৩৯ দিন ধরে চলা ফুটবলের গল্প বলা শেষ হয়েছে। ৪৮টি দেশের ১০৪টি খেলায় ৩০৮টি গোলের ঘটনাবহুল অসাধারণ ফুটবল উৎসব সাঙ্গ হয়েছে। ফুটবল শুধু মাঠে চিত্তাকর্ষক হয়নি, মানুষের হৃৎপিণ্ড নিয়ে ইচ্ছামতো খেলেছে গোলকপিণ্ডটি। ফিফা ফুটবলকেন্দ্রিক ব্যবসায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফিফার বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনে বেজায় খুশি ফিফার সব সদস্য দেশ। এরই মধ্যে উয়েফার পক্ষ থেকে অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে। দাবি উঠেছে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং অন্য মহাদেশগুলো থেকেও। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে প্রচুর বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও এই সুইস ব্যক্তিত্ব কিন্তু নির্ভার। তাঁকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার জন্য প্রায় ২০০ দেশ পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর পুনরায় নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।
এরই মধ্যে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘১৯৩০ সালে বিশ্বকাপে ৬৪ দলের অংশ নেওয়ার বিষয়টি আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপ শেষে পর্যালোচনা করব। বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ সব দলকেই দেওয়া উচিত।’ স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহাদেশের যেসব দেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রাউন্ডে খেলার সুযোগ পায়নি, তারা এখন উত্তেজনায় ভুগছে। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রাউন্ডে খেলেছে ৮৪টি দেশ। চূড়ান্ত রাউন্ডে ৬৪টি দেশের অংশগ্রহণ মানে আরো বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন মহাদেশ থেকে খেলার সুযোগ বাড়বে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা তো ‘বেল পাকলে কাকের কী’। বিশাল মানবসম্পদের কী মারাত্মক অপচয়। আমাদের তো আবার সবাই মিলে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেখানে পৌঁছার ইচ্ছাশক্তি নেই। আমরা কবে জেগে উঠব। আত্মপ্রচারের পরিবর্তে দেশ ও ক্লাব ফুটবল নিয়ে ভাবব?
৩২ থেকে ৪৮ দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পর রব উঠেছিল, বিশ্বকাপে চূড়ান্ত রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঝুলে পড়বে। বাস্তবতায় ২৩তম বিশ্বকাপে এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফুটবল দুনিয়া তো আর সেই ২০ বছর আগের অবস্থায় নেই। দেশে দেশে ফুটবলে যে সংস্কার সাধন হয়েছে, এটি শুধু ইতিবাচক নয়, অনন্যও বটে। ফুটবল নিয়ে এখন গবেষণাগারে নিয়মিত গবেষণা চলে।
বিশ্ব-মাতানো উৎসব শেষ। ফুটবলের মালা ছিঁড়ে খসে পড়েছে আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, আফসোস, পক্ষপাতিত্ব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অখেলোয়াড়সুলভ মনোভাব, সুবিধা দেওয়া এবং অসুবিধা সৃষ্টি, সর্বোপরি বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রভাব ইত্যাদি। ফুটবলের জাদুর সেই টান টান উত্তেজনা এখন আর নেই। এখন চলছে স্মৃতি রোমন্থনের পালা। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মেলানো। চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসে—মানুষ জাতিকে আবদ্ধ করে ফেলে একটা মোহের মধ্যে। ফুটবলের মধ্যে আছে আশ্চর্য একটি সম্মোহনী শক্তি, যা মানুষকে আচ্ছন্ন করে সহজেই।
