টেকসই জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য
পুরনো পোশাকের বড় বাজার রাজধানীর বেগমবাজার

থ্রিফট শপিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন বস্ত্র প্রকৌশলী মো. আলিফ রোবাইয়াত। তিনি বলেন, এটি শুধু সাময়িক ট্রেন্ড নয়। বর্তমানে মানুষ কম খরচে ভালো মানের পোশাক খুঁজছে। সেই চাহিদা থ্রিফট বাজারকে আরো বিস্তৃত করছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্কৃতির সঙ্গেও বাংলাদেশের থ্রিফট বাজারের মিল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ইউরোপ ও আমেরিকায় বহু বছর ধরেই থ্রিফট শপিং জনপ্রিয়। সেখানেও কম খরচে ভালো মানের পোশাক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। ফাস্ট ফ্যাশনের তুলনায় থ্রিফট শপিংকে বেশি পরিবেশবান্ধব বলেও মনে করেন রোবাইয়াত। তিনি বলেন, নতুন পোশাক উত্পাদনে প্রচুর পানি, জ্বালানি ও কাঁচামাল লাগে। থ্রিফট শপিং পোশাকের ব্যবহারকাল বাড়ায় এবং নতুন উত্পাদনের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য
ফ্যাশনপ্রেমীরা অনেক সময় আনকমন পোশাক খুঁজে বেড়ান থ্রিফট শপিংয়ে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থ্রিফট সংস্কৃতি জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে যেখানে ব্যবহূত পোশাকের বাজার ছিল সীমিত, এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা দেশের ক্রেতাদের কাছে সহজেই পৌঁছানো যাচ্ছে। তরুণদের একটি বড় অংশ এখন পোশাকের উেসর চেয়ে মান, ব্যবহারযোগ্যতা এবং মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ব্যবহূত পোশাক নিয়ে আগের সামাজিক সংকোচও ধীরে ধীরে কমছে।

থ্রিফট শপিং—কম দামে ভালো পণ্য
ফুটপাতে ভ্যানে করেই বেশি বেচাকেনা হয় সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য

অর্থ সাশ্রয়, ব্যক্তিগত স্টাইল, পরিবেশসচেতনতা এবং টেকসই জীবনধারার সমন্বয়ে থ্রিফট শপিং দিন দিন নতুন এক সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের প্রতি মানুষের আগ্রহের জন্য ভবিষ্যতে এই বাজার আরো বড় হবে।

নিউমার্কেট, গাউছিয়া শপিং কমপ্লেক্স, গুলিস্তান, হোপ মার্কেট, হলিডে মার্কেট, বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন লন্ডন ইকরাম মার্কেট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে ভ্যানে করে বিক্রি হয় সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক। এ ছাড়া রাজধানীর বেগমবাজারে গড়ে উঠেছে থ্রিফট শপিংয়ের বড় মার্কেট। মালবেরি ক্লদিং, ৫০০ স্ট্রিট থ্রিফটের মতো অনলাইন শপেও পাবেন সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক।