বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাহাড়ধস এখন আর শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত ও মানবসৃষ্ট প্রাণঘাতী ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে বনায়ন ধ্বংসের ফলে পাহাড়গুলোর মাটির অভ্যন্তরীণ বাঁধন সম্পূর্ণ আলগা হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা এলেই অপরিকল্পিত বসতি আর কম ভাড়ার মারণফাঁদে থাকা শত শত দরিদ্র মানুষের ওপর আছড়ে পড়ছে পাহাড়ি ধস, কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মিছিল থামাতে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন করতে স্থির ও পুরনো ডেটাভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বাস্তব সময়ভিত্তিক গতিশীল ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পুনর্বাসনে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ও কারিগরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়গুলোর গঠনশৈলী সমতলের চেয়ে একদম আলাদা। এই পাহাড়ের মাটি মূলত অসংলগ্ন বেলেপাথর, পলি ও দো-আঁশ মাটির মিশ্রণে গঠিত, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত ভঙ্গুর। শুষ্ক মৌসুমে এই মাটিতে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয় এবং বর্ষা মৌসুমে যখন দীর্ঘস্থায়ী অতিভারি বর্ষণ ঘটে, তখন ওই ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে মাটি অতিরিক্ত ভারী হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটির ভেতরের সংহতি শক্তি বা বাঁধন সম্পূর্ণ আলগা হয়ে আস্ত পাহাড়ের ঢাল নিচে ধসে পড়ে। এই প্রাকৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে গত কয়েক দশকে যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, নির্বিচারে বনায়ন ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে সংঘটিত ভূমিধসের ঘটনাগুলোর প্রায় ৮৩ শতাংশই ঘটে থাকে বর্ষাকালীন মৌসুমে জুন থেকে আগস্ট মাসের অতিবৃষ্টির সময়। গত এক দশকের বিভিন্ন প্রকাশনার তথ্যানুযায়ী, বছরভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। যেমন—২০১৫ সালের জুন-জুলাইয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধস ও ঢলের কারণে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারায়। ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের মতিঝর্ণা এবং নাজির পাহাড় এলাকায় পাহাড় ও সীমানাপ্রাচীর ধসে ছয়জন নিহত হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর মোট ২৩টি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৩৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়।
এরপর ২০১৭ সালের ১৩ জুন বাংলাদেশ ইতিহাসের ভয়াবহতম ভূমিধস বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, যখন রাঙামাটিতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে একযোগে পাঁচটি জেলার ১৪৫টি স্থানে ভূমিধস ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় পাঁচজন সেনা সদস্যসহ মোট ১৬০ জন নিহত এবং ১৮৭ জন আহত হয়, যার ফলে প্রায় ছয় হাজার বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় এবং ৮০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরের ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে কক্সবাজার অঞ্চলে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান ও চট্টগ্রামে নিয়মিত বিরতিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের ১১-১২ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে ১১ জন, ৩ জুলাই বান্দরবানের লামায় চারজন এবং ২৫ জুলাই কক্সবাজারের রামুতে পাঁচজনসহ মোট ২৫ জন মারা যায়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ১৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতে ২৬টি ধসের ঘটনা ঘটে, আর পুরো বর্ষা মৌসুমে মোট ১৭ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়।
২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের মধ্যে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধস ঘটলে রোহিঙ্গা শিবিরে ১৪ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়। ২০২১ সালের জুলাই ও আগস্টের শেষ ভাগে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে ২৬ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়। ২০২২ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় চারজন, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে চারজন নারী শ্রমিক এবং কক্সবাজারের রামুতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ১৩ জন প্রাণ হারায়।
২০২৩ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে টানা বর্ষণে পার্বত্য বান্দরবানের ৯০ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় এবং উখিয়া, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে মোট ১৩ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়। ২০২৪ সালের ১৮-১৯ জুন সিলেট অঞ্চলে ২৪২ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, আর দেশব্যাপী ভূমিধসে মোট ২১ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়; যার মধ্যে উখিয়া ক্যাম্পে ছোট-বড় অনেক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে সিলেটের গোলাপগঞ্জে টিলাধসে একই পরিবারের চারজন ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যায়, আর পুরো বছরে মোট সাতজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়।
চলতি মৌসুমে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে (৫ থেকে ৯ জুলাই) অতিবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে এবং পাহাড়ধস ও বন্যায় মোট ৩০ জন মারা যায় এবং ৪০ জন আহত হয়। জেলাভিত্তিক হিসাবে এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মারা যায় কক্সবাজারে, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাঁচজন করে এবং রাঙামাটিতে একজন মারা যায়। তবে খাগড়াছড়িতে কোনো প্রাণহানি না হলেও সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভূমিধসে নিহতদের সামাজিক পরিচয় বিশ্লেষণ করলে একটি নির্মম সামাজিক সত্য বেরিয়ে আসে। নিহতদের প্রায় শতভাগই দেশের দরিদ্রতম শ্রেণি এবং জলবায়ু শরণার্থী। নদীভাঙন বা সমতলে কাজ হারিয়ে যেসব মানুষ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো বাণিজ্যিক শহরগুলোতে আসে, তারা নিরাপদ আবাসন মেলাতে পারে না। শহরের নিরাপদ আবাসন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্বল্প ভাড়ার ঘরে সপরিবারে থাকতে শুরু করে। কম ভাড়ায় বাসস্থান পাওয়ার এই অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতাটিই মূলত তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ১২৭ জনের প্রাণহানির পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশের বেশির ভাগই গত দেড় দশকে আলোর মুখ দেখেনি। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানগুলো মূলত বর্ষা মৌসুমের শুরুতে লোক-দেখানো মাইকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং শুকনা মৌসুম আসামাত্রই পুনরায় পাহাড় কাটার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। বাংলাদেশে ভূমিধস ঝুঁকি নিয়ে গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গবেষণা হয়েছে এবং দেশের বহু বিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগসহ দেশি-বিদেশি গবেষকরা পার্বত্য চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, টেকনাফ ও কক্সবাজার অঞ্চলের ভূমিধস ঝুঁকি, ঐতিহাসিক ভূমিধস ইনভেন্টরি এবং বিভিন্ন ভূপৃষ্ঠীয় ও স্থানিক নিয়ামকগুলোর পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক নিয়ে একাধিক উচ্চমানের গবেষণা ও ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি করেছেন। একইভাবে বৃষ্টিপাত, ভূতত্ত্ব, ঢালের প্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত কাজ হয়েছে।
তবু কেন প্রতিবছর ভূমিধসে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে? কেন এখনো আমরা এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি, যা কার্যকরভাবে প্রাণহানি কমাতে সক্ষম? এর প্রধান কারণ হলো, ভূমিধসের ঝুঁকি কোনো স্থির বিষয় নয়, এটি অত্যন্ত গতিশীল। আমাদের বেশির ভাগ মডেল বা ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপন, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং ভূমি ব্যবহারের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির ধরন ও মাত্রা প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে। আজ যে এলাকাটিকে মডেলে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ দেখানো হচ্ছে, ছয় মাস পর সেখানে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে তা ‘তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ’ হয়ে উঠছে। ফলে পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা স্থির মডেলগুলো পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
ভবিষ্যতের ভূমিধস ব্যবস্থাপনায় আমাদের শুধু গবেষণাপত্র বা স্থির ঝুঁকি মানচিত্রের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না, বরং স্থির মানচিত্রের পরিবর্তে আমাদের প্রয়োজন বাস্তব সময়ভিত্তিক অথবা নিয়মিত হালনাগাদকৃত গতিশীল তথ্যভাণ্ডার। ভূমিধস পূর্বাভাস ও ঝুঁকি মূল্যায়ন মডেলগুলোকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তত প্রতিবছর নতুন স্যাটেলাইট ডেটা ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ ও হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের থ্রেশহোল্ড (বৃষ্টির পরিমাণ ও সময়কাল) এবং মাটির আর্দ্রতা রিয়াল টাইম মনিটরিং করার আধুনিক ওয়েব-জিআইএস ভিত্তিক সতর্কবার্তা সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে ভূমিধস ঘটার অন্তত আট থেকে ১২ ঘণ্টা আগে অতিঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশের মানুষকে সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে এ ধরনের প্রযুক্তিগত মডেল তখনই পরিপূর্ণতা পাবে, যখন এতে সরকারের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও এবং উপজাতীয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সব খাতের বা সেক্টরের অংশীজনদের সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব ও সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সার্বিক ও সমন্বিত এই উদ্যোগই শুধু পারে পাহাড়ের কান্না থামিয়ে মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে।
পাহাড়ি অঞ্চলের সুরক্ষায় স্থায়ী ও কঠোর টেকসই সমাধানেই এখন নজর দিতে হবে। এর জন্য পাহাড়ি জেলাগুলোর ভূ-প্রকৃতি বিবেচনা করে একটি বিশেষায়িত এবং কঠোর কারিগরি ও প্রকৌশল নির্দেশিকা প্রস্তুত করতে হবে, যেখানে কৃত্রিম দেয়ালের চেয়ে প্রকৃতির ওপর জোর দিয়ে পাহাড়ের ঢাল ধরে রাখতে বিন্না ঘাস এবং গভীর শিকড়যুক্ত স্থানীয় গাছ রোপণ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টকারী এবং অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত ভূমিগ্রাসী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের এমন সমন্বিত বাস্তবায়নই শুধু পারে আমাদের পাহাড়গুলোকে রক্ষা করতে এবং বর্ষার চিরচেনা মারণফাঁদ থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে।
লেখক : অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর মতো দেশের অনেকেই বিদ্যমান শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকেন। বিএ, এমএ পাস করেও নাকি অনেকে পিয়নের একটি চাকরি খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হয়ে পড়ছেন। যে স্বপ্ন দেখে গরিব মা-বাবা সর্বস্ব দিয়ে সন্তানকে বিএ পাস করালেন, সেই সন্তানের এহেন অবস্থা দেখে মা-বাবার দুচোখে দারিদ্র্যের অন্ধকার আরো ঘনীভূত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হবে—এই প্রত্যাশা আমাদের সবার। তাই শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন হয় একজন মানুষকে কর্মের উপযোগী করে তৈরি করা। দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম এমন জনশক্তি তৈরি করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। 
ঢাকা নগরীর পাশেই একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ক্যাম্পাসে প্রতিদিন রাতে ও ভোরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী খুব মজা করে খেলা দেখে। ওরা অবশ্যই বিভিন্ন দলের সমর্থক। এর পরও খেলা দেখছে একসঙ্গে। ফুটবল পেরেছে সব মতকে একসঙ্গে খেলাতে। অসাধারণ বিষয়। যে আটটি দেশ কোয়ার্টার ফাইনালের ভিসা নিশ্চিত করেছে, তাদের মধ্যে একটি দেশেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এভাবে এত হাজার হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিশাল বড় পর্দায় খেলা দেখে