অন্যান্য চ্যানেল
ক্রিকেট
ইংল্যান্ড-ভারত
পঞ্চম টি-টোয়েন্টি, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস ৫

অন্যান্য চ্যানেল
ক্রিকেট
ইংল্যান্ড-ভারত
পঞ্চম টি-টোয়েন্টি, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস ৫

ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল
নরওয়ে-ইংল্যান্ড
সরাসরি, রাত ৩টা
স্পেন-বেলজিয়াম
পুনঃপ্রচার, ধারণকৃত, রাত ১টা
ক্রিকেট
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
তৃতীয় ওয়ানডে, সরাসরি
দুপুর ১-৩০ মিনিট

বিশ্বকাপের স্বপ্ন আবারও থামিয়ে দিল ফ্রান্স। তবে হার মানতে রাজি নয় মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের হতাশা নিয়েও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন দলটির কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। তাঁর বিশ্বাস, এই তরুণ দলই আগামী দিনে মরক্কোকে আরো উঁচুতে নিয়ে যাবে। আর সেই পথচলার বড় লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ। সেই আসরে অন্যতম আয়োজকও মরক্কো।
গত পরশু বোস্টন স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে আটলাস লায়ন্সদের। দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে জয় নিশ্চিত করে ফরাসিরা। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর এবারও নক আউট পর্বে ফ্রান্সের কাছে থামতে হলো মরক্কোকে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার প্রশংসা করে ওয়াহবি বলেছেন, ‘ফ্রান্স দারুণ একটি দল। তারা টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে, আর বর্তমান দলটি প্রতিভায় ভরপুর। আমরা জানি, তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। এখন আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যাতে পরেরবার আরো ভালো করা যায়।’
এই ম্যাচের আগেই ওয়াহবি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাকে তিনি সাফল্য মনে করেন না। বিদায়ের পরও সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু শেষ আটে ওঠা নয়, আরো সামনে যাওয়া, একদিন বিশ্বকাপ জেতা। তাই এই হার অবশ্যই হতাশার। কিন্তু এটাকে মেনে নিয়েই সামনে এগোতে হবে।’ বিশ্বকাপের আগে গত মার্চে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের স্থলাভিষিক্ত হন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া ওয়াহবি। তাঁর অধীনে নতুন করে নিজেদের গড়ে তুলছে মরক্কো। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আগামী বছরের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)। ওয়াহবি তাই আপাতত সব মনোযোগ রাখছেন সেই টুর্নামেন্টেই, ‘প্রথমে আফ্রিকা কাপে ভালো করতে হবে। বাছাইপর্ব উতরে শিরোপার জন্য লড়াই করতে হবে। আমাদের হাতে অসংখ্য প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, শক্তিশালী ফুটবল ফেডারেশনও আছে। উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আমাদের রয়েছে।’ রয়টার্স

পেনাল্টি মিস করে নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। স্পট কিক থেকে গোল করায় তাঁর চেয়ে নির্ভরযোগ্য কম খেলোয়াড়ই যে আছেন! ফ্রান্সের জার্সিতে এর আগে ১৫ পেনাল্টির ১৪টিই জালে পাঠানো অন্তত সেটিরই সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু
মরক্কোর বিপক্ষে এরই ধারাবাহিকতায় শতভাগ সাফল্য বজায় রাখতে পারননি এমবাপ্পে। পরে জানিয়েছেন, শট নেওয়ার আগে দীর্ঘ অপেক্ষায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই বলে ভেঙেও পড়েননি। ডেডলক ভেঙে পরে তাঁর গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। একটি গোল করান উসমান দেম্বেলেকে দিয়েও। চিতাবাঘের ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষের উঠানে ঝড় তোলার অপেক্ষায় থাকা এমবাপ্পেকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা যায়। কিন্তু তাঁর মানসিক দৃঢ়তাকে আটকে রাখার উপায় কী?
হার না মানা মানসিকতার মতো ক্লিশে হয়ে ওঠা কোনো কথার কথা নয়। এই এমবাপ্পে সত্যিকার অর্থেই যোদ্ধা। ম্যাচের মধ্যেই সমর্থকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে বসে পড়ে। পরক্ষণে মাঠও ছেড়ে যান। সামনে সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচ। সমর্থকদের কপালে স্বাভাবিকভাবে চিন্তার ভাঁজ। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে তাদের আশ্বস্ত করলেন এভাবে, ‘আমি একদম ঠিক আছি।’ গোলের ঘোড়া ছোটানো এমবাপ্পেকে নিয়ে নতুন করে কী-ই বা বলার আছে? তবে এবার তাঁর কথার দৃঢ়তাও নজর কাড়ার মতো। এই এমবাপ্পেকে কি একটু নতুন করে চিনছেন? এখন তিনি অনেক বেশি পরিণত। অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ। এই এমবাপ্পেকে আরেকটু ভালো করে চিনিয়ে দেওয়া যাক। বেশি পেছনে ফিরে যেতে হবে না। শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ‘ফ্ল্যাশব্যাকের’ পরতে পরতে লেখা লক্ষ্যে অটল চরিত্রের এই এমবাপ্পে।
স্বাভাবিকভাবে সেদিন অতিরক্ষণাত্মক খেলাই বেছে নিয়েছিল প্যারাগুয়ে। এমবাপ্পের জন্যও ছিল লাতিন আমেরিকার দলটির বিশেষ পরিকল্পনা। ম্যাচজুড়ে খুব একটা খেলার জায়গা দেওয়া হয়নি তাঁকে। কঠিন ট্যাকলের শিকার হয়েছেন। ক্রমাগত উসকানিও ছিল। তবু থামানো যায়নি এমবাপ্পেকে। পেনাল্টি থেকে তাঁর একমাত্র গোলেই ফ্রান্স জায়গা করে নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের কথাগুলো শুনলেই বোঝা যাবে, তাঁর মানসিকতায় শুধু গোল করাই এখন শেষ কথা নয়, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কেমন হতে চলেছে। যদি কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, আমরা তা করতে পারি। আমরা কুিসত ফুটবলও খেলতে পারি। ওরা ভেবেছিল আমরা কেতাদুরস্ত হয়ে মাঠে নামব। কিন্তু আমরাও আমাদের করণীয় জানতাম। এমনকি ওই ধরনের (কুিসত) ফুটবলেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’ এই মানসিকতাই তাঁকে সমসাময়িকদের চেয়ে কয়েক সিঁড়ি এগিয়ে রেখেছে। সেটার প্রমাণ এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দিয়েছেন এমবাপ্পে।
মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে গেছেন, যেখানে একই চেয়ারে তাঁর সঙ্গী লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুজনের গোল আটটি করে। আট গোলের সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্টে এমবাপ্পের সরাসরি গোলে অবদান দশ ছাড়িয়েছে। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাফল্যের এই ঘোড়া ছুটিয়েছিলেন এমবাপ্পে। আট গোলের সঙ্গে ছিল দুটি অ্যাসিস্ট। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের দুটি আসরে ১০টি বা এর চেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড নেই আর কারো। আর দুটি গোলে সরাসরি অবদান রাখতে পারলে এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলবেন জার্ড মুলারকেও। ১৯৭০ বিশ্বকাপে এই জার্মান কিংবদন্তি এক টুর্নামেন্টেই সর্বোচ্চ ১৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন।
এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়েও মেসিকে প্রতিনিয়ত তাড়া করছেন এমবাপ্পে। মেসির চেয়ে একটি কম ২০ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্স তারকা। তবে এই মুহূর্তে তাঁর ভাবনাজুড়ে শুধু বিশ্বকাপের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, ‘আমাদের এখনো অনেক পথ বাকি। সামনে যা আসছে, তা আরো কঠিন হবে। তবে আমরা যেকোনো কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’ এমবাপ্পের প্রতিটি কথায় যেন অবিচলতা।