• ই-পেপার

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে হকি স্টিক ও পাহাড়ি টুপি উপহার দিলেন মোদি

ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অক্টোবরে, বড় পরীক্ষার মুখে নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অক্টোবরে, বড় পরীক্ষার মুখে নেতানিয়াহু
ছবি : রয়টার্স

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির সংসদ (নেসেট) রবিবার এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এই নির্বাচনকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর জনগণের রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী শুক্রবার বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী জোট সরকার টানা চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করবে। গত প্রায় ৫০ বছরে এটিই ইসরায়েলের প্রথম সরকার, যা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে।

দেশটির সংসদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বর্তমান নেসেট (ইসরায়েলের সংসদ) তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী আগামী সাধারণ নির্বাচন ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদের মেয়াদ কমানোর কোনো পরিকল্পনা না থাকায় নেসেট বিলুপ্ত করার জন্য আলাদা কোনো আইন পাস করার প্রয়োজন নেই।’

ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জুন মাসে ঘোষণা দেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার পর থেকে এই নেতা তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। 

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই হামলার জন্য সমালোচকরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এসব ব্যর্থতার সুযোগে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ২৫১ জনকে জিম্মি করতে সক্ষম হয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

আইজেনকোট এর আগে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তবে গাজা যুদ্ধে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি ২০২৪ সালের জুনে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় তার ছেলে নিহত হন।

শুক্রবার সংসদ অধিবেশন স্থগিত হওয়ার আগে সরকার বেশ কয়েকটি আইন পাস করতে চাইছে। নেতানিয়াহু আশা করছেন, এই আইনগুলো তার নির্বাচনী সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে। প্রস্তাবিত বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগ সংস্কারসংক্রান্ত আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশ না নেওয়া অতি গোঁড়া ইহুদিদের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ স্থগিত করার একটি বিল।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা মনে করেন, গাজা যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা প্রমাণ করে যে, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন। তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী হামাসকে পুরোপুরি পরাজিত করা যায়নি। একই সময়ে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

নেতানিয়াহু বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে নিজের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
 

জর্দানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দায় আরব পার্লামেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
জর্দানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দায় আরব পার্লামেন্ট
সংগৃহীত ছবি

কাতার, ওমান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও জর্দানের ওপর ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব পার্লামেন্ট। সংস্থাটি বলেছে, এসব হামলা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।

রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরব পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বিন আহমেদ আল ইয়ামাহি বলেন, ইরানের এই হামলা আরব দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদেরও লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যেতে পারে। এতে এ অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আরব পার্লামেন্ট হামলার শিকার দেশগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড, নাগরিক এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার প্রতিও সমর্থন প্রকাশ করেছে।

আল ইয়ামাহি বলেন, কোনো আরব দেশের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা পুরো আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ও কার্যকর অবস্থান নিতে হবে। আরব পার্লামেন্ট জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আরো হামলা ঠেকানো, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিবৃতিতে মোহাম্মদ বিন আহমেদ আল ইয়ামাহি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করারও আহ্বান জানান তিনি।
 

উপসাগরে ইরানের হামলা জোরদার, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরে ইরানের হামলা জোরদার, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার চালানো এই হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। একই সময়ে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালিত ছোট দ্রুতগতির নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার কিছুক্ষণ পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি কর্মকর্তারা জানান, কাছের কেশম দ্বীপেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কেশমের গভর্নর হোসেইন আমির তেইমুরি বলেন, ১০ থেকে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপটিতে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, সব হামলাই সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশাহর শহরের একটি পানি পাম্পিং স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশে আরেকটি হামলায় দায়িত্ব পালনরত একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত ও আরো দুইজন আহত হন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স সিএনএনকে জানান, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করছি।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলাকে ‘আগ্রাসী’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে শনিবার মাসকাটে ইরান ও ওমানের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, তা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। তাদের অভিযোগ, ওমানের ওপর ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য ও গোপন চাপের কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানায় তারা। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করার ইরানের চেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়তে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। চলতি বছরের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির দায়িত্বে থাকা ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা চলতে থাকলে কোনো জাহাজকে প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। তারা জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আবেদন বিবেচনা করা হবে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ইরানের হুমকি ও আগ্রাসনের মধ্যেও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানায়, তারা জর্ডানে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ড্রোন ঘাঁটি, কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার কেন্দ্র ও হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ওমানে বিমানবাহী রণতরির সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, কুয়েতে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার। অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, হামলায় তাদের উত্তরাঞ্চলের তিনটি সীমান্তকেন্দ্র এবং সমুদ্রের একটি তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন কর্মী আহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে। কাতার জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। দেশটি এই হামলার জন্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের সীমান্তের বাইরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, তারা আকাশপথে আসা হুমকি প্রতিহত করেছে। জর্ডান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওমান জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি এলাকায় ড্রোন হামলা হয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহত্তর শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী চুক্তির মাঝামাঝি সময়ে আবারও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তার মতে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে তিনি ভবিষ্যতে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলেও জানান। সংঘাত শুরুর এক দিন আগে মাসকাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈঠক করেন। ইরান জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয় করাই ছিল ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য। পরে কাতারকে যুক্ত করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়। 

এ ছাড়া আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসব কূটনৈতিক যোগাযোগের পরও ইরানের অবস্থান কঠোরই রয়েছে। দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ‘একমুখী চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম, কথা রাখুন, না হলে মূল্য দিতে হবে।’ দুই পক্ষই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কেউই আপাতত পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।


 

ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের অতিথিবাহী পিকআপে ২ ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১৩

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের অতিথিবাহী পিকআপে ২ ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১৩
ছবি ; রয়টার্স।

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের একটি মহাসড়কে দুটি ট্রাকের মাঝে একটি বিয়ের অতিথিবাহী পিকআপ চাপা পড়ে ১৩ জন নিহত এবং আরো ৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (১৩ জুন) পুলিশ জানায়, রবিবার বিকেলে ইন্দ্রামায়ু রিজেন্সির কিয়াজারান কুলোন গ্রামের কাছে উত্তর উপকূলীয় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা পাশের পারিয়ান গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা একটি খোলা পিকআপে ভ্রমণ করছিলেন। মহাসড়কে ইউ-টার্ন নেওয়ার জন্য পিকআপটি ডিভাইডারের কাছে গতি কমিয়ে থামলে একই দিক থেকে আসা একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে পিকআপটি বিপরীত লেনে চলে যায়। সেখানে আরেকটি ট্রাক সেটিকে আবার ধাক্কা দিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিকআপে থাকা বহু মানুষ সড়কে ছিটকে পড়েন।

পুলিশ জানায়, আহত ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সামান্য, আবার কেউ গুরুতর আহত। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহন, দুর্বল সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।