দেশ ফুটবলের অসিলায় অনেক কিছুই ভুলে মেতে উঠেছে। কোনো ভূমিকা নেই বিশ্বকাপের কম্পিটিশনের সঙ্গে। শুধু খেলার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বা অন্যের সাফল্যের ভাগীদার হওয়ার পাশাপাশি নিজ ব্যর্থতাকে ভুলে থাকার জন্য এত মাতামাতি! দেশে ২৩তম বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ১২-১৩ জন তরুণের প্রাণ গেছে। প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী দুই শর বেশি মানুষ দল সমর্থনকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে হামলা করা হয়েছে। অথচ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে অসময়ে ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে যারা দেশে ফিরে গেছে, তাদের দেশে এর প্রতিবাদে হিংসাত্মক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে—আর সেই ক্ষোভে মূল্যবান প্রাণ ঝরেছে—এমন খবর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার বদৌলতে চোখে পড়েনি। এটি কি ফুটবলের সমস্যা, না মানসিক অসুস্থতা? অসচেতনতা ও অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশে সাধারণ ফুটবল অনুরাগীদের মনন আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলকে ঘিরে। মেসি আর নেইমার নিয়ে ছিল সব আবেগ আর উচ্ছ্বাস। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল অসময়ে বিদায় নেওয়ায় ভক্ত ও সমর্থকদের মন ভেঙেছে। তবে এটি তো ঠিক, ব্রাজিল কেন এগিয়ে আসতে পারল না—এটি যারা ফুটবল বোঝে, তারা বুঝতে পেরেছে। ফুটবল তো মাঠে খেলেই জিততে হবে। ভাগ্যিস, আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত গেছে। এতে দেশে ফুটবলের উন্মাদনা ও আনন্দ রংহীন হয়নি। ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। এমনটি কেন হয়েছিল? আর্জেন্টিনার খেলা দেখে মনে হয়নি যে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছে জেতার জন্য। ভাবা যায়, আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটে একটি শটও করতে পারেনি স্পেনের গোলপোস্টে। বিশ্বকাপে এটি কোন ধরনের ফাইনাল ম্যাচ? বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল খেলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম হয়েছে। এখন কত কিছুই না শোনা যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো, লাতিনের ঘর থেকে ট্রফি ইউরোপে আবার চলে গেছে। অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের বছরের জন্য।
শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো দল প্রচণ্ড দাপটের সঙ্গে স্পষ্ট প্রাধান্য বিস্তার করে এর আগে আর কখনো শিরোপা জেতেনি, সদ্যঃসমাপ্ত ২৩তম বিশ্বকাপের ফাইনালে যেভাবে জিতেছে স্পেন। পরাজিত দল বিজয়ী দলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশ্বকাপে এটি কোন ধরনের ফাইনাল খেলা! স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন পুরো খেলায় ছিলেন ফুরফুরে অবস্থায়। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়নি। পুরো টুর্নামেন্টে আট খেলায় সিমনকে ফাঁকি দিয়ে মাত্র একটি বল জালে ঢুকেছে। সিমন এবার পুরস্কার পেয়েছেন ‘গোল্ডেন গ্লাভ’।
এবারের সেমিফাইনালে যে চারটি দেশ উঠে এসেছে, এই চারটি ফিফার র্যাংকিংয়ে শীর্ষে। এই চারটির মধ্যে তিনটি ইউরোপ এবং একটি লাতিন আমেরিকান। বিশ্বকাপের সঙ্গে তো কোনো কিছুর তুলনা চলে না। দুনিয়াজুড়ে আর্জেন্টিনার ভক্ত ও সমর্থক স্পেনের তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেশি, এটিই বাস্তবতা। সবাই আশা করেছিল, ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি শক্ত লড়াই উপভোগ করবে। হ্যাঁ, ফুটবলের দর্শনে উভয় দলের মধ্যে মাঠের লড়াইয়ে অবশ্যই পার্থক্য আছে। এর পরও তো বিশ্ব ফুটবল মঞ্চে দুটি সেরা দেশের ফুটবল রোমাঞ্চ ছড়ানোর লড়াই। এই দুই দেশের ফুটবলের গল্প ভিন্ন ধরনের হলেও সব সময় ভক্ত ও