আসবাব
ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সুপ্রকাশ অধিকারী বললেন, ‘বর্ষায় ঘরদোরে ভেজাভাব দেখা যায়। মেঝে-দেয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে ওঠে। জলাশয় বা পুকুরের পাশে বাড়ি হলে দেয়ালে নোনাও ধরতে পারে। এমন পরিবেশে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শখের আসবাবও। কাঠের আসবাবে সাদা তুলোট ছত্রাক পড়ে। আবার নষ্ট হতে পারে শৌখিন গদিওয়ালা সোফা-কাম-বেডও। এ সময় আসবাব ভালো রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন।’ নোনা ধরা, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল থেকে আসবাব সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। আলমারি, সোফা যেটিই থাক, সেটি দেয়ালের একেবারে গা ঘেঁষে রাখবেন না। মাঝে যেন কিছুটা ফাঁকা থাকে।
কাঠের আসবাব ভালো রাখতে পুনরায় পলিশ করিয়ে নিতে পারেন। পলিশ করালে সেটি শুধু চকচকে হয়ে উঠবে না, অতিরিক্ত আর্দ্রতা কাঠের ক্ষতি করতে পারবে না। কাঠ পানির সংস্পর্শে এলে নষ্ট হয়ে যায়। ছত্রাক জন্মায় অনেক সময়। কোনো কারণে কঠের আসবাবে পানির ছিটা লাগলে দ্রুত তা শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। বৃষ্টির কারণে জানালা-দরজা বন্ধ রাখলে ঘর ভাপসা, স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে বাইরের আলো-হাওয়া ঘরে আসতে দিন। এতে স্যাঁতসেঁতেভাব কমে যাবে। আসবাবও ভালো থাকবে। গদিওয়ালা সোফা, চেয়ার থাকলে সতর্ক হোন। এ ধরনের আসবাব দ্রুত আর্দ্রতা শোষণ করে।
চুল
একটু সচেতন থাকলেই বর্ষার আর্দ্রদিনেও চুল হবে প্রাণবন্ত। এ সময় প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে হেয়ার প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা জানান, দুই টেবিল চামচ নারকেল তেল, দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং একটি ডিম নিন। এর সঙ্গে আমলকী গুঁড়া এক টেবিল চামচ, মেথি গুঁড়া এক টেবিল চামচ মিশিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করুন। বর্ষায় অনেকের চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তাঁরা দুই টেবিল চামচ টক দই, এক চা চামচ গ্রিন টি এবং একটি পাকা কলা ব্লেন্ড করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। ব্যবহারের আগে সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও নারকেল তেল মিশিয়ে তালুতে মালিশ করুন।
মাথার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে প্রয়োজনে আপনি শ্যাম্পুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। খুশকি প্রতিরোধী শ্যাম্পু বেছে নিন। বৃষ্টিতে চুল ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা ভালো। না পারলে যত দ্রুত সম্ভব চুল শুকিয়ে নিন। প্রয়োজনে ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বক
বৃষ্টির দিন ত্বকে হতে পারে জীবাণুর সংক্রমণ। একটু সচেতন থাকলেই বর্ষার আর্দ্রদিনেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত। রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা বলেন, কাদাপানি লেগে যাওয়ায় পায়ের যত্নেও মনোযোগ দরকার এ সময়। মুখের ত্বকের যত্নে ক্ষারের মাত্রা কম এমন প্রসাধনী বেছে নিন। তেলবিহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। টোনার ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকবে, ত্বক থাকবে কোমল। সানস্ক্রিনসামগ্রীও ব্যবহার করুন নিয়মমাফিক। সপ্তাহে এক দিন স্ক্রাবিং করুন। সতেজ থাকতে পাকা কলার সঙ্গে পরিমাণমতো মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। হাত-পায়ের সুস্থতায়
পানির কাজ করার পর হাত ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার ম্যানিকিউর করান। পেডিকিউর করানো উচিত সপ্তাহে দুইবার। গরম পানি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল শ্যাম্পু আর সামান্য লেবুর রস দিয়ে বাড়িতেই ম্যানিকিউর-পেডিকিউর করাতে পারবেন। সুন্দরভাবে কেটে রাখলে নখ সুস্থ থাকবে। পায়ে কাদা বা ময়লা পানি লাগলে দ্রুত পরিষ্কার করা আবশ্যক।

কাপড়
এ সময় কাপড়ের আলাদা যত্ন নেওয়া দরকার। নইলে কাপড়ে তিল পড়া, গন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ছত্রাক পড়ার মতো ঘটনাগুলো বারবার ঘটতে থাকবে। খেয়াল রাখুন কাপড়টি ভালোভাবে শুকিয়েছে কি না। কাপড় শুকানোর পর অবশ্যই ইস্তিরি করে নেবেন। ছত্রাক পড়া পোশাক পানি বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুলেই উঠে যায়। বৃষ্টির দিনে কাপড়ে কাদা লাগলে প্রথমে সেই জায়গাটুকু ধুয়ে তারপর পুরো কাপড় ধুয়ে ফেলুন। এতে দাগ ভালোমতো উঠে যাবে। কাপড় যদি রোদে পুরোপুরি শুকানো না যায়, তবে ফ্যানের নিচে দিয়ে শুকাতে হবে। হালকা ভেজা কাপড় ঘরে শুকাতে পারেন। পরে রোদে শুকিয়ে নিন। এতে কাপড়ের গন্ধ চলে যাবে। এ সময় কাপড়ের গন্ধ দূর করতে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে আলমারির দরজা কিছুক্ষণ খুলে রাখতে পারেন। কাপড়ে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সুগন্ধি বাজারে পাওয়া যায়। গন্ধ দূর করতে এসব সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন। কাপড়ের পাশে চকের টুকরা দিয়ে রাখতে পারেন, তাতে আর্দ্রতা চক টেনে নেবে।