সমর্থকদের আকৃষ্ট করেছে। মাঠে আর্জেন্টিনা দলের দুর্বলতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং পুরোপুরি বিবর্ণ চেহারা দেখে ভক্ত ও সমর্থকরা ভীষণভাবে হতাশ হয়েছে। ফুটবলে অনুভূতির বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পায়। শুধু মাঠের খেলাই সব নয়, আবেগের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আর্জেন্টিনা চেয়েছিল ট্রফি ‘রিটেইন’ করতে। খেলোয়াড়রা মেসির বিদায়লগ্নে তাঁর হাতে আরেকবার বিশ্বকাপ তুলে দিতে চেয়েছিলেন। মাঠে কিন্তু সেই দৃঢ়তা, চেতনা, আত্মবিশ্বাস কিছুই ছিল না। মাঠে পরাজিত দলটি পাত্তাই পায়নি। প্রতিপক্ষ মেসিকে আটকে ফেলায় তিনি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছিলেন।
ফুটবলের ট্যাকটিশিয়ানরা এখন অনেক বেশি মাথা ঘামান মাঠে এবং মাঠের বাইরের খেলায়। ফুটবল তো অনেক আগেই সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। পায়ের খেলায় মাথার গুরুত্ব ভীষণভাবে বেড়ে গেছে। সহজ-সরল ফুটবলকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছেন চিন্তাশীল মানুষরা। আসলে একজনের পক্ষে তো বিশ্বকাপ জয় করা সম্ভব নয়। দলীয় শক্তি ছাড়া উপায় নেই। ফুটবলীয় দর্শনে একতা এবং সবাই মিলে লড়াই সবচেয়ে বেশি কার্যকর, মাঠে এটি দেখিয়ে দিয়েছে স্পেন। তারা সবাই মিলে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। গ্রুপ ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথম খেলায় সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছে। এরপর নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফিতে চুমু এঁকে দিতে সক্ষম হয়েছে ৩৬ বছর অপেক্ষার পর। স্পেন কিভাবে এবার ফাইনালে এসেছে আর আর্জেন্টিনা কিভাবে এসেছে, এই বিষয়টি নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলে উত্তর মিলবে।
ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেন ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ট্রফি জিতেছে। একমাত্র গোলটি করেছেন স্পেনের ফেরান তোরেস। তবে বিশ্বের যে কয়েক শ কোটি মানুষ সময়ের ব্যবধানে এই খেলা দেখেছে, তারা অস্বীকার করতে পারবে না যে খেলার ধারায় আর্জেন্টিনা যদি আরো অনেক বেশি গোলে পরাজিত হতো, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। আর্জেন্টিনা পারেনি কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার সম্মান দিতে।
দেশে আমরা সাধারণ মানুষ সবাই মিলেমিশে অনেক আবেগ, ভালোবাসা নিয়ে প্রতিদিন খেলা দেখেছি। সদ্যঃসমাপ্ত বিশ্বকাপ চলাকালীন দিনগুলোতে মিডিয়ায় দেখেছি ফুটবল পণ্ডিত আর বিশেষজ্ঞদের ছড়াছড়ি। দেশে এত ফুটবল পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে খেলাটি করুণভাবে ধুঁকছে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা লক্ষ করেছি, ফুটবলের জন্য যে ভালোবাসা দেখেছি—এই আগ্রহ যদি দেশের ফুটবল উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হতো, তাহলে দেশের ফুটবল উপকৃত হতো। সময় যত গড়াচ্ছে, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রাউন্ডের নতুন নতুন দেশের খেলার সম্ভাবনা বাড়ছে। অতএব, ঘুম থেকে জেগে উঠতে হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে হাওয়া বুঝে দেশের ফুটবল পণ্ডিতদের কেউ কেউ তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। জানি না, এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার কোনো হিসাব ছিল কি না। ফুটবলের চেহারা ও চরিত্র বোঝা মুশকিল। খেলাটি মজা ও রহস্য করতে ভালোবাসে। ফুটবলকে বিধাতা ছাড়া কেউ চিনতে পারেনি। এই খেলা কাউকে অনেক দিয়েও আবার শেষ সময়ে কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না। পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও শূন্য হাতে বিদায় নিলেন। কেপ ভার্দের অপরিচিত গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসে ‘হিরো’ হয়ে গেছেন। নিজেই বলেছেন, ‘আমি রাস্তায় রান্না করতাম আর আমার দরজার বাইরে বসে খেতাম। আর এখন আমি যখন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাই মানুষ পাগল হয়ে যায়।’ এটিই বিশ্বকাপের জাদু।
১৯৯৮ সালের পর এবার বিশ্বকাপে খেলেছে নরওয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর্লিং হালান্ড বলেছেন, ‘পৃথিবীর মানচিত্রে নরওয়েকে যেভাবে আমরা চেনাতে পেরেছি, সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যাচ্ছে।’
জয় হোক বিশ্বকাপের আবেদনের। জিতুক ফুটবল।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া



স্বচ্ছ সোলার গ্লাসের কার্যপদ্ধতি প্রচলিত সৌর প্যানেলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হলেও মূলনীতি একই। সাধারণ সোলার প্যানেলে দৃশ্যমান সূর্যালোক সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু ট্রান্সপারেন্ট সোলার উইন্ডোতে এমন বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান আলোর বেশির ভাগ অংশ কাচের মধ্য দিয়ে যেতে দেয় এবং একই সঙ্গে অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জানালার চারপাশে স্থাপিত সূক্ষ্ম পরিবাহী স্তরের মাধ্যমে ভবনের বিদ্যুত্ব্যবস্থায় যুক্ত হয়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা বা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডেও সরবরাহ করা সম্ভব। ভবনের বাইরের দেয়াল বা কাচের সম্মুখভাগ যদি পুরোপুরি এই প্রযুক্তিতে তৈরি হয়, তাহলে একটি বহুতল ভবন প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একই সঙ্গে এই কাচ সূর্যের অতিরিক্ত তাপ প্রবেশ কমিয়ে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। ফলে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। বর্তমানে গবেষকরা এই প্রযুক্তির দক্ষতা বা রূপান্তর হার আরো বাড়ানোর জন্য নতুন উপাদান, বিশেষ করে পেরোভস্কাইট এবং উন্নত স্বচ্ছ ফটোভোল্টাইক উপকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, অর্থনৈতিক এবং ব্যবহারবান্ধব। প্রচলিত সোলার প্যানেল বসানোর জন্য আলাদা ছাদ বা খোলা জায়গা দরকার হয়, কিন্তু স্বচ্ছ সোলার গ্লাসে সেই সমস্যা নেই। উপরন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধোঁয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শব্দদূষণ সৃষ্টি হয় না। ফলে পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো বন্যার হুমকি এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন অনেক এলাকায় আউশ ধানে শীষ বের হওয়া, ফুল আসা বা দানা ভরার পর্যায়ে রয়েছে। এসব পর্যায়ে ধানগাছ কয়েক দিন পানির নিচে থাকলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, পরাগায়ণ ও দানা গঠন কমে যায় এবং গাছ হেলে পড়তে পারে। প্রবল স্রোত থাকলে ধানগাছ উপড়ে যাওয়া বা কাদা-পলির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কাও থাকে। পানি দ্রুত নেমে গেলেও অপুষ্ট দানা, চিটা বৃদ্ধি এবং ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। যেসব জমির আউশ ধান প্রায় পরিপক্ব, সেখানে সুযোগ থাকলে দ্রুত কাটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে অপরিপক্ব ধান তাড়াহুড়া করে কাটলে ফলন ও চালের গুণমান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জমির অবস্থা, ধানের পরিপক্বতা এবং সম্ভাব্য প্লাবনের সময় বিবেচনা করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।